

দিন যত যাচ্ছে, ততই নতুন নতুন সমীকরণের সামনে বিসিবির নির্বাচন। আসন্ন পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন কে, সে প্রশ্নের উত্তরও এখন মোটামুটি স্পষ্ট। বর্তমান প্রেসিডেন্ট আমিনুল ইসলাম বুলবুলকে সামনে রেখেই সমঝোতার পথে এগোচ্ছেন জেলা, বিভাগ ও ক্লাবের প্রতিনিধিরা। সেক্ষেত্রে সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট হয়েই বিসিবিতে দেখা মিলতে পারে সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালের। আর ভাইস প্রেসিডেন্ট হয়ে ফিরবেন সাবেক প্রেসিডেন্ট ফারুক আহমেদও। আপাতত এই সমীকরণটা মোটামুটি সবার জানা থাকলেও এখানেও আছে শঙ্কা। বুলবুলকে প্রেসিডেন্ট করে যে সমীকরণ সাজানো হচ্ছে, সেখানে বাধা একটি পক্ষ। সাজানো আর সমঝোতার নির্বাচনে রাজি নন তারা। সে কারণেই বিকল্প ভাবনা থেকে সমঝোতার বাইরে গিয়ে নির্বাচনের ভাবনা কয়েকজন প্রভাবশালী ক্রিকেট সংগঠকের।
বিসিবি নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট হতে চেয়েছিলেন তামিম ইকবাল। সেই লক্ষ্য নিয়েই কয়েক সপ্তাহ ধরে কাজ করতে দেখা গিয়েছিল সাবেক এই অধিনায়ককে। কিন্তু এখন বদলে গেছে সব হিসাব। শোনা যাচ্ছে, নানামুখী চাপ আর অনুরোধে বুলবুলকে প্রেসিডেন্ট মেনেই সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট হতে সমঝোতায় পৌঁছেছেন বাঁহাতি এই ওপেনার। সমঝোতার এই প্রক্রিয়ায় ক্রীড়া প্রশাসনেরও সংশ্লিষ্টতার কথা বেশ জোরেশোরেই আলোচনা হচ্ছে ক্রিকেট অঙ্গনে। সবকিছুই নাকি হচ্ছে ক্রীড়া উপদেষ্টার জ্ঞাতসারে—এমন দাবি করে তামিমের সমঝোতার পর নাকি ক্লাব প্রতিনিধিদের মধ্যে কয়েকজন বিপরীতে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
বিসিবি নির্বাচনে জেলা ও বিভাগগুলোতে প্রার্থী বেশি হলেও বড় কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস নেই। কিন্তু ১২ ক্লাব প্রতিনিধির জায়গায় ৩২ জনের মনোনয়ন সংগ্রহই এখন বড়সড় অঙ্ক তৈরি করেছে। অর্থাৎ আমিনুল ইসলাম বুলবুলের পক্ষে কাজ করতে রাজি হচ্ছে না একটি পক্ষ। এমনকি ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে সাবেক প্রেসিডেন্ট ফারুক আহমেদেও আস্থা নেই তাদের। এই পক্ষে থাকা কাউন্সিলরদের সংখ্যাও কম নয়। নির্বাচনী হিসাব পাল্টে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট বলেই দাবি তাদের।
জানা গেছে, নির্বাচন ইস্যুতে তামিমের সঙ্গে কিছুটা দূরত্ব তৈরি হয়েছিল বিসিবির বর্তমান পরিচালক ফাহিম সিনহার। তবে ঘণ্টাখানেকের মধ্যে সেটা ঠিকও হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু যখনই নির্বাচনে ক্লাব প্রতিনিধিদের মেরূকরণ শুরু হয়, তখনই আবার সবকিছু বদলে গেছে। সমঝোতার অংশ হিসেবে ক্লাব কোটায় ১২ জন থেকে অন্তত তিনজন বুলবুলপন্থি করার দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বেশ কয়েকজন সমমনাকে পরিচালকের পদ হারাতে হবে, আর তাতেই আপত্তি ফাহিম সিনহা ও ইফতেখার মিঠুদের। জোর গুঞ্জন, এ কারণেই লুৎফর রহমান বাদল, মঞ্জুরুল আলম, আদনান রহমান দিপন, ফায়জুর রহমান মিতু, শিপলুসহ অনেকেই নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন। আর যদি এমন কিছুর পরিপ্রেক্ষিতে একাধিক পরিচালকও নির্বাচিত হয়েই যানে, তবে নিশ্চিত পাল্টে যাবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মেরূকরণও। সব মিলিয়ে বিসিবির নির্বাচন নিয়ে যেমন আছে সমঝোতার সম্ভাবনা, তেমনি আছে তুমুল ভোটের সম্ভাবনাও। তবে সব সম্ভাবনার চূড়ান্ত রূপরেখা নিয়ে কিছুটা ধারণা পাওয়া যেতে পারে।