

রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ও নিরাপত্তা পরিষদের ডেপুটি চেয়ারম্যান দিমিত্রি মেদভেদেভ বলেছেন, বিশ্ব ক্রমশ খুবই বিপজ্জনক হয়ে উঠলেও রাশিয়া কোনো বৈশ্বিক সংঘাত চায় না।
২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ ও একে কেন্দ্র করে যা চলছে, তাকে স্নায়ু যুদ্ধের টানটান উত্তেজনা পরবর্তী সময়ে মস্কো ও পশ্চিমাদের মধ্যে সবচেয়ে বড় সংঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দূতরা এখন পারমাণবিক শক্তিধর রাশিয়া ও তার প্রতিবেশীর মধ্যে সংঘাত অবসানে জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
মেদভেদেভ এ জন্য ট্রাম্পের প্রশংসা করে বলেছেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে যে ফের যোগাযোগ স্থাপিত হয়েছে, তা অনুপ্রেরণাদায়ক। রাশিয়ার এ নিরাপত্তা পরিষদ অনেকটা আধুনিককালের পলিটব্যুরোর মতো যেখানে দেশটির সবচেয়ে প্রভাবশালী কর্মকর্তারা বসেন।
কিয়েভ ও বিভিন্ন পশ্চিমা শক্তির দিকে নিয়মিত আক্রমণাত্মক বক্তব্য ছোড়া, যুদ্ধের উত্তেজনা পারমাণবিক প্রলয়ের দিকে নিয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করা মেদভেদেভের অভিযোগ, পশ্চিমারা বারবারই রাশিয়ার স্বার্থকে উপেক্ষা করেছে। তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি খুবই বিপজ্জনক। সহ্য ক্ষমতা ক্রমশ কমছে বলেই মনে হচ্ছে। আমরা বৈশ্বিক সংঘাতে আগ্রহী নই। আমরা পাগল নই। কিন্তু বৈশ্বিক সংঘাত উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।’ মস্কোতে নিজের বাসভবনে বার্তা সংস্থা রয়টার্স, তাস ও রুশ ব্লগাল ওয়ারগনজোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমনটাই মেদভেদেভ বলেছেন।
রাশিয়ার নীতির ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনই সাধারণত শেষ কথা বলে থাকেন। এরপরও মেদভেদেভের কথা থেকে রুশ প্রভাবশালী অভিজাতদের মধ্যে কট্টরপন্থি অংশ কী ভাবছে তার আন্দাজ পাওয়া যায় বলে মত অনেক কূটনীতিকের।
মেদভেদেভ যেখানে সাক্ষাৎকারে দিয়েছেন, সেখানে ঝোলা এক কার্টুনে সাবেক এ রুশ প্রেসিডেন্টকে ইউরোপীয় নেতাদের দিকে সাবমেশিনগান ধরে থাকতে দেখা গেছে। কড়া কড়া কথা আর হুমকি দেওয়ার ক্ষেত্রে সুপরিচিত এ সাবেক আইনজীবী পুতিনের শহর সেন্ট পিটার্সবার্গেই বেড়ে উঠেছেন।
পুতিন ও ট্রাম্প বারবারই ইউক্রেন যুদ্ধ বিস্তৃত অঞ্চলজুড়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে এমন আশঙ্কার কথা বলেছেন। তবে ইউরোপীয় কূটনীতিকদের ধারণা, মস্কো খুবই দক্ষতার সঙ্গে এ ‘উত্তেজনা ছড়ানোর আশঙ্কার’ কার্ড খেলে ইউক্রেনের মিত্রদের যুদ্ধে খুব বেশি সক্রিয় হওয়া থেকে বিরত রেখেছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের দেখা সবচেয়ে প্রাণঘাতী এ যুদ্ধের জন্য ইউক্রেন ও তার ইউরোপীয় মিত্ররা মস্কোকেই দায়ী করছে। তাদের ভাষ্য, রাশিয়া সাম্রাজ্যবাদী কায়দায় ইউক্রেনের ভূখণ্ড দখলে মত্ত। আর যদি রাশিয়া ইউক্রেনে জয় পায়, তাহলে একদিন তারা ন্যাটোকেও আক্রমণ করে বসবে। মস্কো এসব অভিযোগকে ‘অযৌক্তিক’ আখ্যা দিয়ে উড়িয়ে দিয়েছে।
২০১৪ সালে ইউক্রেনে ময়দান বিপ্লবে রুশপন্থি এক প্রেসিডেন্ট ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে সংঘাতের সূচনা হয়। রাশিয়া ওই বছরই ক্রিমিয়া উপদ্বীপ দখল করে নেয়। এরপর ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে মস্কো সমর্থিত বিদ্রোহীদের সঙ্গে কিয়েভের সশস্ত্র বাহিনীর কয়েক বছরের লড়াই শুরু হয়। ২০২২ সালে রাশিয়া ওই বিদ্রোহীদের সমর্থন জানিয়ে ইউক্রেনে পূর্ণাঙ্গ সামরিক অভিযানে নামে।
সাক্ষাৎকারে মেদভেদেভকে জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলা, গ্রিনল্যান্ড ও বিশ্বের অন্যান্য জায়গায় যেসব উত্তেজনা হয়েছে, সেসব বিষয়ে বলতে বলা হলে তিনি বলেন, এগুলো ‘বাড়াবাড়ি’ হয়েছে।