

ভোটযুদ্ধে নামার আগে নিজের নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-১৭ আসনে কড়াইলবাসীদের কাছে দোয়া চাইলেন এই আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে মহাখালী টিঅ্যান্ডটি কলোনি মাঠে বিএনপির সদ্যপ্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় এক দোয়া মাহফিল-পূর্ব অনুষ্ঠানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এলাকাবাসীর কাছে দোয়া চান। আগামীকাল বৃহস্পতিবার সিলেটে হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরাণ (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করে আনুষ্ঠানিক প্রচারাভিযান শুরু করবেন তারেক রহমান। তিনি ঢাকা-১৭-এর পাশাপাশি বগুড়া-৬ থেকেও নির্বাচন করছেন।
তারেক রহমান বলেন, দোয়া শুরুর আগে দু-একটা কথা বলতে চাই। আমি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ছেলে। এখানে অনেক মুরুব্বি আছেন, যারা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে দেখেছেন। আমি খালেদা জিয়ার সন্তান, আমি আমার দলের একজন কর্মী। আজকে হাজির হয়েছি একটা দোয়া অনুষ্ঠানে। যেহেতু আমরা রাজনীতি করি, এই রাজনীতিটা আপনাদের মতো সাধারণ মানুষের জন্য। আপনাদের দৈনন্দিন জীবন কীভাবে একটু ভালো হতে পারে, সেটি হচ্ছে আমাদের কাজ, আমাদের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য। তাই আপনাদের কাছে আমি দোয়া চাই, আল্লাহর রহমত চাই। আল্লাহ যদি তৌফিক দেন, আমরা ইনশাআল্লাহ যে কোনো কাজে সফল হতে পারব।
কড়াইলের কয়েকজনের বক্তব্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখানে হাজার হাজার মা-বোন বসে আছেন। সারা দেশে মা-বোনেরা কষ্টের মধ্যে আছেন। আল্লাহ যদি আমাদের তৌফিক দেন, আমরা সেই মা-বোনদের জন্য কিছু করতে চাই; তারা যাতে সচ্ছলভাবে চলতে পারেন, তাদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড নামে একটি কার্ড দিতে চাই, যাতে করে মা-বোনদের উপকার হয়। কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড দিতে চাই। আল্লাহ যদি তৌফিক দেন এবং আপনাদের যদি দোয়া-সমর্থন থাকে, আমরা এই কাজগুলো করতে সক্ষম হব।
আগামী প্রজন্মের জন্য শিক্ষাব্যবস্থার কথাও বলেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, কড়াইলবাসীরা এখানে বসবাস করেন। আপনাদেরও সন্তান আছে, আমারও সন্তান আছে। আমাদের ভবিষ্যৎ হচ্ছে আজকের সন্তানরা। আমরা চাই, দালানে যে থাকে, তার সন্তান যেমন শিক্ষার সুযোগ-সুবিধা পাবে, ঠিক একইভাবে কড়াইল বস্তিতে যে মানুষগুলো থাকে, তাদের সন্তানরাও সেই সুযোগ-সুবিধা পাবে। তাদের সন্তানরাও যাতে লেখাপড়ার সুযোগ পায়, তারা যাতে খেলাধুলার সুযোগ পায়, তারা যাতে বিদেশি ভাষা শিখতে পারে, তাদের সন্তানরাও যাতে চিকিৎসা সুবিধা পেতে পারে, আল্লাহ যদি রহম করেন, আমরা আপনাদের জন্য সেই ব্যবস্থা করতে চাই।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, আমরা রাজনীতি করি মানুষের জন্য, আপনাদের জন্য। এর আগেও বিএনপি যতবার রাষ্ট্র পরিচালনা করেছে, বিএনপি মানুষের কাছে যে জবান দিয়েছে, আমরা আমাদের সাধ্য নিয়ে চেষ্টা করেছি সেই জবান রক্ষা করার জন্য। আজকে আমি একটা কথা বলতে চাই। আমি জানি না এটা নির্বাচনী আচরণবিধিতে পড়বে কি না, কেউ ষড়যন্ত্র করবে কি না; আমি আল্লাহর রহমত নিয়ে বলতে চাই, আপনাদের যদি প্রত্যেকের দোয়া থাকে, আল্লাহ যদি রহম করেন, আমি এখানে কয়েকটি কাজ করতে চাই। এখানে উঁচু ও বড় বড় বিল্ডিং করে দিতে চাই। এখানে যে মানুষগুলো থাকে, তাদের নাম রেজিস্ট্রি করে তাদের প্রত্যেকের নামে ফ্ল্যাট দিতে চাই। এখানে যারা বহু বছর আছেন, তাদের আমরা সেগুলো দিতে চাই, যাতে করে তাদের ঢাকা শহরে মাথাগোঁজার ঠাঁই হয়। সব কিছু নির্ভর করছে আপনাদের দোয়ার ওপরে।
কড়াইল বস্তিতে শিশুদের জন্য দুটি স্কুল ও খেলার মাঠ তৈরির ব্যবস্থা করার কথাও বলেন তিনি। চিকিৎসার ব্যবস্থাও এখানে করার কথা বলেন।
কড়াইলবাসীর উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, আপনারা কম-বেশি সবাই জানেন, যে বাড়িতে দেশ স্বাধীনের পর থেকে আমরা থাকতাম, স্বৈরাচারের সময়ে কীভাবে সেই বাড়িটিকে ভেঙেচুরে গুঁড়িয়ে দিয়ে গেছে। তার পরও আজো আমি আপনাদের এলাকার সন্তান। আগে থাকতাম ক্যান্টনমেন্টে, এখন উঠেছি গুলশানে। আপনাদের আরও কাছাকাছি, আপনাদের পাশাপাশি। কাজেই আমি আপনাদেরই সন্তান। ইনশাআল্লাহ, এতটুকু আমি আপনাদের বলতে পারি, যতদিন বেঁচে থাকব, যতদিন আল্লাহর রহমত থাকবে আমার ওপরে, ইনশাআল্লাহ আমি আপনাদের পাশে থাকব।
দোয়া মাহফিলে তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও উপস্থিত ছিলেন। বিএনপি চেয়ারম্যানের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট আবদুস সালামের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক প্রমুখ নেতারাও ছিলেন।
মন্তব্য করুন