

পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক লিখেছেন—‘প্রিয় আমেরিকান বন্ধুরা, ইউরোপ আপনাদের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র, সমস্যা নয়। যদি না কিছু বদলে গিয়ে থাকে।’ সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল প্রকাশের পর তিনি এ মন্তব্য করেন। মার্কিন ওই নীতি যেন ইউরোপের রাজধানীগুলোয় ‘ঠান্ডা পানির বালতি ঢেলে দেওয়ার’ মতো পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ৩০ পাতার ওই নথিতে বলা হয়েছে—ইউক্রেনকে সমর্থন দেওয়ার ক্ষেত্রে ইউরোপীয় নেতাদের প্রত্যাশা অবাস্তব, ইউরোপীয় ইউনিয়ন মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দমন করছে। ইউরোপে ‘জাতীয়তাবাদী ও দেশপ্রেমিক’ রাজনৈতিক দলের প্রভাব বাড়ার প্রশংসা করা হয়েছে, ইউরোপীয় নীতির সরাসরি বিপরীত। ইউরোপের ‘সভ্যতা মুছে যাওয়ার’ আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে। রাশিয়া এ নীতিকে স্বাগত জানিয়েছে এবং বলেছে, এটি অনেক দিক থেকে তাদের দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে মেলে।
নথিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, পুরো বিশ্বব্যবস্থাকে কাঁধে তুলে ধরে রাখার দিন শেষ। আমেরিকা আর সবকিছুর দায়িত্ব নেবে না।
বিশ্লেষকরা কী বলছেন: অনেক বিশ্লেষকের মতে, এ নীতিপত্র ইউরোপীয় নেতাদের হতবাক করেছে। এতে হোয়াইট হাউসের ভেতরের তীব্র আদর্শিক বিরোধিতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো—রাশিয়াকে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে একবারও উল্লেখ করা হয়নি। চীন, উত্তর কোরিয়া ও মধ্যপ্রাচ্য নিয়েও খুব কম কথা বলা হয়েছে।
চ্যাথাম হাউসের বিশ্লেষক কাটজা বেগো বলেছেন, ‘ইউরোপকে ধরে নিতে হবে যে ঐতিহ্যগত ট্রান্সআটলান্টিক সম্পর্ক শেষ।’
ইতিহাসবিদ টিমোথি গার্টন অ্যাশ বলেছেন, এটা ইউরোপের জন্য সবচেয়ে বড় সতর্কবার্তা। এই নথি কার্যত ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিরোধিতা করছে। এটা মার্কিন প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের মিউনিখের বক্তৃতার চেয়েও ভয়ংকর এবং এখন সরকারি নীতি।
ইউরোপের প্রতিক্রিয়া: ইইউর পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কাজা কালাস পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেছেন। তিনি বলেছেন—যুক্তরাষ্ট্রের কিছু সমালোচনা সত্য। তবে ইউরোপ রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিজের শক্তিকে অবমূল্যায়ন করেছে। ইউরোপকে আরও আত্মবিশ্বাসী হতে হবে।
এরপর কী হতে পারে: ট্রাম্প ক্ষমতায় ফেরার পর ইউরোপীয় নেতারা এখনো পর্যন্ত শান্ত থাকার চেষ্টা করছেন, যেন সম্পর্ক পুরোপুরি ভেঙে না যায়।
কিন্তু যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানির মধ্যপন্থি নেতাদের জন্য এই নতুন মার্কিন নীতি অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
সমালোচকরা বলছেন, এ নীতির ভেতরেই বড় একটা সমস্যা আছে—রাশিয়ার হুমকি কম দেখানো হয়েছে। এতে ইউরোপের জাতীয়তাবাদী ও জনতাবাদী দলগুলো শক্তিশালী হতে পারে। সেই দলগুলো আবার প্রতিরক্ষা বাজেট কমাতে পারে। ফলে ইউরোপকে নিজেদের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিতে উৎসাহ দেওয়ার বদলে এ নীতি উল্টো ফল দিতে পারে।