শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৪২ এএম
আপডেট : ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০২:০৩ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
সিএনএনের বিশ্লেষণ

শান্তি চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উভয়েই জয়ী হতে চায়

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পতাকা। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পতাকা। ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সামনে এখন কার্যত একটাই পথ খোলা রয়েছে। আর সেটি হলো একটি সমঝোতায় পৌঁছানো। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যে অঘোষিত বাস্তবতা ছিল, যুদ্ধবিরতির শেষ কয়েক দিনে তা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

ইসলামাবাদে প্রথম দফার দীর্ঘ আলোচনাকে অনেকেই কৌশলগত প্রদর্শন হিসেবে দেখছেন। এর লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বাড়ানো। আলোচনার পরপরই ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ আরোপ করা হয়েছিল। যা থেকে বোঝা যায় এই চাপ সৃষ্টির পরিকল্পনা আগেই ছিল। এই অবরোধ পুরোপুরি কার্যকর হতে সময় লাগলেও আংশিক সফলতাও ইরানের অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দিতে পারে, বিশেষ করে তাদের তেলের ওপর নির্ভরশীল দেশগুলোর ওপরও প্রভাব পড়বে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও প্রকাশ্যে একটি চুক্তির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তার এই আগ্রহের পেছনে রয়েছে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ। যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি, জ্বালানি দামের ঊর্ধ্বগতি এবং তার নিজস্ব সমর্থকগোষ্ঠীর অসন্তোষ— সব মিলিয়ে তার জন্য দ্রুত একটি সফল কূটনৈতিক ফলাফল জরুরি হয়ে পড়েছে।

ট্রাম্পের আলোচনার ধরন অনেক সময় অনির্দেশ্য বলে মনে হয়। কখনো কঠোর অবস্থান, কখনো নরম সুরের এই পরিবর্তনশীল কৌশল প্রতিপক্ষকে বিভ্রান্ত করতে পারে। তবে এর সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, এই কৌশল কখনো কখনো দুর্বলতা বা অস্থিরতার ইঙ্গিতও দিতে পারে, যা আলোচনায় চাপ সৃষ্টি করলেও দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকিপূর্ণ।

অন্যদিকে, ইরান বাহ্যিকভাবে শক্ত অবস্থান প্রদর্শন করলেও বাস্তবে দেশটি কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে। টানা ৩৯ দিনের বোমাবর্ষণে তাদের সামরিক অবকাঠামো, প্রশাসনিক কাঠামো এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির নেতৃত্বাধীন শাসনব্যবস্থা এখন পুনর্গঠনের চ্যালেঞ্জে পড়েছে। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) নেতৃত্বেও একাধিক পরিবর্তন ঘটেছে, যা তাদের সামরিক সক্ষমতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব ফেলতে পারে।

যদিও ইরান টিকে থাকার মাধ্যমে এক ধরনের প্রতিরোধের বার্তা দিতে সক্ষম হয়েছে। তবে এই শক্তি মূলত ‘সহ্য করার ক্ষমতা’ থেকে এসেছে, সরাসরি সামরিক বিজয় থেকে নয়। আঞ্চলিকভাবে তারা এখন দুর্বল অবস্থানে রয়েছে এবং প্রতিবেশী অনেক দেশের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে।

ইরান ইতোমধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলের বেশ কয়েকটি দেশের সঙ্গে সামরিক উত্তেজনায় জড়িয়েছে। ইরাক আংশিকভাবে নিরপেক্ষ থাকলেও বিভক্ত অবস্থানে রয়েছে। পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করলেও তাদের সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি ভবিষ্যৎ অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ইরানের জন্য আঞ্চলিকভাবে একঘরে হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেড়েছে। ফলে একটি সমঝোতা তাদের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

তবে আলোচনায় কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অগ্রগতি লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত রাখার বিষয়ে উভয় পক্ষই একমত হয়েছে। এটি আন্তর্জাতিক বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে সহায়ক হবে।

