

যুক্তরাষ্ট্র সরকার আবারও শাটডাউনের দ্বারপ্রান্তে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের এটাই হতে পারে প্রথম বড় শাটডাউন। গত সোমবার হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং কংগ্রেসের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে ফেডারেল ব্যয় নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও তাতে কোনো অগ্রগতি হয়নি। বরং দুপক্ষই নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকায় অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। খবর বিবিসি ও সিএনএনের।
বৈঠকের পর ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স রিপাবলিকান নেতাদের পাশে নিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘মনে হয় আমরা শাটডাউনের দিকেই যাচ্ছি। কারণ, ডেমোক্র্যাটরা সঠিক কাজ করছেন না। আপনি আমেরিকানদের মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে বলতে পারেন না। যতক্ষণ না আপনি সিনেট এবং হাউস ডেমোক্র্যাটরা যা চান, ঠিক তা-ই করছেন, ততক্ষণ আমরা আপনার সরকার অচল করে দেব।’
অন্যদিকে সিনেট সংখ্যালঘু নেতা চাক শুমার জানান, ‘ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে হোয়াইট হাউসের এখনো অনেক বড় পার্থক্য রয়েছে।’ হাউস সংখ্যালঘু নেতা হাকিম জেফরিজও বলেন, ট্রাম্পের আগের ‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল’-এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবায় যে কাটছাঁট করা হয়েছিল, সেটি সংশোধন জরুরি। তার ভাষায়, ২০২৬ সালের মধ্যে বীমার প্রিমিয়াম বেড়ে যাওয়ার আগে পরিবর্তন আনতেই হবে।
স্থানীয় সময় বুধবার ভোর ১২টা ১ মিনিটের মধ্যে সমঝোতা না হলে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি দপ্তরগুলো বন্ধ হয়ে যাবে এবং বিপুলসংখ্যক ফেডারেল কর্মী সাময়িক ছুটিতে চলে যাবেন। রিপাবলিকানরা চাইছেন বর্তমান বাজেট বরাদ্দ আগামী ২১ নভেম্বর পর্যন্ত বহাল রাখা হোক, যাতে আলোচনার জন্য আরও সময় পাওয়া যায়। তবে ডেমোক্র্যাটরা চান নিম্ন আয়ের আমেরিকানদের জন্য স্বাস্থ্যসেবার ভর্তুকি নবায়ন ও মেডিকেল সহায়তা কর্মসূচিতে কাটছাঁট প্রত্যাহার করা হোক।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে ট্রাম্পের এক বিতর্কিত এআই ভিডিও পোস্টের পর। ভিডিওতে ডেমোক্র্যাট নেতা জেফরিজকে ‘সোমব্রেরো’ টুপি ও নকল গোঁফ পরা অবস্থায় দেখানো হয়, আর শুমারকে একটি কৃত্রিম কণ্ঠে অভিবাসীদের বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার পক্ষে বক্তব্য রাখতে শোনা যায়। এতে ডেমোক্র্যাটরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ভিডিওটিকে ‘ধর্মান্ধতা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, বাজেট লড়াই আসলে শুধু নীতির প্রশ্ন নয়, রাজনৈতিক অবস্থানও বড় ভূমিকা রাখছে। রিপাবলিকানরা বিশ্বাস করেন, শাটডাউন হলে দায় চাপবে ডেমোক্র্যাটদের ঘাড়েই, কারণ সরকার সচল রাখার বিনিময়ে দাবি তোলার পক্ষকে সাধারণত জনগণ দায়ী করে। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটরা মনে করেন, স্বাস্থ্যসেবা প্রশ্নে জনগণ তাদের সঙ্গেই আছেন। তাদের মতে, সাত সপ্তাহের অস্থায়ী বরাদ্দ কেবল ভর্তুকির শেষ সময়সীমাকে আরও কাছে নিয়ে আসবে, কিন্তু সমস্যার সমাধান করবে না।
হোয়াইট হাউসের বাজেটপ্রধান রাস ভাউট সম্প্রতি এক নথিতে লিখেছেন, সরকার বন্ধ থাকলে প্রশাসন নতুন ব্যয় কাটছাঁট ও কর্মী ছাঁটাই করবে। ‘অপ্রয়োজনীয়’ চিহ্নিত অনেক দপ্তর ও কর্মসূচি স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। ডেমোক্র্যাটরা এটিকে ভয় দেখানো ও চাপ প্রয়োগের কৌশল হিসেবে দেখছেন। শুমারের ভাষায়, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথম দিন থেকেই সরকারি কর্মী ছাঁটাই করছেন—শাসনের জন্য নয়, ভয় দেখানোর জন্য।’
উল্লেখ্য, ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে সর্বশেষ সরকার বন্ধ ছিল ৩৫ দিন, যা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে দীর্ঘতম শাটডাউন হিসেবে রেকর্ড গড়েছিল। সেই শাটডাউন শেষ হয়েছিল এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলাররা বেতন ছাড়া কাজে না এসে বিমান চলাচল ব্যাহত করার হুমকি দিলে।
এবার শাটডাউন কতদিন স্থায়ী হবে, বা আদৌ শেষ মুহূর্তে সমঝোতা হবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট, রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় পক্ষই এই লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত এবং কেউই সহজে পিছু হটার লক্ষণ দেখাচ্ছে না।