মো. হুমায়ূন কবীর
প্রকাশ : ২৩ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
আপডেট : ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৬ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

ভোটের আগে দেওয়া যাবে না চাঁদা বা অনুদান

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের আচরণবিধির খসড়া
ভোটের আগে দেওয়া যাবে না চাঁদা বা অনুদান

সংসদ নির্বাচনের আচরণবিধিমালায় অতিগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির তালিকায় উপদেষ্টাদের রাখা হলেও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য করা খসড়ায় তাদের রাখা হয়নি। এতে অতিগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বলতে প্রধানমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, সরকারের মন্ত্রী, চিফ হুইপ, বিরোধীদলীয় নেতা, সংসদ উপনেতা, বিরোধীদলীয় উপনেতা, প্রতিমন্ত্রী, হুইপ, উপমন্ত্রী বা তাদের সমপদমর্যাদার কোনো ব্যক্তি, সংসদ সদস্য, সিটি করপোরেশনের মেয়র বা মেয়রের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে বোঝানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। সূত্র জানায়, গত মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশন সভায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের আচরণবিধিমালা উপস্থাপনের জন্য রাখা হয়েছিল। কিন্তু সময়ের অভাবে তা উপস্থাপন করা যায়নি। নথি আকারে এটি পাস করার কথা রয়েছে।

আচরণবিধিমালার বিষয়ে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, আইনের আলোকে আচরণবিধিমালা সংশোধন করা হবে। আচরণবিধির খসড়া অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী বা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বা তার পক্ষে রাজনৈতিক দল, অন্য কোনো ব্যক্তি, সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান নির্বাচন-পূর্ব সময়ে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন এলাকায় অবস্থিত কোনো প্রতিষ্ঠানে প্রকাশ্যে বা গোপনে কোনো প্রকার চাঁদা বা অনুদান দিতে বা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিতে পারবে না; প্রতীক বরাদ্দের আগে কোনো প্রকার নির্বাচনি প্রচার শুরু করতে পারবে না।

ডিজিটাল বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্বাচনি প্রচারণার অংশে বলা হয়েছে, কোনো প্রার্থী বা তার নির্বাচনি এজেন্ট বা অন্য কোনো ব্যক্তি ডিজিটাল বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণা পরিচালনা করতে পারবেন, তবে প্রার্থী বা তাহার নির্বাচনি এজেন্ট বা অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রার্থী সংশ্লিষ্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নাম, অ্যাকাউন্ট আইডি, ইমেইল আইডিসহ অন্যান্য শনাক্তকরণ তথ্যাদি উক্তরূপে প্রচার-প্রচারণা শুরুর আগে রিটার্নিং অফিসারের নিকট দাখিল না করে প্রচার করতে পারবেন না; প্রচার-প্রচারণাসহ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কোনো বিষয়ে অসৎ উদ্দেশ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করতে পারবেন না; ঘৃণাত্মক বক্তব্য, ভুল তথ্য, কাহারো চেহারা বিকৃত করা ও নির্বাচনসংক্রান্ত বানোয়াট তথ্যসহ কোনো প্রকার ক্ষতিকর কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার করতে পারবেন না; জাতি, ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, লিঙ্গ সম্প্রদায় ভেদে কোনো জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করিয়া ঘৃণাত্মক বক্তব্য, ব্যক্তিগত বা সামষ্টিক আক্রমণ বা উসকানিমূলক ভাষা ব্যবহার করিতে পারবেন না; নির্বাচনি স্বার্থ হাসিল করতে ধর্মীয় বা জাতিগত অনুভূতির অপব্যবহার করা হয় এইরূপ কোনো কর্মকাণ্ড করতে পারবেন না; প্রার্থী বা প্রার্থীর পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি, ভোটারদের বিভ্রান্ত করতে কিংবা নারী-পুরুষ নির্বিশেষে কোনো প্রার্থী বা ব্যক্তির চরিত্র হনন কিংবা সুনাম নষ্ট করার উদ্দেশ্যে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অন্য কোনো মাধ্যমে, সাধারণভাবে বা এডিট করে কিংবা এআই দ্বারা কোনো মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর, পক্ষপাতমূলক, বিদ্বেষপূর্ণ, অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ এবং মানহানিকর কোনো কনটেন্ট তৈরি, প্রকাশ, প্রচার ও শেয়ার করিতে পারবেন না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্বাচনি প্রচারণা বাবদ ব্যয়সমূহ প্রার্থীদের নির্বাচনি ব্যয়সীমার অন্তর্ভুক্ত হবে। হাউস, ডাক-বাংলো ইত্যাদি ব্যবহারে বিধিনিষেধে বলা হয়েছে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নির্বাচন-পূর্ব সময়ে সরকারি সার্কিট হাউস, ডাক-বাংলো বা রেস্ট হাউসে অবস্থান করতে পারবেন না এবং পক্ষে বা বিপক্ষে প্রচারণার স্থান হিসেবে সরকারি সার্কিট হাউস, ডাক-বাংলো, রেস্ট হাউস, কোনো সরকারি কার্যালয় অথবা সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষের কার্যালয় ব্যবহার করিতে পারবেন না। সভা সমিতি অনুষ্ঠানে বিধিনিষেধে উল্লেখ করা হয়েছে কোনো প্রার্থী কিংবা তাদের পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি জনসংযোগ, পথসভা ও ঘরোয়া সভা ব্যতীত কোনো জনসভা বা শোভাযাত্রা করতে পারবেন না; প্রতিপক্ষের পথসভা ও ঘরোয়া সভা এবং অন্যান্য প্রচারাভিযান পণ্ড বা উহাতে বাধা প্রদান বা ভীতি সঞ্চারমূলক কিছু করতে পারবে না; পথসভা/ঘরোয়া সভা করতে চাইলে প্রস্তাবিত সভার কমপক্ষে ২৪ (চব্বিশ) ঘণ্টা পূর্বে স্থান এবং সময় সম্পর্কে স্থানীয় পুলিশ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে। জনগণের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হইতে পারে এইরূপ কোনো সড়কে পথসভা করতে পারবেন না।

