লিয়া ইপি
প্রকাশ : ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:০০ এএম
আপডেট : ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৮:২২ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

কেমন হবে ইউরোপের ছাব্বিশ

কেমন হবে ইউরোপের ছাব্বিশ

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ডিসেম্বর মাস এলেই আমি ফিরে তাকাই একটি বিশেষ মুহূর্তের দিকে, যে সময়টিতে আমার দত্তক দেশ যুক্তরাজ্যে তৎকালীন বিরোধীদলীয় লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন দেশের পরিস্থিতি নিয়ে একটি অস্বস্তিকর মন্তব্য করেছিলেন। নববর্ষের বক্তৃতা রাখতে গিয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘আসন্ন বছরটি চলমান বছরের চেয়ে বেশি কঠিন হতে চলেছে।’

এ বাক্যটি আমার কাছে ছিল অত্যধিক পরিচিত। কারণ, করবিন এখানে উদ্ধৃত করছিলেন আমার জন্মভূমি আলবেনিয়ার কুখ্যাত কমিউনিস্ট শাসক এনভার হোজাকে। তবে হোজা এ বাক্যের সঙ্গে যোগ করে আরও বলেছিলেন, ‘আগামী বছরের সময়টা বেশ কঠিন হলেও অন্তত তা পরবর্তী বছরের তুলনায় সহজ হবে।’

সেই সময় করবিনের এ উদ্ধৃতি ঘিরে তাৎক্ষণিকভাবে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছিল যুক্তরাজ্যে। কেউ কেউ একে প্রমাণ হিসেবে দেখান যে, লেবার পার্টি এক প্রকার মার্ক্সবাদী চরমপন্থি গোষ্ঠীতে পরিণত হচ্ছে। অন্যরা আবার এই বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন যে, এমন বক্তব্য আলবেনিয়ার কমিউনিস্ট অতীতের অসম্পূর্ণ ক্ষতের প্রতি চরম সংবেদনহীনতা প্রকাশ করছে।

‘আঙ্কেল এনভার’-হিসেবে নিজেকে জনগণের সামনে প্রচার করলেও হোজা ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে কুখ্যাত স্বৈরশাসকদের একজন। তার শাসনামলে আমার শৈশবের আলবেনিয়া ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে বিচ্ছিন্ন ভূখণ্ডগুলোর একটি। সংস্কারবাদী পূর্ব বিশ্ব ও সাম্রাজ্যবাদী পশ্চিম বিশ্ব কোনোটির সঙ্গেই সম্পর্ক ছিল না তার। দেশটি যেন নিজস্ব একটি সময়-সংরক্ষণাগারে আবদ্ধ ছিল, যেখানে বাস্তবতা নির্মিত হতো আনুগত্য, নিজস্ব-প্রচারণা, নজরদারি এবং ভিন্নমতের দমনপীড়নের মাধ্যমে। রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎকে নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা গড়ে উঠেছিল অতীতের আত্মত্যাগ ও আত্মনির্ভরতার পৌরাণিক বয়ানের ওপর। আর এর সঙ্গে যুক্ত ছিল আসন্ন বিদেশি আগ্রাসনের চিরস্থায়ী ষড়যন্ত্রতত্ত্ব।

প্রতিটি নববর্ষ নিয়ে আসত নতুন আতঙ্ক, নতুন ঘাটতি, নতুন শাস্তিমূলক বিধান এবং সহনশীলতা চর্চার নতুন আহ্বান। রাষ্ট্রের একমাত্র ধারাবাহিক বিনিয়োগ ছিল যুদ্ধকালীন বাংকার নির্মাণে। এমন বাস্তবতাকে কীভাবে কেউ পশ্চিমা বিশ্বের জীবনযাত্রার সঙ্গে তুলনা করতে পারে?

