

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের বিরুদ্ধে দুর্যোগ সংক্রান্ত তহবিল আটকে দেওয়ার অভিযোগে মামলা করেছে দেশটির ২৫টি অঙ্গরাজ্য ও ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া। নির্বাচনী ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার শর্তে ফেডারেল তহবিলের একটি অংশ আটকে রাখার সিদ্ধান্তকে অসাংবিধানিক ও বেআইনি দাবি করে বৃহস্পতিবার রোড আইল্যান্ডের একটি ফেডারেল আদালতে মামলাটি করা হয়।
আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী (মিডটার্ম) নির্বাচনের আগে নির্বাচন পরিচালনা নিয়ে এটি ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে নতুন আইনি লড়াই হিসেবে দেখা হচ্ছে। মামলায় নেতৃত্ব দিয়েছে রোড আইল্যান্ড, ক্যালিফোর্নিয়া, ইলিনয় ও নিউ জার্সি।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১০ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) ঘোষণা দেয়, সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলা ও অন্যান্য নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় ফেডারেল ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সির (ফেমা) অনুদানের ২০ শতাংশ আটকে রাখা হবে। এই অর্থ পেতে হলে অঙ্গরাজ্যগুলোকে এমন ভোটিং ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা জমা দিতে হবে, যেখানে বারকোড বা কিউআর কোডভিত্তিক ইলেকট্রনিক ভোটিংয়ের পরিবর্তে হাতে চিহ্ন দেওয়া কাগুজে ব্যালট ব্যবহার করা হবে।
এ ছাড়া প্রতিটি ফেডারেল নির্বাচনে প্রদত্ত ভোটের অন্তত ৫ শতাংশ হাতে নিরীক্ষা (ম্যানুয়াল অডিট), ভোটারের সংখ্যা ও প্রদত্ত ভোটের হিসাব মিলিয়ে দেখা এবং ভোটার তালিকা ডিএইচএসের ডেটাবেসের সঙ্গে যাচাই করে অ-মার্কিন নাগরিকদের নিবন্ধন ঠেকানোর শর্তও দেওয়া হয়েছে।
বিতর্কিত এই নীতির আওতায় এক বিলিয়ন ডলারের বেশি অনুদান রয়েছে। মামলাকারী অঙ্গরাজ্যগুলোর দাবি, ২০২৬ অর্থবছরে তাদের জন্য বরাদ্দ ৭৪০ মিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থের মধ্যে অন্তত ১৪৮ মিলিয়ন ডলার আটকে রাখা হবে।
মামলায় বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী ফেডারেল নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব অঙ্গরাজ্যগুলোর। কংগ্রেস কখনোই ডিএইচএস বা ফেমাকে অঙ্গরাজ্যগুলোর নির্বাচনী আইন পরিবর্তনের ক্ষমতা দেয়নি। তাই দুর্যোগ তহবিলের সঙ্গে নির্বাচনী শর্ত যুক্ত করা ফেডারেল সরকারের ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে।
তবে ফেমার এক মুখপাত্র বলেছেন, নতুন শর্তগুলোর উদ্দেশ্য নির্বাচনের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। তার দাবি, নির্বাচন সুরক্ষায় নেওয়া সাধারণ পদক্ষেপেরও বিরোধিতা করবে কিছু অঙ্গরাজ্য, এমনটি প্রশাসনের প্রত্যাশিত ছিল।
২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকেই ট্রাম্প ও তার মিত্ররা যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ব্যাপক ভোট জালিয়াতির অভিযোগ তুলে আসছেন। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত নির্ভরযোগ্য কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
ডেমোক্র্যাট ও ভোটাধিকারকর্মীদের অভিযোগ, ট্রাম্প প্রশাসন নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রতি জনআস্থা দুর্বল করতে এবং ভবিষ্যতে নির্বাচনের ফল চ্যালেঞ্জ করার ক্ষেত্র তৈরি করতেই এসব পদক্ষেপ নিচ্ছে।
অন্যদিকে, মঙ্গলবার নিউ জার্সির ডেমোক্র্যাট গভর্নর জানান, ভুলবশত ছয় হাজারের বেশি অ-মার্কিন নাগরিককে ভোটার হিসেবে নিবন্ধন করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে প্রায় ৪০০ জন ভোটও দিয়েছেন। এরপর এসব ভোটারের তথ্য চেয়ে অঙ্গরাজ্যটির কাছে অনুরোধ জানায় যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ।
যদিও স্বাধীন বিভিন্ন গবেষণা ও নিরীক্ষায় দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে ভোট জালিয়াতির ঘটনা অত্যন্ত বিরল। সম্প্রতি রয়টার্সের এক বিশ্লেষণেও বলা হয়েছে, অ-মার্কিন নাগরিকদের ভোট দেওয়ার অভিযোগে হওয়া অধিকাংশ ফৌজদারি মামলার পেছনে ছিল ভোটারদের বিভ্রান্তি, নির্বাচন কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি বা প্রশাসনিক ত্রুটি।
সূত্র: রয়টার্স