

গত বছরের জুলাই-আগস্ট আন্দোলন চলাকালীন বুলেট ও পিলেটের আঘাতে চিরতরে দুই চোখ হারিয়েছেন ১১ জন এবং ৪৯৩ জন তাদের এক চোখের দৃষ্টি হারিয়েছেন বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ সাক্ষ্য দিয়েছেন জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট হাসপাতালের রেটিনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক চিকিৎসক জাকিয়া সুলতানা নীলা। গতকাল সোমবার ২০২৪ সালের ১৭ জুলাই থেকে ৬ আগস্ট পর্যন্ত হাসপাতালের বিভিন্ন অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে ট্রাইব্যুনালে তিনি এ জবানবন্দি দেন।
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এ মামলায় অষ্টম দিন পর্যন্ত ৮১ জনের মধ্যে ২৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। এর আগে ১৯ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়।
চিকিৎসক জাকিয়া সুলতানা নীলা বলেন, বিক্ষোভ চলাকালে গুলি লেগে অসংখ্য আন্দোলনকারী চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তাদের অনেকে দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন।
৪, ৫, ৬ আগস্ট অনেক বেশি রোগী গ্রহণ করার
কথা জানিয়ে এই চিকিৎসক জবানবন্দিতে বলেন, গুলিবিদ্ধ ৮৬৪ জন চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে ভর্তি হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে ৪৯৩ জন চিরতরে এক চোখ ও উভয় চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন ১১ জন। দুই চোখে গুরুতর দৃষ্টি স্বল্পতায় ভুগছেন এমন রোগীর সংখ্যা ২৮ জন। আর এক চোখে গুরুতর দৃষ্টি স্বল্পতায় ভুগছেন এমন রোগীর সংখ্যা ৪৭ জন।
১৮ ও ১৯ জুলাই ছিল সবচেয়ে বেশি রক্তাক্ত দিন উল্লেখ করে এ চিকিৎসক বলেন, অধিকাংশই মেটালিক পিলেট ও কেউ কেউ বুলেট দ্বারা আহত ছিলেন। আমি অপারেশন থিয়েটারে ছিলাম, খবর পেলাম জরুরি বিভাগে উপচে পড়া ভিড়। ভয়াবহ দৃশ্য দেখেছি। শতাধিক রোগী রক্তাক্ত চোখ ধরে বসে আছেন। তাদের সবার বয়স ১৪ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে। কেউ এক চোখ ধরে বসে আছেন, কেউ দুই চোখ। গুলিতে চোখ ছিদ্র হয়ে রক্ত ঝরছিল।
চোখের বিভিন্ন ধরনের আঘাতের ব্যাখ্যা দিয়ে এই চিকিৎসক বলেন, আহতের ধরনে— কারও কর্নিয়া ছিদ্র, কারও চোখের সাদা অংশ ছিদ্র কিংবা কারও চোখ ফেটে যাওয়া অবস্থায় ছিল।
অধিকাংশ রোগী নিজের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে ওই সময় নিজের ডাক নাম ব্যবহার করেন জানিয়ে তিনি বলেন, নিরাপত্তা কৌশলের অংশ হিসেবে হাসপাতালে ভর্তি রোগীরা ছদ্মনাম, ভুল মোবাইল নম্বর ও ভুল জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর দিয়েছেন।