

‘দোতলায় ঘরের খাটের ওপর বসে ছিলাম। হঠাৎই বিকট আওয়াজ শুনে লাফিয়ে উঠি। ক্ষণিকের জন্য মনে হলো কড়কড় আওয়াজ। পুরো বিল্ডিং কাঁপছে, তবে বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। এই কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই মনে হচ্ছিল বিল্ডিং ধসে পড়বে। খাট থেকে ঘরের দরজা পর্যন্ত ছুটে যাওয়ার সময়ের মতো ভয়ংকর পরিস্থিতি আর জীবনে আসেনি। বাইরে থেকে ভেসে আসছিল নারী-শিশুদের আর্তচিৎকার। বিল্ডিংয়ের সিঁড়ি বেয়ে খুব বেশি মানুষ নামতে পারেনি। আগে কখনো এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি দেখিনি।’ ভয়ার্ত কণ্ঠে এক নিঃশ্বাসে কথাগুলো বলছিলেন রাজধানীর কুড়িল এলাকার বাসিন্দা আবদুস সামাদ। গতকাল শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনের সকালে ভূমিকম্পের শক্ত ঝাঁকুনিতে কেঁপে ওঠে ঘরবাড়ি। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে রাজধানী ঢাকাসহ পুরো দেশে। বাড়িঘর ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসেন মানুষ। সড়কে দাঁড়িয়ে মোবাইল ফোনে অনেকে খোঁজ নিচ্ছিলেন নিকটাত্মীয়দের। সবার চোখেমুখে কয়েক মুহূর্ত আগের তীব্র কম্পনের আতঙ্ক। অনেকে আবার নামতে না পেরে বাসার সিঁড়ি বা ভবনের পিলারের পাশে আশ্রয় খোঁজার চেষ্টা করেন। ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার পর রাজধানীর অনেক মসজিদ থেকে মুয়াজ্জিনের কণ্ঠে ভেসে আসে আল্লাহু আকবার ধ্বনি। মসজিদের মাইকে দোয়া-মোনাজাত করতেও শোনা যায়। আতঙ্কিত অনেকে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে কম্পনের ভয়াবহতার চিত্র তুলে ধরেন। একের পর এক আসতে থাকে প্রাণহানি আর ক্ষয়ক্ষতির তথ্য। দেশে গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতী এই ভূমিকম্পে গতকাল রাত ১০টায় এই প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত তিন জেলায় শিশুসহ ১০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, আহত হয়েছেন কয়েকশ মানুষ। যাদের মধ্যে রাজধানী ও ঢাকার বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ৬০৬ জন। গতকাল রাত ৯টা পর্যন্ত স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও হাসপাতালগুলো থেকে এ তথ্য পাওয়া যায়।
সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে উৎপত্তি হওয়া এ ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ৭; উৎপত্তিস্থল ঢাকার পাশে নরসিংদীর মাধবদীতে। ভূমিকম্পটিকে মাঝারি মাত্রার বলছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। কেন্দ্র ছিল ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে। স্থায়িত্ব ছিল ২৬ সেকেন্ড। এই ভূখণ্ডে ৮ মাত্রার ভূমিকম্পেরও ইতিহাস রয়েছে। তবে গত কয়েক দশকের মধ্যে এমন প্রাণঘাতী ভূমিকম্প দেশের মানুষ আর দেখেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) অবশ্য গতকালের এই ভূমিকম্পের মাত্রা দেখাচ্ছে রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ৫। উপকেন্দ্র বলছে নরসিংদী থেকে ১৪ কিলোমিটার পশ্চিম দক্ষিণ-পশ্চিমে। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও এই ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এনডিটিভির খবরে বলা হয়, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতাসহ আশপাশের এলাকায় ভূমিকম্প অনুভূত হয়।
তেজকুনিপাড়া থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে তেজগাঁও শিল্প এলাকার একটি অফিসে দায়িত্ব পালন করছিলেন দেলোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, ‘হঠাৎ করেই ঝাঁকুনিতে চতুর্থ তলার ঝুলন্ত বাতি, চাকাযুক্ত চেয়ারগুলো নড়তে শুরু করে। দৃশ্যটি ছিল খুবই ভয়াবহ। আমি কান্না করছিলাম, মনে হচ্ছিল আজই সব শেষ হয়ে যাবে।’
মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা আকলিমা আক্তার বলেন, ‘এমন ভূমিকম্প জীবনে দেখিনি। যখন ভূমিকম্প হয় তখন তিনতলায় অবস্থান করছিলাম। বের হতে পারব কি না বুঝতে পারছিলাম না। সব ভীষণভাবে কেঁপে উঠল। মনের ভেতরে এখনো আতঙ্ক কাজ করছে।’
আকলিমা মোহাম্মদপুর এলাকায় স্বামী ও দুই সন্তান নিয়ে একটি ভাড়া বাসায় থাকেন। ভূমিকম্প আঘাত হানার ঘণ্টাখানেক পরও তিনি তিনতলার বাসায় যেতে চাচ্ছিলেন না। পরে স্বামী আফজাল হোসেন অনেক বুঝিয়ে তাকে বাসায় নিয়ে যান। বাসায় যাওয়ার আগেও স্বামী আফজালকে আতঙ্কিত আকলিমার প্রশ্ন—‘বিল্ডিং যেভাবে কেঁপেছে, যদি ভেঙে যায়?’
