

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের জবাবে ইরানের বন্ধ করে দেওয়া তেল-গ্যাস পরিবহনের অন্যতম বৈশ্বির জলপথ হরমুজ প্রণালি খুলতে মিত্রদেশগুলোর পাশাপাশি চীনের দ্বারস্থ হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওমান ও ইরানের মধ্যবর্তী ওই জলপথ বন্ধ হওয়ায় কার্যত বিপাকে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্ববাজারে হুহু করে বাড়ছে তেলের দাম। নিজ দেশে চাপে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এ পরিস্থিতিতে গত শনিবার তিনি এ নৌপথ সচল করতে মিত্রদের সহায়তা চেয়েছেন। তবে ইরানের হুমকির মুখে তারা এ বিষয়ে নীরবতা পালন করছেন। এর মধ্যে সামরিক জোট ন্যাটোকে সহায়তা চেয়ে হুমকিও দিয়েছেন তিনি। এরপর চীনের কাছে সাহায্য চেয়েছেন ট্রাম্প। তবে চীন অবশ্য মার্কিন প্রেসিডেন্টের আহ্বানের জবাবে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। বাগদাদে মার্কিন দূতাবাস এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি বড় জ্বালানিকেন্দ্রে ইরানের হামলা শিল্প খাতে নতুন করে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের গতি কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। ইরান গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া এবং উপসাগরীয় জ্বালানিকেন্দ্রগুলোয় হামলা চালানোর ফলে তেলের মূল্য ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মিত্রদেশগুলোকে সঙ্গে নিয়ে হরমুজ প্রণালি আবার উন্মুক্ত করতে একটি জোট গঠনের আহ্বান জানানোর পর গতকাল জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বলেছেন, সংবিধানের যুদ্ধবিরোধী বাধ্যবাধকতার কারণে মধ্যপ্রাচ্যে জাহাজ পাহারার জন্য যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর কোনো পরিকল্পনা জাপানের নেই।
ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের আরেক প্রধান মিত্র অস্ট্রেলিয়া জানিয়েছে, তাদের কাছে এ ধরনের কোনো অনুরোধ আসেনি। তারাও হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করতে কোনো যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে না।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজের মন্ত্রিসভার সদস্য ক্যাথরিন কিং এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমরা জানি, এটি (প্রণালি উন্মুক্ত করা) কতটা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু আমাদের কাছে এমন কোনো অনুরোধ করা হয়নি এবং আমরা এতে অংশ নিচ্ছি না।’
আর যুক্তরাজ্য বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সব দাবি পূরণ করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।
এর মধ্যে চীনের সহায়তা চেয়েছেন ট্রাম্প। গত রোববার ‘ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তিনি আশা করছেন, এ মাসের শেষে বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে নির্ধারিত বৈঠকের আগেই চীন হরমুজ প্রণালি সচল করতে সহায়তা করবে। যদি তারা সাহায্য না করে, তবে তিনি তার সফর পিছিয়ে দিতে পারেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমি মনে করি, চীনেরও সাহায্য করা উচিত। কারণ, চীন তাদের তেলের ৯০ শতাংশই এই প্রণালি দিয়ে পায়। তারা যদি উপসাগরীয় অঞ্চলে সহায়তা না দেয়, তবে আমরা সফর পিছিয়ে দিতে পারি।’
এ বিষয়ে রয়টার্সের পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হলে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।
পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি খুলতে সহায়তার জন্য ট্রাম্প ইউরোপীয় মিত্রদের ওপরও চাপ প্রয়োগ করেছেন। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ন্যাটো সদস্যরা ওয়াশিংটনকে সাহায্য করতে ব্যর্থ হহলে এ জোটের ভবিষ্যৎ ‘খুবই খারাপ’ হতে পারে।
কূটনীতিক সূত্রে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যে একটি ছোট নৌ মিশন শক্তিশালী করার বিষয়ে আলোচনা করতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের স্থানীয় সময় বৈঠক করার কথা রয়েছে। তবে তারা এখনই অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের ভূমিকা বৃদ্ধি করার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন বলে মনে হয় না।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ডাউনিং স্ট্রিটের একজন মুখপাত্র গতকাল বলেন, প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ট্রাম্পের সঙ্গে ও কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে প্রণালিটি চালু করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেছেন।
অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়া বলেছে, তারা ট্রাম্পের অনুরোধটি সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনা করবে।
অবশ্য ইরানের কিছু জাহাজ এবং অন্য কয়েকটি দেশের অল্প কিছু জাহাজ সফলভাবে এ পথ অতিক্রম করতে পেরেছে।