

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংবিধান অনুযায়ী তার এমপি পদ থাকবে কি না- এ প্রশ্নে আইনি ব্যাখ্যা দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া।
তিনি বলেছেন, দল থেকে বহিষ্কার হওয়া আর স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করা এক বিষয় নয়। তাই সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সরাসরি প্রযোজ্য হবে না। তবে ‘নৈতিক স্খলনের’ অভিযোগ থাকায় বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের বিবেচনায় যেতে পারে বলেও মত দেন তিনি।
বুধবার (২২ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, অনেক সাংবাদিক বন্ধু ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করছেন বিকেল থেকে। কারো ফোন ধরতে পারিনি। অনুমান করছি জামাতের সংসদ সদস্যকে দল থেক বহিষ্কার করা নিয়ে মতামত জানতে চেয়ে কল করেছিলেন।
এরপর তিনি সংবিধানের সংশ্লিষ্ট বিধানগুলোর ব্যাখ্যা তুলে ধরে লিখেছেন, আমার মতামত হলো- সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদে সংসদ সদস্য হওয়ার বা পদে থাকার যোগ্যতা, অযোগ্যতা বিষয়ে উল্লেখ রয়েছে। নৈতিক স্খলনের বিষয়ে বলা আছে ৬৬(১)(ঘ) অনুচ্ছেদে। কিন্তু সেটি আদালত কর্তৃক সিদ্ধান্ত হতে হবে। সে রকম কোনো সিদ্ধান্ত এক্ষেত্রে নেই।
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদও এ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। কেননা, সেখানে বলা আছে যদি কোন সংসদ সদস্য দল থেকে পদত্যাগ করেন বা দলের বিপক্ষে ভোট দেন তাহলে তিনি সদস্য পদ হারাবেন। তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে, তিনি পদত্যাগ করেননি। দুটো বিষয়কে এক করে দেখার সুযোগ নেই।
যদিও এখানেই বিষয়টির সমাপ্তি নয় বলে উল্লেখ করে ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া আরও লেখেন, তবে, সংবিধানের এই দুই অনুচ্ছেদের ব্যাখ্যার বাইরে একটি বিষয় পরিষ্কার যে, এখানে নৈতিক স্খলনের বিষয় আছে। সেক্ষেত্রে তার সংসদ সদস্যপদ থাকবে কিনা তা নির্ধারণের জন্য অনুচ্ছেদ ৬৬(৪), সংসদ সদস্যের বিরোধ নিষ্পত্তি আইন, ১৯৮০ এর ৩ ধারা এবং জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি এর ১৭৮ বিধি মোতাবেক মাননীয় স্পীকার বিষয়টিও নির্বাচন কমিশনে প্রেরণ করবেন। এক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে।
ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়ার এই মন্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন সাতক্ষীরা-৪ আসনে জামায়াতের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দলীয় শৃঙ্খলা-ভঙ্গ, বহিষ্কার এবং এমপি পদ বহাল থাকা নিয়ে সাংবিধানিক বিতর্ক নতুন করে সামনে এসেছে। এর আগে একই ইস্যুতে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনিরসহ বিভিন্ন আইনজীবীও সংবিধানের ৬৬ ও ৭০ অনুচ্ছেদের ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। ফলে বিষয়টি নিয়ে আইনি ও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে।
যদিও সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের পদ বহাল থাকবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসারে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত এবং প্রয়োজনে বিচারিক ব্যাখ্যার ওপর নির্ভর করবে।