তবে জেরেমি করবিনের সেই বক্তব্য ও উদ্ধৃতি পরবর্তীকালে অদ্ভুতভাবে ভবিষ্যদ্বাণী বলে প্রমাণিত হয়। ২০১৬ সালের পর থেকে প্রতিটি নতুন বছরকে যুক্তরাজ্যেও বামপন্থিরা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকা বিষণ্নতা ও আশঙ্কার সঙ্গে স্বাগত জানাতে বাধ্য হয়েছে। বছর দশেক আগে তাদের কাছে ব্রেক্সিটকেই মনে হয়েছিল চূড়ান্ত বিপর্যয়। ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের প্রস্থানের বিজয়োল্লাসপূর্ণ স্লোগান ছিল ‘নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে নাও’। এ স্লোগান পশ্চিমা বিশ্বের কসমোপলিটান অভিজাতদের মধ্যে কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছিল।

বিনা চুক্তিতে যুক্তরাজ্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন ত্যাগ করলে দেশের অবস্থা হবে ভয়াবহ—এ আশঙ্কায় অনেক ব্রিটিশ নাগরিক নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য মজুত করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। তখন আমাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, সেই অর্ধশূন্য সুপার মার্কেটের তাকগুলো কি আমাকে হোজা-যুগের আলবেনিয়ার কথা মনে করিয়ে দেয় কি না? আমি বলেছিলাম, ‘না।’ কিন্তু পেছন ফিরে তাকালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম নির্বাচনী জয়, বৈশ্বিক মহামারি, ইউক্রেন ও গাজায় যুদ্ধ এবং ট্রাম্পের পুনরায় হোয়াইট হাউসে প্রত্যাবর্তনের পর ব্রেক্সিটবিরোধীদের মধ্যেও অনেকেই হয়তো স্বীকার করবেন যে, তাদের আতঙ্ক হয়তো কিছুটা অতিরঞ্জিতই ছিল।

তবে আগামী বছর পালিত হবে ব্রেক্সিট গণভোটের দশম বার্ষিকী। এটি বিশ্বায়নের এ যুগে নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীকী মাইলফলক। এ গণভোট সবাইকে এমন এক পৃথিবীতে প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছিল, যেখানে রাষ্ট্রগুলো ক্রমেই একে অপরের থেকে হয়ে যাচ্ছে বিচ্ছিন্ন, প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের খামখেয়ালি ইচ্ছার জিম্মি এবং আইনের শাসন যেন হয়ে যাচ্ছে ক্রমাগতভাবে দুর্বল।

আগামী বছরও সম্ভবত এর ব্যতিক্রম হবে না। ‘নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে নাও’ স্লোগানটি হয়তো একসময় সার্বভৌমত্ব নিয়ে যুক্তিসংগত বিতর্কের আভাস বহন করেছিল। কিন্তু এখন এটা পরিণত হয়েছে একটি পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক ও ষড়যন্ত্রমূলক অস্ত্রে। আমাদের বলা হচ্ছে, নিয়ন্ত্রণ আদৌ সম্ভব নয়। কারণ, গণহারে বিদেশিদের আগমন এবং দেশের সর্বত্র প্রবাসী জনগোষ্ঠীর উপস্থিতি ব্রিটিশ নাগরিকদের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ভবিষ্যৎ যেন শুধু আতঙ্ক ও সংশয়ের এক সংকর রূপই উপহার দিচ্ছে। এমন এক পৃথিবীতে আর কী-ইবা প্রত্যাশা করা যায়, যেখানে ধারাবাহিকভাবে সম্প্রসারিত হওয়া একমাত্র বাজার হলো সামরিক খাত, যেখানে যুদ্ধ ব্যবসাই সবচেয়ে বড় ব্যবসা। এখানে প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ক্রমেই পারস্পরিক ধ্বংসের কলাকে নিখুঁত করার কাজে নিয়োজিত। এ অন্ধকারের মাঝখানে আশা খোঁজার জায়গা কোথায়?

