

দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে আরও শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে বিভিন্ন ক্রীড়া ফেডারেশনের আর্থিক সহায়তা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার। এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট মহলের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বয়ের মাধ্যমে ফেডারেশনগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। ক্রিকেটের বাইরে অন্যান্য ফেডারেশনের মেধাবী ক্রীড়াবিদদেরও আর্থিক সহায়তার আওতায় আনা হবে নিশ্চিত করেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। শনিবার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে ক্রীড়া কার্ড কর্মসূচি নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব পরিকল্পনা তুলে ধরেন আমিনুল হক।
ক্রিকেট, ফুটবলের বাইরে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনকে কল্পনাও করা যায় না। বৈশ্বিক আসরগুলো থেকে পদক জিতে এসেও জীবন মান পরিবর্তন হয় না অনেকেরই। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নানাভাবেই পিছিয়ে পড়েছেন ক্রীড়াবিদরা। এবার তাদের জন্য নতুন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। নির্বাচনী ইশতেহারকে প্রাধান্য দিয়ে ক্রীড়াবিদদের জন্য আর্থিক অনুদান ‘ক্রীড়া কার্ড’ চালু করতে যাচ্ছে জানিয়ে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ক্রীড়া হবে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা—এ স্লোগান সামনে রেখে আমরা জাতীয় পর্যায়ের ক্রীড়াবিদদের ভাতার আওতায় আনছি। ৩০ মার্চ প্রধানমন্ত্রী (তারেক রহমান) ক্রীড়া কার্ড প্রদান করবেন। ক্রীড়া কার্ডের পাশাপাশি গত এক বছরে বাংলাদেশের হয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাফল্য বয়ে আনা ক্রীড়াবিদদের সম্মাননাও প্রদান করা হবে।’
প্রাথমিকভাবে ৫০০ জন ক্রীড়াবিদকে এই ভাতার আওতায় আনার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। প্রথম ধাপে প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে ভাতা পাবেন ১২৯ জন ক্রীড়াবিদ। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে এ সংখ্যা বাড়ানো হবে। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রতি চার মাস অন্তর ক্রীড়াবিদদের পারফরম্যান্স ও অন্যান্য বিষয় যাচাই-বাছাই করে এই তালিকা হালনাগাদ করা হবে। তবে এ সুবিধার বাইরে থাকছেন ক্রিকেটাররা। আমিনুল হক বলেন, ‘ক্রিকেটাররা যেহেতু আর্থিকভাবে ভালো তাই ক্রিকেট বাদে ফুটবল থেকে শুরু করে অন্য খেলার খেলোয়াড়দের দেয়া হচ্ছে।’ ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ক্রিকেট নিয়ে বেশি মন্তব্য করেন বলে একটা অভিযোগ আছে নেটিজেনদের। তবে আমিনুল হক বলছেন ভিন্ন কথা, ‘আমাদের কাছে সকল খেলা সমান এবং সকল খেলার একই গুরুত্ব। ক্রিকেট যেমন আমাদের খেলা, ফুটবল, হকি, আরচারিও আমাদের খেলা। সকল খেলার খেলোয়াড়দেরই আমরা সমান মর্যাদা দিচ্ছি।’
খেলোয়াড়দের পাশাপাশি ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোর উন্নয়ন নিয়েও ভাবছে সরকার। গত কয়েক বছরে আর্থিক সংকটের কারণে কয়েকটি ফেডারেশন বিভিন্ন আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পারেনি। ক্রীড়া উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা বাড়লেও ফেডারেশনগুলোর পিছিয়ে পড়া পুরোপুরি ঠেকানো যায়নি। এ প্রেক্ষাপটে পিছিয়ে পড়া ফেডারেশনগুলোর জন্য আর্থিক সহায়তা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী, যাতে তারা নিয়মিত প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারে এবং দেশের ক্রীড়াঙ্গন আরও শক্তিশালী হয়। তিনি বলেন, ‘যখন খেলোয়াড় ছিলাম তখন আপনাদের মাধ্যমেই নানা সমস্যার কথা বলেছি। এখন দায়িত্বশীল জায়গায় রয়েছি—চেষ্টা করছি অনকে সমস্যা সমাধানের। আমাদেরও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ইতোমধ্যে আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা বলেছি। ফেডারেশনগুলোকে আর্থিক সহায়তা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি সুস্থ ক্রীড়া পরিবেশ গড়ে তুলতে মাঠ দখলমুক্তের কাজও চলছে।’ আগামী মাসের শেষের দিকে নতুন কুড়ি স্পোর্টসের মাধ্যমে জেলা-বিভাগের মেধাবীদেরও আর্থিক সহায়তার আওতায় আনবে সরকার।