পোস্টার, লিফলেট বা হ্যান্ডবিল ফেস্টুন, ব্যানার ব্যবহারে বিধিনিষেধে বলা হয়েছে কোনো প্রকার পোস্টার ব্যবহার করতে পারবেন না; অপচনশীল দ্রব্য (যেমন রেক্সিন, পলিথিন, প্লাস্টিক তথা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর এরূপ কোনো উপাদানে তৈরি কোনো প্রচারপত্র, লিফলেট বা হ্যান্ডবিল, ফেস্টুন ও ব্যানার) ব্যবহার করা যাবে না; নির্বাচনি এলাকায় অবস্থিত কোনো দালান, দেওয়াল, গাছ, বেড়া, বিদ্যুৎ ও টেলিফোনের খুঁটি, সরকারি বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের স্থাপনাসমূহে, এবং বাস, ট্রাক, ট্রেন, স্টিমার, লঞ্চ, রিকশা, অটোরিকশা, লেগুনা, ট্যাক্সি, বেবিট্যাক্সি বা অন্য কোনো যানবাহনে কোনো প্রকার লিফলেট বা হ্যান্ডবিল, ফেস্টুন সাঁটানো বা আঠাল পদার্থ দিয়ে লাগাতে পারবেন না; কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর ফেস্টুন, ব্যানার ও বিলবোর্ড এর ওপর অন্য কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর ফেস্টুন, ব্যানার ও বিলবোর্ড টানানো যাবে না এবং উক্ত ফেস্টুন, ব্যানার ও বিলবোর্ডের কোনো প্রকার ক্ষতি, বিকৃতি বা বিনষ্ট করা যাবে না; ইলেকট্রনিক ও ডিজিটাল মাধ্যম ব্যতীত নির্বাচনি প্রচারণায় ব্যবহৃতব্য ব্যানার, লিফলেট বা হ্যান্ডবিল ও ফেস্টুন সাদা-কালো রঙের হবে এবং এতে প্রতীক ও নিজের ছবি ব্যতীত অন্য কোনো ব্যক্তির ছবি বা প্রতীক ছাপাতে পারবে না; মুদ্রণকারী প্রতিষ্ঠানের নাম, ঠিকানা ও মুদ্রণের তারিখবিহীন কোনো ব্যানার, লিফলেট বা হ্যান্ডবিল ও ফেস্টুন ব্যবহার করা যাবে না; ব্যানার, লিফলেট বা হ্যান্ডবিল ও ফেস্টুনে পলিথিনের আবরণ, এবং প্লাস্টিক (পিভিসি) ব্যানার ব্যবহার করা যাবে না। নির্বাচনি প্রচারণার ক্ষেত্রে প্রতীক হিসেবে জীবন্ত প্রাণী ব্যবহার করা যাবে না। মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও দাখিলের সময় কোনো প্রকার মিছিল কিংবা শোডাউন করা যাইবে না বা প্রার্থী পাঁচজনের অধিক সমর্থক লইয়া মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দিতে পারবেন না।

