

পুরো রমজানে সরকারি-বেসরকারি সব মাধ্যমিক ও নিম্ন-মাধ্যমিক বিদ্যালয় বন্ধ রাখতে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। গতকাল সোমবার চেম্বার আদালতের বিচারপতি ফারাহ মাহবুব এ আদেশ দেন। আদালতে এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হক।
কয়েকদিন পরই শুরু হচ্ছে মুসলমানদের সিয়াম-সাধনার মাস রমজান। আর এই পুরো রমজান মাসে সরকারি-বেসরকারি নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক স্কুল বন্ধ রাখতে গত রোববার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবকে এ নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়।
হাইকোর্টের বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের দ্বৈত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. ইলিয়াস আলী মন্ডল ও তানজিনা ববি লিজা।
পুরো রমজানে স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশনা চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইলিয়াস আলী মন্ডল হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় গত ২০ জানুয়ারি রিট করেন। এর আগে, ৫ জানুয়ারি রমজানে স্কুল বন্ধ রাখতে সরকারকে আইনি নোটিশ দেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. ইলিয়াস আলী মন্ডল। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবকে এ নোটিশ পাঠান তিনি। সেই নোটিশের জবাব না পাওয়ায় রিট করা হয়েছিল।
যাতে বলা হয়, দেশের ৯৮ শতাংশ নাগরিক মুসলমান। বাংলাদেশ স্বাধীনের পর থেকে রমজান মাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে, এটিই আইন, প্রথা ও নীতি এবং ওইভাবে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রমজান মাসে বন্ধ থাকে। সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, আইন ছাড়া কিছুই করা যাবে না, অনুচ্ছেদ ১৫২(১) অনুযায়ী আইন অর্থ বাংলাদেশে আইনের ক্ষমতা সম্পন্ন যে কোনো প্রথা ও রীতি। তাই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় রমজান মাসে খোলা রাখার সরকারের সিদ্ধান্ত অসাংবিধানিক।