১৭৮৪ সালে ‘বৈশ্বিক উন্নয়নের উদ্দেশ্যে একটি সার্বজনীন ইতিহাসের ধারণা’ শীর্ষক প্রবন্ধটি রচনা করেন জার্মান দার্শনিক ইমানুয়েল কান্ট। সেখানে তিনি এমন একটি দৃষ্টিকোণ অনুসন্ধান করেছিলেন, যার মাধ্যমে ইতিহাসকে শুধু সহিংসতা, অবিচার ও অযৌক্তিকতার করুণ প্রদর্শনী হিসেবে না দেখে বরং নৈতিক প্রবণতার বিকাশের একটি সম্ভাব্য কাঠামো হিসেবে বোঝা যায়। কাজটি কঠিন ছিল বটে। কান্ট মনে করতেন, এর কারণ মানুষ সবসময় যুক্তিসংগত স্বার্থ অনুসরণ করে না। তাদের রয়েছে স্বাধীন ইচ্ছা ও মুক্ত চেতনা, যা সঠিককে চিনতে সক্ষম হলেও ভুলের দিকে ধাবিত হওয়ার শক্ত সম্ভাবনা বহন করে।

অদ্ভুতভাবে কান্ট আশার সন্ধান খুঁজে পান যুদ্ধের মধ্যেই; কিংবা আরও নির্দিষ্টভাবে বললে, যুদ্ধের অযৌক্তিকতার মধ্যে। তার বিশ্বাস ছিল, এমন একসময় আসবে যখন যুদ্ধ সমাজ ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস ও রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করে তুলবে। পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবেও অটেকসই হয়ে উঠবে রাষ্ট্র; পরিণত হবে অপরিমেয় ঋণ ও সর্বনাশের উৎসে। রাষ্ট্রীয় স্বার্থের সংঘাত ও বৈশ্বিক বাণিজ্যের বিস্তার একসময় এমন পর্যায়ে পৌঁছাবে যে, বিশ্বের একপ্রান্তে সংঘটিত কোনো অস্থিরতার প্রভাব অন্যপ্রান্তে অবধারিতভাবে অনুভূত হবে। তার মতে, তখনই এমন এক নতুন যুদ্ধবিরোধী রাজনৈতিক বিন্যাসের আবির্ভাব ঘটবে, যার দৃষ্টান্ত অতীতে খুঁজে পাওয়া যায় না।

শেষ পর্যন্ত বিশ্ব এমন একটি দৃষ্টান্ত সত্যিই তৈরি করেছিল, যদিও তা ছিল অসম্পূর্ণ। বহু ধ্বংস, বিপর্যয় এবং শক্তি সম্পূর্ণ নিঃশেষ হয়ে যাওয়ার পর প্রকৃতি মানুষকে সে পথেই ঠেলে দেয়। যদিও মানুষ চাইলে যুক্তি দিয়ে আগেই সে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে। কিন্তু সংঘর্ষ ছাড়া শান্তির পথ নির্মাণ করার দৃষ্টান্ত মানব ইতিহাসে বিরল। যেমন, ইতালির স্বৈরশাসক বেনিতো মুসোলিনির নির্বাসিত বিরোধীদের জন্য ভেন্তোতেনি কারাগার নির্মাণ করেছিলেন। সেই কারাগারের বিভীষিকাময় পরিবেশে ১৯৪১ সালে আলতিয়েরো স্পিনেলি ও এরনেস্তো রোসি একটি ফেডারেল ইউরোপের পক্ষে ইশতেহার রচনা করেন, যেখানে এ প্রস্তাব রাখা হয় যে, ইউরোপের রাষ্ট্রগুলো প্রতিযোগিতার মধ্যে নয়, বরং সহযোগিতার বন্ধনে আবদ্ধ থাকবে।

এ ভেন্তোতেনি ইশতেহারই পরবর্তীকালে ইউরোপীয় কয়লা ও ইস্পাত সংস্থা এবং শেষ পর্যন্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠে। যৌথ অর্থনৈতিক স্বার্থকে একটি নৈতিক ও রাজনৈতিক প্রকল্পে রূপান্তরের ইতিহাসে এটি একটি অনন্য প্রয়াস। ২০০০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়েও এই প্রকল্প ছিল প্রাণবন্ত। বিশ্ববিদ্যালয়ের সেমিনারগুলোতে ইউরোপের ভবিষ্যৎ নিয়ে তর্ক-বিতর্ক চলত, কীভাবে বিদ্যমান কার্যকরী সংহতিকে রূপ দেওয়া যায় শক্তির পরিবর্তে ন্যায়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত একটি রাজনৈতিক সত্তায়।