চেয়ারম্যান পদে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী তার নির্বাচনি এলাকায় তিনটির অধিক, সংরক্ষিত এবং সাধারণ আসনের সদস্য পদে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী তার নির্বাচনি এলাকায় একটির অধিক নির্বাচনি ক্যাম্প বা অফিস স্থাপন করতে পারবেন না। নির্বাচনি ক্যাম্প বা অফিসে কোনো টেলিভিশন, ভিসিআর, ভিসিডি, ডিভিডি, ইত্যাদি ব্যবহার করা যাবে না।

কোনো ট্রাক, বাস, মোটরসাইকেল, নৌযান, ট্রেন কিংবা অন্য কোনো যান্ত্রিক যানবাহন সহকারে মিছিল বা মশাল মিছিল বা অন্য কোনো প্রকারের মিছিল বাহির করিতে পারবে না কিংবা কোনোরূপ শোডাউন করতে পারবে না; নির্বাচনি প্রচারকার্যে হেলিকপ্টার বা অন্য কোনো আকাশযান ব্যবহার করা যাবে না।

নির্বাচন উৎসবমুখর করার প্রয়াসে যানবাহনের চতুর্পাশে ডিজিটাল প্রযুক্তি অথবা সাধারণ পচনশীল সামগ্রী ব্যবহার করে ক্যারাভ্যান বা ভ্রাম্যমাণ বাহনে দুপুর ১২টা থেকে সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত প্রচারণা করা যাবে। তবে প্রচারণাকালে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন বা জনদুর্ভোগের সৃষ্টি করা যাবে না। নির্বাচনে শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার সুবিধার্থে কমিশন কর্তৃক অনুমোদিত ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কোনো ব্যক্তি কর্তৃক ভোটকেন্দ্রের নির্ধারিত চৌহদ্দির মধ্যে কোনো যানবাহন ব্যবহার করা যাবে না।

কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে কোনো রাজনৈতিক দল, কোনো ব্যক্তি, সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান যে কোনো রঙের কালি বা চুন বা কেমিক্যাল দ্বারা দেয়াল বা যানবাহনে কোনো লিখন, মুদ্রণ, ছাপচিত্র বা চিত্র অংকন করে নির্বাচনি প্রচারণা চালাতে পারবেন না। কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে কোনো রাজনৈতিক দল, অন্য কোনো ব্যক্তি, সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান-(ক) নির্বাচনি প্রচারণায় কোনো গেট, তোরণ বা ঘের নির্মাণ করতে পারবেন না কিংবা চলাচলের পথে কোনো প্রকার প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারবেন না; নির্বাচনি প্রচারণার জন্য ৩৫০ বর্গফুটের বেশি জায়গা নিয়ে কোনো প্যান্ডেল বা ক্যাম্প তৈরি করতে পারবেন না; নির্বাচনি প্রচারণার অংশ হিসেবে বিদ্যুতের সাহায্যে কোনো প্রকার আলোকসজ্জা করতে পারবেন না; এবং কোনো সড়ক কিংবা জনগণের চলাচল ও সাধারণ ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত স্থানে নির্বাচনি ক্যাম্প বা অফিস স্থাপন করতে পারবেন না। কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে কোনো রাজনৈতিক দল, অন্য কোনো ব্যক্তি, সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান- নির্বাচনি প্রচারণার জন্য কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর ছবি বা তার পক্ষে প্রচারণামূলক কোনো বক্তব্য বা অন্য কারও ছবি বা প্রতীকের চিহ্নসংবলিত শার্ট, জ্যাকেট, ফতুয়া ইত্যাদি ব্যবহার করতে পারবেন না; উসকানিমূলক বক্তব্য বা বিবৃতি দিতে পারবেন না।

নির্বাচনি প্রচারণাকালে ব্যক্তিগত কুৎসা রটনা, অশালীন এবং আক্রমণাত্মক বা ব্যক্তিগত চরিত্র হনন করে বক্তব্য প্রদান বা কোনো ধরনের তিক্ত বা উসকানিমূলক বা মানহানিকর কিংবা লিঙ্গ, সাম্প্রদায়িকতা বা ধর্মানুভূতিতে আঘাত লাগে এমন কোনো বক্তব্য দিতে পারবেন না;

