

ইরানের হুমকি ও যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমাগত কূটনৈতিক চাপের মুখে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গে নতুন করে যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে ইসরায়েল। স্থানীয় সময় শুক্রবার বিকেল ৪টা থেকে লেবাননে এ যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে সিএনএন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এ সমঝোতা প্রতিষ্ঠায় যুক্তরাষ্ট্র ও কাতার মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করেছে। তবে আরেকটি কূটনৈতিক সূত্রের দাবি, কাতার, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যৌথভাবে এ চুক্তির মধ্যস্থতা করেছে।
সাম্প্রতিক সংঘর্ষে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ার পর যুদ্ধবিরতি পুনর্বহালের এ উদ্যোগকে অঞ্চলটির স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নতুন এই যুদ্ধবিরতি এমন এক সময়ে এসেছে যখন ইসরায়েল জোর দিয়ে বলেছে যে, তারা ট্রাম্প প্রশাসন এবং ইসলামী প্রজাতন্ত্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক দ্বারা আবদ্ধ নয়। এই স্মারকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শত্রুতা বন্ধ করার পাশাপাশি লেবাননেও যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়েছে।
তবে শুক্রবার বিকেলে এক ব্রিফিংয়ে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) একজন মুখপাত্র যুদ্ধবিরতির বিষয়টি সরাসরি স্বীকার করতে অস্বীকৃতি জানান।
আইডিএফ মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফি ডেফ্রিন দাবি করেছেন, হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মধ্যে দক্ষিণ লেবাননে যেকোনো হুমকির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ইসরায়েলি সেনাদের “পূর্ণ স্বাধীনতা” রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা বিদ্যমান রাজনৈতিক নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। সেই নির্দেশনায় পরিবর্তন না আসা পর্যন্ত আমাদের কার্যক্রমও একইভাবে চলবে।’
যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে কি না এবং এর শর্তাবলি কী হবে, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত ঘোষণা দেওয়া হয়নি। তবে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, সংঘাত প্রশমনে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কূটনীতিক এএফপিকে বলেছেন, ‘কাতার, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যস্থতায় একটি চুক্তির মাধ্যমে হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েল সংঘাত বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে।’
একজন ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তা টাইমস অব ইসরায়েলকে জানিয়েছেন, যথাক্রমে ইসরায়েল ও ইরানের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও কাতার এই চুক্তিটি সম্পন্ন করেছে, যা লেবাননের ঘটনাবলি প্রভাবিত করার ক্ষেত্রে তেহরানের সক্ষমতাকে আরও স্পষ্ট করে তোলে।
বৃহস্পতিবার দিনগত রাতে লেবাননে ব্যাপক হামলা চালায় ইসরায়েল, যাতে ১৬ জন প্রাণ হারান। এরপরই আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তার ওপর এর পরিণতির বিষয়ে সতর্ক করে তেহরান। দেশটির ভাষ্যমতে, এই পরিস্থিতির জন্য যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি দায়ী। এরপরই ইসরায়েলকে যুদ্ধবিরতি মানতে ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করে যুক্তরাষ্ট্র। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সসহ মার্কিন কর্মকর্তাদের ক্রমাগত বক্তব্যে বিষয়টি স্পষ্ট হয়।
সম্প্রতি জি-সেভেন বৈঠকে অংশগ্রহণ করে ডোনাল্ড ট্রাম্পও লেবাননে ইসরায়েলের ব্যাপক হামলার নিন্দা জানান। ‘একজন যোদ্ধার জন্য ইসরায়েল একটি অ্যাপার্টমেন্ট ধ্বংস করতে পারে না’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।