আকলিমার মতো আতঙ্কে আছেন ভূমিকম্প অনুভব করা রাজধানীর অসংখ্য মানুষ। বছিলা এলাকার বাসিন্দা মো. বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘এই ঢাকা শহরে যে পরিমাণ ঘন ঘন বিল্ডিং, এতে কখন কোনটা ধসে পড়ে তার ঠিক নেই। যখন বাসায় থাকা অবস্থায় ভূমিকম্প হচ্ছিল, তখন ভাবছিলাম যে বাসায় মারা যাব নাকি নিচে গিয়ে মারা যাব। কারণ চারদিকে বহুতল বিল্ডিং।’
ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল নরসিংদীর মাধবদীর বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, এরকম ভূমিকম্প কখনো দেখেননি। তাদের বাড়িটি একতলা পাকা ভবন। নিচতলায় থাকা আলমারি থেকে ঝাঁকুনির ফলে জিনিসপত্র পড়ে যায়। নিচতলায় মাটির ওপর থেকেও যে আতঙ্ক অনুভব করেছেন, তা ভয়াবহ।
ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, ঢাকায় আরমানিটোলার কসাইটুলী এলাকার একটি আটতলা ভবনের পাশের দেয়াল এবং কার্নিশ থেকে ইট ও পালেস্তারা খসে নিচে পড়ে, যেখানে একটি গরুর মাংস বিক্রির দোকান ছিল। সেখানে থাকা ক্রেতা ও পথচারীরা আহত হন। ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই স্থানীয় লোকজন তাদের হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতরা হলেন আনুমানিক ২২ বছর বয়সী রাফিউল ইসলাম, হাজি আবদুর রহিম (৪৭) ও তার ছেলে মেহরাব হোসেন রিমন (১২)। রাফিউল ইসলাম স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন।
বিসমিল্লাহ মাংসের দোকানের মালিক নয়ন আহমেদ ঘটনার সময় তার দোকানে ছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমার দোকানে সবসময় ভিড় থাকে। এখানে ২০ জন লোক কাজ করে। আল্লাহ তাদের সবাইকে বাঁচিয়েছেন। দোকানের ওপরে একটি মোটা ত্রিপল ছিল। তাই ওপর থেকে ধ্বংসাবশেষ পড়লেও তা ত্রিপলে আটকে যায়। মাত্র একজন সামান্য আহত হন।’
স্থানীয় বাসিন্দা শাহীন হোসেন বলেন, ‘ভবনটি প্রায় ২০ থেকে ২৫ বছরের পুরোনো। এটি মূলত ছয়তলা ভবন ছিল; কিন্তু চার বছর আগে আরও দুটি তলা যুক্ত করা হয়েছিল। অষ্টম তলার নবনির্মিত বারান্দার রেলিংয়ের কিছু অংশ ধসে পড়েছে।’
এলাকার আরেক বাসিন্দা মাসুমা আক্তার বলেন, ‘শুক্রবার হওয়ায় এলাকায় ভিড় কম ছিল। আল্লাহ নিজ হাতে আমাদের বাঁচিয়েছেন। অন্য দিন হলে ১০০ জনেরও বেশি মানুষ মারা যেতে পারত।’
রাজধানীর মুগদা এলাকায় ভূমিকম্পের সময় একটি ভবনের দেয়াল ধসে মো. মাকসুদ (৫০) নামে এক নিরাপত্তাকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। মুগদার মদিনাবাগে নির্মাণাধীন ভবনে দায়িত্ব পালন করছিলেন মাকসুদ। ভূমিকম্পের সময় তিনি দ্রুত বাইরে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। ঠিক সেই সময় দেয়াল ধসে পড়লে তিনি গুরুতর আহত হন। তাকে দ্রুত উদ্ধার করে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে দুপুর ১২টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীতে ছয়জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় ভবনের দেয়াল ধসে ১০ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সকালে উপজেলার গোলাকান্দাইল এলাকায় এ ঘটনায় শিশুটির মাসহ আরও দুজন আহত হন। নিহত শিশু ফাতেমা ওই এলাকার আব্দুল হকের মেয়ে; তিনি ঢাকার শ্যামবাজারে ব্যবসা করেন।
নরসিংদীর তিনটি উপজেলায় ভয়াবহ এ ভূমিকম্পে পিতা-পুত্রসহ পাঁচজন নিহত এবং শতাধিক আহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন নরসিংদী শহরতলীর গাতবলী এলাকার হোসেন (৩৭) ও তার শিশু পুত্র ওমর ফারুক (১০), পলাশ উপজেলার কাজম আলী ভূঁইয়া (৭০) ও ডাঙ্গা গ্রামের নাসির উদ্দিন (৫০) এবং শিবপুর উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নের আসকিতলা গ্রামের ফুরকান মিয়া (৪০)।
