

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলা ৫০ শয্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গত পাঁচ মাসে ৩৬৫টি শিশু জন্ম নিয়েছে। এরমধ্যে নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে ৩৪৭টি এবং সিজারের মাধ্যমে ১৮টি জন্ম নিয়েছে। বর্তমানে নবজাতক ও প্রসূতি মা উভয়ই স্বাভাবিক ও সুস্থ রয়েছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সিজারের চেয়ে নরমাল ডেলিভারির (স্বাভাবিক প্রসব) মাধ্যমে সন্তান জন্মদান দিন দিন বাড়ছে। এতে সব শ্রেণিপেশার মানুষের বেসরকারি হাসপাতাল কিংবা ক্লিনিকের চেয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সন্তান জন্মদানে আগ্রহ বাড়ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত পাঁচ মাসে ৩৬৫ শিশু জন্মগ্রহণ করেছে। তাদের মধ্যে নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে ৩৪৭ এবং সিজারের মাধ্যমে ১৮ শিশুর জন্ম হয়েছে। এরমধ্যে জানুয়ারিতে ৮১ নরমাল ডেলিভারি ও ৪ জন সিজার, ফেব্রুয়ারিতে ৬৯টি নরমাল ডেলিভারি ও ৪ সিজার, মার্চে ৬৪ নরমাল ডেলিভারি ও ৩ সিজার, এপ্রিলে ৬১ নরমাল ডেলিভারি ও ৪ সিজার এবং মে মাসে ৭২ নরমাল ডেলিভারি ও ৩টি সিজার হয়েছে।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শিশুর জন্মের পরেই একটি করে সনদ দেওয়া হচ্ছে, যাতে করে শিশুদের সহজেই জন্মনিবন্ধনসহ অন্যান্য কাজে লাগতে পারে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে সন্তান জন্মদানকারী মা মোমেনা আক্তার জানান, প্রথমে নরমাল ডেলিভারি নিয়ে আতঙ্ক ছিল। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক, নার্সসহ সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতায় অত্যন্ত স্বাস্থ্য সম্মত ও নিরাপদে নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে পেটের সন্তান জন্ম দিয়েছি। বেসরকারি হাসপাতাল কিংবা ক্লিনিকে সন্তান জন্ম দিতে গেলে বিপুল অঙ্কের অর্থ ব্যয় হতো। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক টাকাও লাগেনি।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষের দাবি, সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক, নার্স ও মিডওয়াইফদের আন্তরিকতা ও দক্ষতার কারণেই স্বাভাবিক সন্তান প্রসবের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। অনেকের কোনোভাবেই স্বাভাবিক নিয়মে সন্তান প্রসব করানো সম্ভব নয়। যেসব প্রসূতি মায়েদের ঝুঁকি থাকে শুধু তাদেরকে সিজারের মাধ্যমে সন্তান প্রসব করানো হচ্ছে। গর্ভবতী মায়েদের প্রসব-পূর্ববর্তী ও প্রসব-পরবর্তী সার্বিক চিকিৎসাসেবা ও পরামর্শ প্রদানের কারণে নরমাল ডেলিভারির সংখ্যা বাড়ছে। একই সঙ্গে গর্ভবতী মায়েদের সরকারি স্বাস্থ্যসেবার প্রতি আস্থাও বাড়ছে।
ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মো. সাজেদুল ইসলাম সাজু বলেন, মাতৃমৃত্যুর হার কমাতে এবং নরমাল ডেলিভারি নিরাপদে করতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গাইনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, দক্ষ মিডওয়াইফসহ সংশ্লিষ্টরা কাজ করে যাচ্ছেন। এছাড়াও যে সকল রোগীর কোনোভাবেই নরমাল ডেলিভারি করা সম্ভব হয় না, সেগুলোকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই সিজারের মাধ্যমে সন্তান প্রসব করানো হচ্ছে। তবে অ্যানেসথেসিওলজিস্টের পদ শূন্য থাকায় বীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এ্যানেসথেসিওলজিস্ট ডা. পারভেজ সপ্তাহে দুইদিন রোববার ও মঙ্গলবার এখানে আসেন।
তিনি আরও বলেন, এ্যানেসথেসিওলজিস্ট স্থায়ীভাবে থাকলে সিজার সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেতো কয়েকগুণ বেশি। শুধু অ্যানেসথেসিওলজিস্টের শূন্যতার জন্য চাহিদানুযায়ী সিজার করা যাচ্ছে না। এরই মধ্যে গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. ফারজানা আইনিকে ফুলবাড়ী থেকে বদলি করে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দেওয়া হয়েছে। দু-একদিনের মধ্যে তিনি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ত্যাগ করলে প্রসূতিদের সিজার কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিরাপদে ডেলিভারি করানো হলে মৃত্যুর ঝুঁকি থাকে না, পাশাপাশি রোগীর পরিবারের কোনো প্রকার অর্থও ব্যয় হয় না।