

শিশুরা বাড়ন্ত বয়সে সারাদিন দৌড়ঝাঁপ-খেলাধুলা করার পর সন্ধ্যা বা রাতের বেলা পায়ের ব্যথা অনুভব করে। পা টিপে দিলে আরাম বোধ করে এবং ঘুম থেকে উঠলে আর ব্যথা থাকে না। এ ধরনের ব্যথাকে গ্রোয়িং পেইন বা গ্রোথ পেইন বলে। ৩ থেকে ১২ বছরের শিশুদের এ ধরনের সমস্যা হতে পারে।
গ্রোয়িং পেইনের কারণ
গ্রোয়িং পেইনের কারণ অজানা। তবে কিছু সমস্যাকে দায়ী করা হয়। এর মধ্যে শিশুরা অনেক সময় সারাদিন দৌড়ঝাঁপ, লাফালাফি করার পর যখন রাতে বিশ্রামে যায়, তখন পায়ের মাংসপেশি পুলিং হয় ও ব্যথা অনুভব করে। তা ছাড়া খাদ্য তালিকায় ভিটামিন ‘ডি’ ও ক্যালসিয়ামের অভাবেও গ্রোয়িং পেইন হতে পারে বলে কিছু গবেষণায় দেখা গেছে। শিশুদের বৃদ্ধির সময় পেশি ও হাড়ের বৃদ্ধির সমন্বয়হীনতার কারণে এরকম হতে পারে। শিশুর ওজন বেড়ে যাওয়া গ্রোয়িং পেইনের জন্য একটি ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়।
লক্ষণ: পায়ে ব্যথা সাধারণত সন্ধ্যার পর বা রাতের বেলায় অনুভূত হয়। ব্যথা সাধারণত ঊরুর পেশি বা পায়ের পেছনের পেশিতে অনুভূত হয়। ব্যথা কয়েক মিনিট থেকে কয়েক ঘণ্টা স্থায়ী হতে পারে।
রোগ নির্ণয়
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রোগের ইতিহাস থেকে এ রোগ শনাক্ত করা সম্ভব। ল্যাবরেটরির ফল স্বাভাবিক থাকে, অনেক সময় রক্তে ভিটামিন ‘ডি’ ও ক্যালসিয়ামের মাত্রা কম থাকে।
চিকিৎসা
গ্রোয়িং পেইনের জন্য কোনো বিশেষ চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না, তবে বাবা-মাকে আশ্বস্ত করা প্রয়োজন যে, এটি কোনো মারাত্মক রোগ নয়। ব্যথা খুব বেশি হলে প্যারাসিটামল দেওয়া যেতে পারে। পায়ে গরম সেক ও হালকা ম্যাসাজ করলে ব্যথা কমে। শিশুকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও স্ট্রেচিং করালে উপকার পাওয়া যেতে পারে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর যদি ভিটামিন ‘ডি’ ও ক্যালসিয়ামের মাত্রা রক্তে কম থাকে, তাহলে ভিটামিন ‘ডি’ ও ক্যালসিয়াম জাতীয় খাবার দেওয়া যেতে পারে।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন
যদি ব্যথা তীব্র হয় এবং দৈনন্দিন কাজকর্মকে ব্যাহত করে। জয়েন্ট বা গিরা ফোলা, গিরা লাল হয়ে যাওয়া, জ্বর থাকা বা র্যাশ দেখা গেলে। এত ব্যথা যে সকালে পা ফেলতে পারে না, ওজন কমে যায় ইত্যাদি উপসর্গ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
বেশিরভাগ বাবা-মায়েরা গ্রোয়িং পেইনকে বাতজ্বর, বাতরোগ, হাড়ের ক্যান্সার ভেবে উদ্বিগ্ন থাকেন। আপনার শিশুর পায়ে ব্যথা নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকলে একজন শিশু চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন।
ডা. শামীমা ইয়াসমীন
সহযোগী অধ্যাপক (শিশু)
শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ, সিরাজগঞ্জ, চেম্বার: আলোক মাদার অ্যান্ড চাইল্ড কেয়ার, মিরপুর-৬