জানা গেছে, নরসিংদীর সদর উপজেলার গাবতলী এলাকায় নির্মাণাধীন সপ্তমতলা ভবনের ছাদ থেকে ইট পড়ে দেলোয়ার হোসেন, তার শিশুপুত্র ওমর ফারুক এবং তাসফিয়া আহত হয়। এলাকাবাসী তাদের উদ্ধার করে প্রথমে নরসিংদী সদর হাসপাতালে ও পরে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে নেওয়ার পর পিতা-পুত্রের মৃত্যু হয়।
পলাশ উপজেলার মালিতা গ্রামে মাটির ঘরের দেয়াল ভেঙে পড়ে। এ সময় মাটিচাপা পড়ে কাজম আলী ভূঁইয়া নামে এক বৃদ্ধ নিহত হন। একই উপজেলার ডাঙ্গা ইউনিয়নের ডাঙ্গা গ্রামে নাসির উদ্দিন নামে একজন ভূমিকম্পের আতঙ্কে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা গেছেন।
শিবপুর উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নের আসকিতলা গ্রামে গাছে উঠে ডালা কাটার সময় ভূমিকম্পের কম্পনে গাছ থেকে পড়ে ফুরকান মিয়া নামে একজন গুরুতর আহত হন। তাকে উদ্ধার করে শিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
নরসিংদী সদর হাসপাতাল, জেলা হাসপাতাল ও জেলার বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের তথ্যানুযায়ী, কমপক্ষে দেড় শতাধিক মানুষ আহত হয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। তা ছাড়া ভূমিকম্পে জেলার প্রায় সব উপজেলায় বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। নরসিংদী শহরের এবং ঘোড়াশাল বাজার এলাকার অনেক ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে।
রাজধানী ঢাকায়ও অনেক ভবনে ফাটল ও পলেস্তরা খসে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। অনেকের বাসাবাড়ির আসবাব ভেঙে পড়ে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহির্গমন অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ডিপারচার গেট ৪ ও ৫-এর সংযোগস্থলে সিলিংয়ের প্লাস্টার খসে পড়ে এবং দৃশ্যমান ফাটলের সৃষ্টি হয়। কলাবাগানের লেক সার্কাস রোড, হাতিরপুল, সেন্ট্রাল রোড, ধানমন্ডি ২৭ নম্বর, এলিফেন্ট রোড, মিরপুর, গুলশান, পুরান ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গায়, মানুষকে দ্রুত ভবন ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসতে দেখা যায়। সিঁড়ি বেয়ে নামার সময় কে কার আগে নামবেন, তা নিয়ে তাদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কিও হয়। ভূমিকম্পের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
এই ভূমিকম্পে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় হেলে পড়া ও ফাটল ধরা ভবনগুলোর প্রকৃত অবস্থা যাচাইয়ে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ শাখার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক সরেজমিন পরিদর্শন করা হয়।
ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, ভূমিকম্পের সময় খিলগাঁওয়ে নির্মাণাধীন ভবন থেকে পাশের দোতলা একটি ভবনে ইট পড়ে একজন আহত হন। বারিধারা এফ ব্লকের ৫ নম্বর রোডের একটি বাড়িতে আগুন লাগে। খবর পেয়ে বারিধারা ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। আগুন নেভাতে কাজ শুরু করে। তবে ভূমিকম্পের জন্য আগুন লেগেছে কি না, তা নিশ্চিত নয় ফায়ার সার্ভিস।
পুরান ঢাকার স্বামীবাগে ৮ তলা একটি ভবন অন্য একটি ভবনে হেলে পড়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় ফায়ার সার্ভিস। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের একটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের স্যাটেলাইট ফায়ার স্টেশন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। তবে কোনো ক্ষতি হয়নি।