পারমাণবিক ইস্যুতেও সমঝোতার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ইরান পাঁচ বছরের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত রাখতে আগ্রহী, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ২০ বছরের প্রস্তাব দিয়েছে। এই পার্থক্য আলোচনার মাধ্যমে মাঝামাঝি কোনো সময়সীমায় নির্ধারিত হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

ইরানের কাছে থাকা ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তা দ্রুত অস্ত্রে রূপান্তর করা সম্ভব নয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই ইস্যুতে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সংস্থা আন্তর্জাতিক আনবিক শক্তি সংস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তারা মজুত স্থানান্তর, নিম্নমাত্রায় রূপান্তর বা সরাসরি পর্যবেক্ষণে ভূমিকা রাখতে পারে।

এই পুরো সমীকরণে সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা হিসেবে রয়ে গেছে ইসরায়েল। ইরান চায় তাদের আঞ্চলিক মিত্র বিশেষত হিজবুল্লাহর ওপর হামলা বন্ধ হোক। তবে ইসরায়েল নিজেদের নিরাপত্তার প্রশ্নে আপসহীন অবস্থানে রয়েছে। লেবাননে সাম্প্রতিক সংঘর্ষ এবং বৈরুতে হামলা এই উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। যদিও লেবানন সরকার ইসরায়েলের সঙ্গে আলোচনায় বসেছে, তবুও তারা এখনো হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করতে পারেনি।

সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো উভয় পক্ষই এমন একটি চুক্তি চায়, যা নিজেদের জনগণের কাছে ‘জয়’ হিসেবে উপস্থাপন করা যায়। যুক্তরাষ্ট্র চাইবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে দীর্ঘমেয়াদে সীমিত করতে এবং এটি ২০১৫ সালে বারাক ওবামার সময় হওয়া চুক্তির চেয়েও শক্তিশালী প্রমাণ করতে। অন্যদিকে, ইরান তাদের সার্বভৌমত্ব ও প্রতিরোধ ক্ষমতা অক্ষুণ্ণ রয়েছে বলে বার্তা দিতে চায়।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ঘটনাপ্রবাহ: ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলা
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

‘জামায়াত, এনসিপি ও রুমিন আপার বক্তব্যে বেশ মিল’

রাজধানীতে দুর্বৃত্তের গুলিতে সিটি করপোরেশন কর্মচারী আহত

কেন হাদি হত্যার বিচার চান, ব্যাখ্যা দিলেন ডাকসু নেত্রী জুমা

চোরের মাথা ন্যাড়া করে আঁকা হলো আর্জেন্টিনার পতাকা

হানিফ সংকেতের ‘চৈতন্যে’ জুলাই নাই: সারোয়ার তুষার

ইউরোপ জয়ের অনন্য নজির বাংলাদেশের

তপুর জোড়া গোলে সান মারিনোকে হারাল বাংলাদেশ

মারধরের প্রতিবাদ করায় বন্ধুকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ

সাতক্ষীরায় সীমানা পিলারসহ আটক ৪

শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো কমপ্লেক্সে ফের আগুন

১০

উপজেলা স্বাস্থ্যব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের পথে সরকার

১১

বিএনপি আবারও আওয়ামী লীগের ফাঁদে পড়েছে : নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী

১২

পুলিশের উপস্থিতিতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ-যুবলীগের মিছিল

১৩

রাত ১টার মধ্যে ঝড় হতে পারে যেসব অঞ্চলে

১৪

আল্লাহর রহমতে বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছি: নৌ প্রতিমন্ত্রী

১৫

কৌশলগত অংশীদারত্ব-বাণিজ্য সম্প্রসারণে সম্মত বাংলাদেশ-তুরস্ক

১৬

দুধে মজাদার স্বাদ: ঘরোয়া ও ঐতিহ্যবাহী কিছু জনপ্রিয় খাবার

১৭

বিশ্বকাপের আগে বর্ষসেরার পুরস্কার জিতলেন ইয়ামাল

১৮

নির্বাচনের পরও ভারত দ্বিচারী ভূমিকা অব্যাহত রেখেছে: সাইফুল হক

১৯

জেলেনস্কির বৈঠকের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন পুতিন

২০
X