

‘কালবেলা’ পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর অবশেষে খোয়া যাওয়া ৫ লাখ টাকা ফেরত পেলেন সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার এক ভুক্তভোগী ব্যাংক গ্রাহক।
সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির জগন্নাথপুর শাখার ব্যবস্থাপক (ম্যানেজার) আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রাহকের হাতে এ টাকা তুলে দেন।
রোববার (১৪ জুন) সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর ইসলামী ব্যাংকের জগন্নাথপুর শাখা থেকে এক প্রবাসীর পারিবারিক অ্যাকাউন্ট থেকে রহস্যজনকভাবে ৫ লাখ টাকা উধাও হওয়ার অভিযোগ ওঠে। ভুক্তভোগী গ্রাহক ছতর মিয়া ব্যাংকে এসে টাকার হিসাব না পেয়ে ব্যবস্থাপকের দ্বারস্থ হলেও শুরুতে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো সদুত্তর দেওয়া হয়নি। উল্টো বিষয়টি নিয়ে গড়িমসি করায় চরম বিপাকে পড়েন ওই গ্রাহক।
পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে কালবেলা পত্রিকায় ‘সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর ইসলামী ব্যাংক থেকে গ্রাহকের ৫ লাখ টাকা উধাও’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
কালবেলায় সংবাদ প্রকাশের পর টনক নড়ে ব্যাংক প্রশাসনের। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে জগন্নাথপুর শাখা ব্যবস্থাপক দ্রুত বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠন করেন। তদন্তে টেকনিক্যাল ত্রুটি ও ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ পোস্টিংয়ের একটি ভুলের কারণে গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে টাকাটি প্রদর্শিত হচ্ছিল না বলে ধরা পড়ে। টাকা হস্তান্তর ও ব্যাংক ম্যানেজারের বক্তব্য ভুল চিহ্নিত হওয়ার পর আজ ব্যাংক কার্যালয়ে ভুক্তভোগী গ্রাহককে ডেকে পাঠানো হয়। সংবাদকর্মী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে শাখার ব্যবস্থাপক গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে ৫ লাখ টাকা সমন্বয় করে তা বুঝিয়ে দেন।
জগন্নাথপুর শাখা ব্যবস্থাপক মো. জহির উদ্দিন বলেন, গ্রাহকের আমানত আমাদের কাছে পবিত্র। এটি একটি অনিচ্ছাকৃত কারিগরি ও পোস্টিং জটিলতা ছিল। ‘কালবেলা’ পত্রিকায় সংবাদটি আসার পরপরই আমরা বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সমাধান করেছি। অনিচ্ছাকৃত এই ভুলের জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত।
টাকা ফেরত পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী গ্রাহক ছতর মিয়া। তিনি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এবং বিশেষ করে সত্য ঘটনাটি সাহসিকতার সঙ্গে তুলে ধরার জন্য দৈনিক ‘কালবেলা’ পত্রিকার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।