আজ সেই স্বপ্নের একমাত্র আশ্রয় যেন আলবেনিয়া, যেই দেশটি আবারও সময়-সংরক্ষণাগারে বন্দি হয়ে গেছে। তার বর্তমান অবস্থা আমাকে জর্জি গোস্পদিনভের উপন্যাস ‘টাইম শেল্টার’-এর কথা মনে করিয়ে দেয়। এ উপন্যাসে মানুষ বসবাসের জন্য নিজের পছন্দের ঐতিহাসিক যুগ বেছে নিতে পারে। আলবেনীয়দের কল্পিত আদর্শ যুগ হলো ১৯৯০-এর দশকের ইউরোপীয় ইউনিয়ন। সেখানে নির্বাচন জেতা হতো ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে। আইন পাস হতো রাতারাতি।

তবে এরও মূল্য আছে। আলবেনিয়ার উপকূলে শেংজিন ও গিয়াদের শহরে গেলে এখনো সেখানে ইতালির নির্মিত কারাগারগুলো দেখা যায়। এসব কারাগারে একসময় বহিষ্কৃত আশ্রয়প্রার্থীদের আটক করে রাখা হতো। এ ইমারত আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় শঙ্কাপূর্ণ এক অতীতের, যার থেকে বিশ্ববাসী এখনো মুক্ত হতে পারেনি। এখানে কসমোপলিটান আদর্শ ও ভবিষ্যৎ ডিস্টোপিয়ার মাঝামাঝি এক সীমান্তভূমি দৃশ্যমান।

মার্চ মাসে ইতালীয় সংসদে দেওয়া এক ভাষণে প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি নতুন এ ব্যবস্থাকে সবচেয়ে স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেন। স্বাভাবিকভাবেই তিনি ভেন্তোতেনি ইশতেহারকেও আক্রমণ করেন, যেখানে বলা হয়—‘সবচেয়ে আগে যে সমস্যার সমাধান করা প্রয়োজন, তা হলো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জাতীয় ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের আকারে ইউরোপকে বিভক্ত রাখার নীতির অবসান ঘটানো।’ কিন্তু ইউরোপের বর্তমান পরিস্থিতির সমালোচনা করে মেলোনি বলেন, ‘আমি জানি না আপনারা এমন ইউরোপের স্বপ্ন দেখেছিলেন কি না, তবে আমি অন্তত এমন ইউরোপের স্বপ্ন দেখিনি।’

আজকের ইউরোপ ভেন্তোতেনির ফেডারালিস্টদের স্বপ্নের তুলনায় মেলোনির দল ‘ব্রাদার্স অব ইতালি’র কল্পনার সঙ্গে অনেক বেশি সাদৃশ্যপূর্ণ। ইউরোপীয় অভিজাতদের ভবিষ্যৎচিন্তা এখন মূলত সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে মেলোনির ‘অভিবাসন ব্যবস্থাপনা’ মডেলের প্রশংসা অথবা সামান্য বাণিজ্যিক সুবিধার আশায় ট্রাম্পের প্রতি অতিরঞ্জিত তোষামোদির খপ্পরে। অন্যদিকে ইউরোপকে পুনরায় সশস্ত্র করার আহ্বান জানিয়েছেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন। এসব আমাকে সত্যিই বিংশ শতাব্দীর আলবেনিয়ার বাংকার নির্মাণ অভিযানের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে।