মসজিদ, মন্দির, ক্যায়াং (প্যাগোডা), গির্জা বা অন্য কোনো ধর্মীয় উপাসনালয় এবং কোনো সরকারি অফিস বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো প্রকার নির্বাচনি প্রচারণা চালাতে পারবেন না; নির্বাচন উপলক্ষে কোনো নাগরিকের জমি, ভবন বা অন্য কোনো স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তির কোনোরূপ ক্ষতিসাধন এবং অনভিপ্রেত গোলযোগ ও উচ্ছৃঙ্খল আচরণ দ্বারা কারও শান্তি বিনষ্ট করতে পারবেন না; কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর পক্ষে বা বিপক্ষে ভোটারদের প্রভাবিত করবার উদ্দেশ্যে কোনো প্রকার বলপ্রয়োগ বা অর্থ ব্যয় করতে পারবেন না; কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বা তার পক্ষে কোনো রাজনৈতিক দল, অন্য কোনো ব্যক্তি, সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান একটি ওয়ার্ডে পথসভা বা নির্বাচনি প্রচারণার কাজে একের অধিক মাইক্রোফোন বা শব্দের মাত্রা বর্ধনকারী অন্যবিধ যন্ত্র ব্যবহার করতে পারবেন না। কোনো নির্বাচনি এলাকায় মাইক বা শব্দের মাত্রা বর্ধনকারী অন্যবিধ যন্ত্র দুপুর ১২টার আগে এবং সূর্যাস্তের পর ব্যবহার করতে পারবেন না।

অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি এবং সরকারি/সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা বা কর্মচারী নির্বাচন-পূর্ব সময়ে নির্বাচনি এলাকায় প্রচারণায় বা নির্বাচনি কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। তাদের সরকারি কর্মসূচির সঙ্গে কোনো নির্বাচনি কর্মসূচি বা কর্মকাণ্ড যোগ করতে পারবেন না এবং কমিশনের বিবেচনায় নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে এমন সময়ে ও স্থানে অবস্থান করতে পারবেন না; তাদের নিজের বা অন্যের পক্ষে নির্বাচনি প্রচারণায় সরকারি যানবাহন, সরকারি প্রচারযন্ত্রের ব্যবহার বা অন্যবিধ সরকারি সুবিধা ভোগ করতে পারবেন না এবং এতদুদ্দেশ্যে সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ব্যবহার করতে পারবেন না; প্রার্থী ব্যতীত কোনো স্থানীয় সরকার পরিষদের চেয়ারম্যান বা মেয়র বা প্রশাসক অথবা কোনো স্থানীয় সরকার পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যাক্তি নির্বাচনি প্রচারণায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন না।

কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী তার নির্বাচনি এলাকায় সরকারি উন্নয়ন কর্মসূচিতে কর্তৃত্ব করতে পারবেন না কিংবা এতদসংক্রান্ত সভায় যোগদান করতে পারবেন না। কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদে আগে সভাপতি বা সদস্য হিসেবে নির্বাচিত বা মনোনীত হয়ে থাকলে নির্বাচন-পূর্ব সময়ে তিনি ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো সভায় সভাপতিত্ব বা অংশগ্রহণ করবেন না অথবা ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো কাজে জড়িত হতে পারবেন না; নির্বাচন-পূর্ব সময়ে কোনো সরকারি, আধাসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে রাজস্ব বা উন্নয়ন তহবিলভুক্ত কোনো প্রকল্পের অনুমোদন, ঘোষণা বা ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন কিংবা ফলক উন্মোচন করা যাবে না। নির্বাচন-পূর্ব সময়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বা সদস্য বা অন্য কোনো পদাধিকারী সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় উন্নয়নমূলক কোনো প্রকল্প অনুমোদন বা এর আগে অনুমোদিত কোনো প্রকল্পে অর্থ অবমুক্ত বা প্রদান করতে পারবেন না।

বিলবোর্ডের প্রচারণার অংশের আয়তন অনধিক ১৬ ফুট × ৯ ফুট হতে হবে; কোনো প্রার্থী ওয়ার্ডপ্রতি একটির অধিক বিলবোর্ড ব্যবহার করতে পারবেন না।

বিধিমালার বিধান লঙ্ঘন শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি নির্বাচন-পূর্ব সময়ে এই বিধিমালার কোনো বিধান লঙ্ঘন করলে অনধিক ছয় মাস কারাদণ্ড অথবা অনধিক ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয়দণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন। প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলও করা যাবে।

ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা কমপক্ষে স্নাতক নিশ্চিত করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না—জানতে চেয়ে দেওয়া হাইকোর্টের রুলের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, এটা দেখতে হবে। দেখার পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের বিদ্যমান আইন, পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে কী অবস্থা আছে এবং এই সম্পর্কিত আর কোনো আইনের রুলিং বা জাজমেন্ট আছে কি না, সেগুলো দেখে পরে আমরা সিদ্ধান্ত নেব।

কমিশন নিজে থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা যুক্ত করার বিষয়ে কিছু ভাবেনি বলেও জানান তিনি।

আইন সংশোধনের প্রস্তাবের কারণে নির্বাচন পেছাবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, এটির সঙ্গে নির্বাচন পেছানো বা বিলম্বিত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। যদি কোনো সংশোধন হয়, সে আইনেই বলা থাকবে যে এটি কবে থেকে কার্যকর। আর যদি সংশোধন না-ও হয়, বিদ্যমান আইন তো রয়েছেই। এই মুহূর্তে যেই আইন রয়েছে, সেটিও দুর্বল না; এই আইন দিয়েও নির্বাচন করা সম্ভব।

তিনি বলেন, আমরা চিন্তা করেছি, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মামলা ও আপিল নিষ্পত্তিতে কিছু কনফিউশন ছিল। সেই জিনিসগুলো যাতে এভোয়েড করা যায়, সে জন্য কিছু পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়েছে। তার প্রেক্ষিতে আইন সংশোধন হলে সেই অনুযায়ী হবে, না হলে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী হবে। এতে করে নির্বাচন পেছানোর কোনো সুযোগ নেই।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতির বিষয়ে তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো করার প্রস্তুতি নিচ্ছি এবং আমরা প্রস্তুত। আমরা আশা রাখি যে, অক্টোবরে হয়তো প্রথম ধাপের নির্বাচন করতে পারব। এ উপলক্ষে আগস্টের মধ্যে নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার ব্যবস্থা নিতে পারব। যেসব জায়গায় জনপ্রতিনিধি নেই, আইনগতভাবে মেয়াদ শেষ হয়েছে, সেগুলোকে অগ্রাধিকার দেব।

কালবেলা/এমজে
কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের আলোচনা, সফর সংক্ষিপ্ত করে আজই দেশে ফিরছেন স্পিকার

অবশেষে ২৬ দিনের অনশন ভাঙলেন সোনম ওয়াংচুক

দুর্যোগ তহবিল আটকে দেওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা

সকালের মধ্যেই ঢাকাসহ ১০ জেলায় হতে পারে ঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টি

ইইউসহ ৬০ বাণিজ্য দেশের উপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক আরোপ

বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা

জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনে অনিয়ম বরদাশত করা হবে না: সিসিক প্রশাসক

সিলেটে বিপৎসীমার কাছাকাছি নদ-নদীর পানি, আতঙ্কে নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দারা

রোড রোলার প্রশিক্ষণে সুইডেন সফরের খবর ভিত্তিহীন: চসিক মেয়র

ফাহিমা হত্যা মামলার প্রধান আসামিকে ফের আদালত চত্বরে হামলার চেষ্টা

১০

তদন্ত চলাকালেই বদলি চসিকের আলোচিত সেই প্রকৌশলী দম্পতি

১১

রাতে স্টেডিয়ামে গাঁজা সেবন, ভ্রাম্যমাণ আদালতে যুবকের কারাদণ্ড

১২

পরশুরামে শিক্ষিকার ফ্ল্যাট থেকে কিশোরী গৃহকর্মীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

১৩

বিডার উদ্যোগে বাস্তবায়নের পথে ৪০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ

১৪

কমনওয়েলথ গেমসে উড়ছে লাল-সবুজের পতাকা

১৫

রেল অবরোধে ৩৫ লাখ টাকার ক্ষতির দাবি, দুঃখ প্রকাশ পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের

১৬

১২ গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা, বোর্ড ও করপোরেশনে নতুন চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ

১৭

গ্যাস সংকটে সিএনজি স্টেশনে দীর্ঘ সারি, ভোগান্তিতে চালকরা

১৮

জোড়াতালি দিয়ে চলছে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, নেই পর্যাপ্ত চিকিৎসা ব্যবস্থা

১৯

চকরিয়ায় বন্যায় সড়ক বিধ্বস্ত, ক্ষতি প্রায় ৩২ কোটি টাকা

২০
X