কলাবাগানের একটি সাততলা ভবন হেলে পড়ার খবর পেয়ে মোহাম্মদপুর ফায়ার স্টেশন থেকে একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। এ ছাড়া মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় একটি বাসা-বাড়িতে আগুন লাগে।
ঢাকার নিউমার্কেট থানার ওসি এ কে এম মাহফুজুল হক জানান, তাদের থানা ভবনের ৩, ৪ ও ৫ তলায় ফাটল ধরেছে।
ময়মনসিংহ, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলায়ও ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। ভূমিকম্পে আতঙ্ক আর ক্ষয়ক্ষতির তথ্য এসেছে ঢাকার বাইরে থেকেও। শেরপুরে ভূমিকম্পের সময় গাছপালা, ঘর দরজা এবং আসবাবপত্র কাঁপতে থাকে। অনেক মানুষ ভয়ে ঘর থেকে বাইরে বের হয়ে আসেন।
নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে জাতীয় গ্রিডের সাবস্টেশনের যন্ত্রাংশ পুড়ে বন্ধ রয়েছে বিদ্যুৎ সরবরাহ। ভূমিকম্পের কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎ উৎপাদন বিঘ্নিত হওয়ার তথ্য দিয়েছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)।
গাজীপুরে বিভিন্ন কারখানা থেকে হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে কয়েশ শ্রমিক আহত হয়েছেন। বগুড়ায় ভূমিকম্পের ঝাঁকুনিতে আতঙ্ক সৃষ্টি হয় শহরবাসীর মধ্যে। লোকজন বাসা ছেড়ে নিচে নেমে এদিক ওদিক ছোটাছুটি করতে থাকে।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুবাইয়াত কবির বলেন, ‘ঢাকা এবং এর আশপাশে বিগত কয়েক দশকে সংঘটিত হওয়া ভূমিকম্পের মধ্যে এটাই সবচেয়ে শক্তিশালী এবং সর্বোচ্চ মাত্রার ভূমিকম্প। এ সময়ে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে ৪ থেকে ৫ মাত্রার সামান্য বেশি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। তবে এগুলোর উৎপত্তিস্থল ছিল দেশের বাইরে।’
তিনি বলেন, ‘ঐতিহাসিকভাবে এ অঞ্চলে একাধিক বড় ভূমিকম্প সংঘটিত হয়েছে, যা প্রমাণ করে যে, এটি ভূমিকম্প ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা। যে কোনো সময় বাংলাদেশে আরও বড় ভূমিকম্প হতে পারে।’
ভূতত্ত্ববিদ অধ্যাপক সৈয়দ হুমায়ুন আখতার বলেন, ‘দুটো প্লেটের সংযোগস্থলে এ ভূমিকম্পটি হয়েছে, ইন্দো-বার্মা টেকটোনিক প্লেটে। ভূমিকম্পের কম্পনের তীব্রতা ছিল বেশ। প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।’
ভূমিকম্পের ঘটনায় পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সরকার। জনগণের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। কোনো ধরনের গুজব বা বিভ্রান্তিতে কান না দিয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।
ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এবং প্রাণহানি ও আহতের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে শোক প্রকাশ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এক শোক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে প্রবল ভূমিকম্পে মানুষের প্রাণহানি এবং ক্ষয়ক্ষতিতে আমি গভীরভাবে শোকাভিভূত। এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দূর্যোগে আমি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের সংহতি ও সহানুভুতি প্রকাশ করছি।’
ভূমিকম্পে হতাহতের ঘটনায় শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমি এই মর্মান্তিক হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করছি।’ জামায়াত আমির আরও বলেন, ‘বিল্ডিং কোড মেনে বহুতল ভবন নির্মাণ হচ্ছে কি না, তা কঠোরভাবে তদারকি করতে হবে।’