

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সহসভাপতি (ভিপি) পদে মনোনয়নপত্র নিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার সলিমুল্লাহ মুসলিম হল ছাত্র সংসদের সাবেক জিএস জুলিয়াস সিজার তালুকদার। তার মনোনয়নপত্র গ্রহণের পরপরই বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা অঙ্গনে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। অতীতে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকাকালে মারধর করাসহ নানা অভিযোগ ওঠে সিজারের বিরুদ্ধে। তার প্রার্থিতা বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভও করেন একদল শিক্ষার্থী। তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে ‘কোনো প্রমাণ পায়নি’ বলে জানিয়েছে ডাকসুর নির্বাচন কমিশন। এতে নির্বাচন করতে আর কোনো বাধা না থাকায় ভিপি পদে লড়ার প্রত্যয় জানিয়েছেন সিজার। কালবেলাকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে তার স্বপ্নের কথা জানানোর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার জন্য অতীতের নানা কর্মকাণ্ডসহ তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ব্যাখ্যাও দিয়েছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিরাপত্তা মঞ্চের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়াস সিজার তালুকদার বলেন, ‘ডাকসু হলো সর্বজনীন, কোনো বিশেষ দলের নয়। আমি চাইনি কোনো রাজনৈতিক লেবেল আমাকে সীমাবদ্ধ করুক। শিক্ষার্থীদের কাছে আমার আনুগত্য থাকবে, কোনো প্যানেল বা দলের কাছে নয়।’
মনোনয়নপত্র সংগ্রহের পর তার প্রার্থিতা নিয়ে সমালোচনা ও বাতিলের দাবি ওঠে। এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘বাংলাদেশে বিকল্প কণ্ঠ উঠলেই অভিযোগ আসে। আমার অংশগ্রহণে যাদের অবস্থান নড়ে যাবে, তারাই এসব করছে। সমালোচনা গণতন্ত্রের সৌন্দর্য, কিন্তু প্রার্থিতা বাতিলের দাবি শিক্ষার্থীদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র।’
ছাত্রলীগের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা ও নির্যাতনের অভিযোগ প্রসঙ্গে জুলিয়াস বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি ছাত্রলীগে ছিলাম; কিন্তু ২০২০ সালে ছেড়ে দিয়েছি। নির্যাতনের অভিযোগ রাজনৈতিক অপপ্রচার মাত্র। যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, আমি প্রার্থিতা প্রত্যাহার করব; কিন্তু মিথ্যা রটনায় থামব না।’
শিক্ষার্থীরা কেন তাকে ভোট দেবে—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা আমাকে কথার জন্য নয়, কাজের জন্য চেনে। গত পাঁচ বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিরাপত্তা মঞ্চের মাধ্যমে আমি সাতশর বেশি জটিল কেস সমাধান করেছি, আর নানা উদ্যোগে ১৮ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী উপকৃত হয়েছে। অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য ফ্রি খাবার, সাইকেল ক্রয়ে সহায়তা, বৃত্তি আদায় আন্দোলনসহ নানাভাবে কাজ করেছি।’
নির্বাচিত হলে তার অঙ্গীকার হলো—ডাকসুকে দলীয় আধিপত্যমুক্ত রাখা, অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্রামাগার ও বাসসেবা চালু করা, অসচ্ছলদের জন্য ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপ, উন্নতমানের খাবার, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা, বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য ফ্রি সাপোর্ট সেন্টার গড়া, মেডিকেল সেন্টারের উন্নয়ন, পাওয়ার ডায়াল ও পাওয়ার কার্ডসেবা চালু করা।
নারী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ উদ্যোগ হিসেবে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন—নিরাপদ ক্যাম্পাসের জন্য টাস্কফোর্স, যৌন হয়রানি প্রতিরোধে দ্রুত বিচার সেল এবং নারী নেতৃত্ব বিকাশে বিশেষ স্কলারশিপ ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচির ব্যবস্থা করার।
তার ভাষায়, ‘শিক্ষার্থীরা জানে আমাকে ভোট দেওয়া মানে নিজের ক্ষমতায়ন। শিক্ষার্থীরাই আমার শক্তি, তারাই আমার বিচারক, ভোটই তাদের রায়।’