

সিলেট টেস্ট দাপটের সঙ্গে জিতেছে বাংলাদেশ। পুরো চার দিনও খেলতে হয়নি নাজমুল হোসেন শান্তর দলকে। দুই সেঞ্চুরিতে আয়ারল্যান্ডের সামনে রানের পাহাড় চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিলেন স্বাগতিকরা। বোলারদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ইনিংস ও ৪৭ রানের ব্যবধানে জিতেছেন নাজমুলরা। বাংলাদেশের হয়ে সেঞ্চুরি পাওয়া অধিনায়ক নাজমুলের পরিসংখ্যানও এ মুহূর্তে তার প্রশংসার দাবি তোলে। তবে এখনই এত প্রশংসা নিতে চাচ্ছেন না তিনি। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে বললেন, ‘এত ভালো কথা শোনার অভ্যাস নেই।’
শ্রীলঙ্কার মাটিতে একই টেস্টের দুই ইনিংসে সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন নাজমুল। পরের সিরিজের শুরুতেও পেলেন সেঞ্চুরি। ক্যারিয়ারের পাঁচ ফিফটির বিপরীতে সেঞ্চুরি সংখ্যা এখন ৮টি। ফিফটিকে সেঞ্চুরিতে রূপ দেওয়ার দিক থেকে ব্র্যাডম্যান আর জর্জ হ্যাডলির পরই নাজমুলের অবস্থান। তবে মাত্রই ক্যারিয়ার শুরু—এখনই এমন প্রশংসা নিতে পারছেন না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ভাই মাত্র মনে হয় ৩৮ টেস্ট খেলেছি। এখনই এত ভালো ভালো কথা শোনার আসলে অভ্যাস আমার নেই। আমার মনে হয় মুশফিক ভাই ৯৯ টেস্ট খেলে ফেলেছেন, ১০০ কিংবা ১৫০ টেস্ট খেলার পর যদি এরকম ধারাবাহিক হতে পারি, তাহলে আমি বলতে পারব আমি মনে হয় ভালোভাবে ক্যারিয়ারটা শেষ করতে পেরেছি।’ ক্যারিয়ারের শুরুতে এমন অর্জনকে খুব বড় করে দেখার সুযোগ নেই জানিয়ে তিনি যোগ করেন, ‘শুরুটা ভালো, তবে আমি যেটা বললাম সবেমাত্র ৩৮ টেস্ট। যদি ক্যারিয়ার শেষে এরকম ধারাবাহিক থাকতে পারি তাহলে ভালো লাগবে। কিন্তু আমি চিন্তা করে করি না। চেষ্টা করি যখনই থিতু হই, কীভাবে দলের জন্য বড় রান করতে পারি।’
শ্রীলঙ্কা টেস্টের চেয়ে সিলেট টেস্টে চ্যালেঞ্জের পরিমাণ কমই ছিল বাংলাদেশের। প্রতিপক্ষ, কন্ডিশন সবকিছুই আলাদা সুবিধা দিয়েছে। নাজমুলও সেটা বিশ্বাস করেন, ‘শ্রীলঙ্কার সঙ্গে ভিন্ন চ্যালেঞ্জ ছিল। ওখানে ওদের বোলিং আক্রমণও ভিন্ন ছিল। ওদের স্পিন বেশি খেলা লাগছে আমাদের। ওই জায়গাটাতে একটু ভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ ছিল। এখানে যে রকম পেস বোলাররা বেশ কিছু ওভার বল করেছে। কন্ডিশনটা ভিন্ন। সুতরাং ব্যাটিংয়ের দিক দিয়ে আমি খুব বেশি আলাদা করব না। কন্ডিশন ও প্রতিপক্ষের শক্তি ভিন্ন ছিল, ওই অনুযায়ী ব্যাটিং করার চেষ্টা করেছি।’ তবে আয়ারল্যান্ডের মতো প্রতিপক্ষের বিপক্ষে নিয়মিত খেলা হলে ম্যাচ সংখ্যা যেমন বাড়বে, তেমনি নিজেদের শক্তি সামর্থ্যও আরও পরখ করা যাবে বলে মনে করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক, ‘অবশ্যই পজিটিভ ব্যাপার। আমরা তো সব দলের সঙ্গে খেলতে চাই। আপনি যেটা বললেন যে আমরা কম ম্যাচ খেলি। সুতরাং সবার সঙ্গে খেলার সুযোগটা থাকলে আমাদের উন্নতি করার জায়গাটাও থাকে। আমরা কী অবস্থানে আছি এটা বোঝাটাও সহজ হয়।’
সিলেট টেস্টের পর এবার সিরিজ নিশ্চিতের ম্যাচটি খেলতে হবে মিরপুরে। এই মাঠে কখনো কখনো উইকেটই প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়াতে পারে। সেসব চ্যালেঞ্জ নিশ্চিতভাবেই মাথায় রাখছেন নাজমুলরা। একই সঙ্গে মিরপুরে ক্যারিয়ারের শততম টেস্ট খেলার অপেক্ষায় থাকা মুশফিকুর রহিমকে নিয়েও রোমাঞ্চিত তারা, ‘অবশ্যই অনেক বড় একটা অর্জন, খুবই রোমাঞ্চিত। আমি প্রথম দিনের প্রেস কনফারেন্সে বলেছিলাম আমরা উদযাপন করতে চাই। খেলোয়াড়রা চাই ওই দিনটা বা ওই পুরো পাঁচটা দিন আমরা উপভোগ করব। সম্মানের জায়গা তো আছেই। এরকম একটা অর্জন আমাদের বাংলাদেশে কখনো হয়নি। সুতরাং আমরা সবসময় আশা করি এরকম একটা মানুষকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে আমাদের সম্মানটুকু দেওয়া উচিত এবং অধিনায়ক হিসেবে ওই জিনিসটা করারই চেষ্টা করব।’ একশ টেস্টের পরও মুশফিককে আরও লম্বা সময় টেস্ট দলে দেখতে চান অধিনায়ক, ‘আমি আশা করব মুশফিক ভাই ১০০ টেস্ট খেলার পরও যেন উনি আরও চালিয়ে যান। কারণ, ওরকম অভিজ্ঞ খেলোয়াড় আমাদের টেস্ট দলে প্রয়োজন। আমি আশা করব, সেটাও যেন উনি চালিয়ে যান।’
মিরপুরের উইকেট কেমন থাকবে সেটাও পরিষ্কার করে দিলেন নাজমুল, ‘নির্ভর করে আসলে প্রতিপক্ষ কীরকম। কিন্তু সবসময় যদি সুযোগ থাকে অবশ্যই স্পোর্টিং উইকেটে খেলাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দিনশেষে আপনার এটাও ভাবতে হবে এটা একটা আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেট। এখানে খেলা জেতাটাও গুরুত্বপূর্ণ। সুতরাং জেতার জন্য যতটুকু সুযোগ-সুবিধা নেওয়া দরকার, সেটাও নিতে হবে।’