

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে মেহেরপুর জেলার দুটি সংসদীয় আসনে ভোটের রাজনীতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। মেহেরপুর-১ (সদর ও মুজিবনগর) ও মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনে প্রধানত বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীদের মধ্যেই ভোটের মূল লড়াই হতে যাচ্ছে। তবে মেহেরপুর-১ আসনে বিএনপি এগিয়ে থাকলেও অন্যটিতে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেছে।
মেহেরপুর-১: এ আসনে এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন চার প্রার্থী। তারা হলেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ অরুণ, জামায়াতের তাজউদ্দিন খান, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থী আব্দুল হামিদ।
তবে মাঠের বাস্তবতায় এ আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠেছে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীর মধ্যেই। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অতীতে জামায়াতে ইসলামীর এ আসনে গড়ে প্রায় ২৯ হাজার ভোটব্যাংক ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে তাদের সমর্থক ও ভোটার সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে বলে দাবি থাকলেও সাধারণ ভোটারদের ধারণা বিএনপি প্রার্থী মাসুদ অরুণই এখানে বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন।
এ আসনের মনোনয়ন ঘিরে বিএনপির ভেতরে শুরুতে কিছুটা কোন্দল থাকলেও প্রার্থী ঘোষণার পর দলটির নেতাকর্মীরা একত্রিত হয়ে মাসুদ অরুণের পক্ষে মাঠে নেমেছেন। এতে তার অবস্থান আরও শক্ত হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
মেহেরপুর-২: গাংনী উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনজন প্রার্থী। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আমজাদ হোসেন, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী নাজমুল হুদা এবং জাতীয় পার্টির আব্দুল বাকী।
এ আসনেও ভোটের মূল লড়াই হবে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীর মধ্যেই। তবে এখানকার রাজনৈতিক বাস্তবতা কিছুটা ভিন্ন। স্থানীয় রাজনীতিবিদ ও ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিভক্তি এখনো পুরোপুরি কাটেনি। মনোনয়নবঞ্চিত একটি অংশ ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে সক্রিয় না-ও থাকতে পারে—এমন আশঙ্কাও করছেন অনেকে।
এলাকাবাসীর মতে, মেহেরপুর-২ আসনে বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর মধ্যে ভোটের লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি। শেষ পর্যন্ত কে বিজয়ী হবেন, তা নির্ভর করবে নির্বাচনের দিন ভোটার উপস্থিতি ও শেষ মুহূর্তের রাজনৈতিক সমীকরণের ওপর।