সামনের বছরের কথা ভাবতে গিয়ে আমি আবার ফিরে যাই কান্টের দর্শনে। মানব ইতিহাসে কেউই নির্ভুলভাবে ভবিষ্যদ্বাণী করতে পারেনি। মানুষের ইতিহাস প্রকৃতির ইতিহাস থেকে আলাদা। কারণ, এটি স্বাধীন চিন্তার ওপর নির্ভরশীল, অনিবার্য নিয়তির ওপর নয়। একমাত্র সেই ভবিষ্যদ্বাণীই সত্য হতে পারে, যার বাস্তবায়নে ভবিষ্যদ্বক্তা নিজেই সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।

তাই কী ঘটতে পারে, তা নিয়ে জল্পনা না করে আমি ভ্যাক্লাভ হাভেলের ভাষায় আশার কথাই বলতে চাই, ‘আশাবাদহীন আশা’ নিয়ে। আমি বলতে চাই, এমন এক নৈতিক দায়িত্বের কথা, যা ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হলেও ধারণ করে রাখা প্রয়োজন। সেই আশা, যা ইউরোপের রাস্তায় আবার ফিরিয়ে আনতে পারে অভিবাসী অধিকারের পক্ষে আন্দোলন এবং যুদ্ধযন্ত্রের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ। অগ্রগতি কখনোই নিশ্চিত নয়, কিন্তু তা সর্বদা সম্ভব যদি আমরা নিরন্তরভাবে তার পক্ষে কাজ করে যাই। এ অনুমাননির্ভর ইতিহাসচিন্তার ধারায় ভেন্তোতেনি ইশতেহারের কসমোপলিটান সমাজতন্ত্রের প্রতিরোধী চেতনার পুনর্জাগরণই হয়তো আমাদের সবচেয়ে শক্তিশালী পথনির্দেশ বলে প্রমাণিত হবে।

লেখক: লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসের রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও দর্শন বিভাগের অধ্যাপক; লেখক ও গবেষক; যুক্তরাজ্যের ব্রিটিশ একাডেমির ফেলো। নিবন্ধটি আরব নিউজ-এর মতামত বিভাগ থেকে অনুবাদ করেছেন অ্যালেক্স শেখ

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মৃত্যুর গুজব ছড়ালেও সুস্থ আছেন অভিনেত্রী তানিয়া বৃষ্টি

স্কুল ফিডিং প্রকল্পে অনিয়ম ও নিম্নমানের খাবার সরবরাহের দায়ে গ্রেপ্তার ২

চলন্ত মাইক্রোবাসে আগুন

‘অবাস্তব কিছু দেখানো হয়নি’ সমালোচনা প্রসঙ্গে নীহা

বিয়ের অনুষ্ঠানে মসজিদে খেজুর ছিটানো যাবে কি

প্রচুর রাগ হলেও শাকিবই আমার রাগ ভাঙায়: বুবলী

তামিম-মোসাদ্দেকে ভর করে অজিদের চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য ছুড়ে দিল টাইগাররা

বিতর্কের মুখে ‘পেদ্দি’ থেকে মুছল জাহ্নবীর আবেদনময়ী দৃশ্য

একনেকে ৩৮৯১ কোটি টাকার ১০ প্রকল্প অনুমোদন, আটকে গেল খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রকল্প

১০ লিটার দুধ দিয়ে গোসল করে আর্জেন্টিনা সমর্থকের ব্রাজিলে যোগদান

১০

ডাকাতি করতে গিয়ে মা-মেয়েকে সঙ্ঘবদ্ধ ‘ধর্ষণ’

১১

বছরে কতবার পরিষ্কার করা হয় মসজিদে নববী?

১২

আত্মসমর্পণের পর পাঁচ আ.লীগ নেতা কারাগারে

১৩

সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে রোহিঙ্গা নিহত

১৪

একনেকে ১০ প্রকল্প অনুমোদন

১৫

কিউবায় ১৫০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প

১৬

পরম আমাকে বিয়ে করেনি বলে তাদের ভীষণ দুঃখ: রাইমা

১৭

চুক্তি ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়াতে সেতু কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ শুরু

১৮

আ.লীগ নেতা রানা গ্রেপ্তার

১৯

দক্ষিণ লেবাননে নতুন করে ইসরায়েলি হামলা, বহু হতাহত

২০
X