

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে সমঝোতা হওয়ায় বিশ্বজুড়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন দেশের নেতা ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো চুক্তিটিকে মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন। খবর রয়টার্সের।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের কার্যালয় জানিয়েছে, তিনি এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন। জাতিসংঘের মতে, সমঝোতাটি তাৎক্ষণিক ও স্থায়ী যুদ্ধবিরতির পথ তৈরি করবে, হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল পুনরায় চালু করবে এবং ভবিষ্যৎ আলোচনার ভিত্তি গড়ে দেবে।
ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি ও ইতালির নেতারা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া যাবে না। একই সঙ্গে তারা যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-এর সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেন, ইরান যেন পারমাণবিক অস্ত্র না পায় তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে বাধাহীন ও টোলমুক্ত নৌ চলাচল দ্রুত পুনরুদ্ধারের আহ্বান জানান তিনি।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁ এই চুক্তিকে কূটনীতির বিজয় বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশের যৌথ প্রচেষ্টার ফলেই এই সমঝোতা সম্ভব হয়েছে। চুক্তির দ্রুত বাস্তবায়ন এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করতে হবে।
জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মেয়ার্ৎস চুক্তিটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, এই সমঝোতা বিশ্ব অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে এবং মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা জোরদার করতে সহায়ক হতে পারে।
এদিকে জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের নেতারাও চুক্তিটিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা শান্তি প্রক্রিয়ার পূর্ণ বাস্তবায়ন এবং মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তির ফলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে আবার স্বাভাবিকভাবে তেল ও গ্যাস পরিবহন শুরু হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমতে পারে এবং সরবরাহ পরিস্থিতিও স্বাভাবিক হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।