

প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ১০০তম টেস্ট খেলার অপেক্ষায় মুশফিকুর রহিম। দারুণ এই মাইলফলক সামনে রেখে প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। দীর্ঘ ২০ বছরের ক্যারিয়ার। এত বছরেও অনুশীলনের নেটে কিংবা টিম হোটেলের লবিতে যেন সেই তরুণ মুশফিককেই দেখা মেলে। পরিশ্রম আর পেশাদারিত্বে নিজেকে এতটাই অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন তিনি। তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য মুশফিকের লম্বা এই জার্নি আদর্শও বটে। শুধু সতীর্থই নন, প্রতিপক্ষও মুগ্ধতার সঙ্গে দেখেছে মুশফিকের লম্বা এই ক্যারিয়ার। আয়ারল্যান্ডের প্রধান কোচ হেনরিখ মালানও সে মুগ্ধতা লুকাতে পারলেন না।
দক্ষিণ আফ্রিকান কোচ মালানের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতা নেই। মুশফিকুর রহিমকে তাই কাছ থেকে দেখাও হয়নি তার। তবে মুশফিকের যখন ক্যারিয়ারের শুরু, তখনকার সময়ে ঘরোয়া ক্রিকেট ছেড়ে কোচিংয়ে মনোযোগী হতে শুরু করেন মালান। এখন আয়ারল্যান্ডের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। আগামী মঙ্গলবার হতে যাওয়া ঢাকা টেস্ট সামনে রেখে গতকাল অনুশীলনের পর সংবাদ সম্মেলনে এসেছিলেন এই প্রোটিয়া কোচ। তখনই মুশফিকুর রহিমের কোন জিনিসটা তার দলের ক্রিকেটারদের মধ্যেও চান প্রশ্নে মালান বলেন, ‘আমি বলব তার পেশাদারিত্ব।’
কেন মুশফিকের পেশাদারিত্বই নেওয়ার পরামর্শ দিলেন, সে গল্পটাও শোনালেন তিনি, ‘আমি ভোরে ওঠা মানুষদের একজন। প্রতিদিন সকাল পৌনে ৬টায় তাকে (মুশফিক) হোটেলে দেখি নাশতা করছে। সবার আগে বাসে ওঠে। সে যখন মাঠে আসে, ওয়ার্মআপ করে, ব্যাটিং অনুশীলন করে—তখনো বাকিরা হয়তো এসেই পৌঁছায়নি। যখন আপনি পর্দার আড়ালে এত কিছু করবেন, তখন আপনার দিকে আলো আসবেই।’ মুশফিকের এই প্রশংসাটা পুরোনো বলা চলে। খেলা থাকুক না থাকুক, অনুশীলন থাকুক বা না থাকুক—সব সময়ই নেটে ঘাম ঝরিয়েছেন তিনি। তার সুফলই বলা চলে শততম টেস্ট খেলার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়ানো।
অনেক দেশের ক্ষেত্রে ১০০ তো পরের হিসাব, দশটা টেস্ট খেলাও এখনো হয়ে ওঠেনি। এই যেমন আয়ারল্যান্ডও সবে মাত্র ১১টি টেস্ট খেলেছে। বাংলাদেশের বিপক্ষে ঢাকায় ১২তম টেস্ট খেলবে তারা। তাইতো মালান মুশফিকের এই অর্জনকে হিমালয়ের সমান উঁচুতে তুললেন, ‘দেশের হয়ে ১০০ টেস্ট খেলাটা দারুণ একটা অর্জন। আমরা দল হিসেবেই মাত্র ১০টা
(সিলেট টেস্টসহ ১১টি) টেস্ট খেলেছি। এই জিনিসটা থেকেই আপনি বুঝতে পারবেন, কতটা দীর্ঘ পথ সে পাড়ি দিয়েছে। অনেক পরিশ্রম করেছে টেস্ট ক্রিকেটের জন্য।’
ঢাকা টেস্ট মুশফিকের জন্য বিশেষ হতে যাচ্ছে। বিসিবিও তাই ব্যাপক আয়োজন রেখেই সবকিছু তৈরি করে যাচ্ছে। স্মরণীয় এক ম্যাচ খেলতে যাওয়া মুশফিককে অভিনন্দন জানিয়ে রাখলেন আয়ারল্যান্ডের কোচও, ‘আশা করি, আগামী ৫ দিন তার জন্য খুব একটা ভালো যাবে না (হাসি)। তবে তাকে অভিনন্দন।’ প্রতিপক্ষ হলেও আয়ারল্যান্ডের জন্যও এই ম্যাচটি হতে যাচ্ছে বিশেষ এক মুহূর্তের সাক্ষী। কেননা, ম্যাচটা মুশফিকের শততম টেস্ট। কোনো বাংলাদেশির জন্য প্রথম মাইলফলক।