

খোলা সয়াবিন ও পাম অয়েলের দাম নতুন করে আরও এক দফা বেড়েছে। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে পাইকারি বাজারে খোলা এ দুই ধরনের ভোজ্যতেলের দাম প্রতি ড্রামে ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এর প্রভাবে খুচরা পর্যায়ে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিনে সর্বোচ্চ ১০ এবং পাম অয়েলে ৭ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। খোলা তেলের বাজারে দামের হঠাৎ এমন উলম্ফনে বেকায়দায় পড়েছেন নিম্নবিত্তরা। রান্নার তেলের পেছনে এখন বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে তাদের।
রাজধানীর কদমতলী এলাকার সাদ্দাম মার্কেটে গতকাল তেল কিনতে এসে দাম শুনে হতবাক দিনমজুর মো. মোতাহার মিয়া। কথা হলে তিনি কালবেলাকে বলেন, ‘দু-তিন আগেও যে লুজ পাম অয়েল কেজি হিসেবে ১৭৮ টাকা দরে কিনেছি। এখন সেই তেল কিনতে হচ্ছে ১৮৫ টাকা। এক লাফে এত খরচ বাড়ে কেমনে, বুঝে পাই না। দিন দিন আমাদের মতো গরিবদের টিকে থাকা আরও কঠিন হয়ে পড়তাছে।’
কথা হলে এ বাজারের খোলা তেল বিক্রেতা মো. মিলন হোসেন বলেন, ঈদের আগে থেকেই অল্প অল্প করে দাম বাড়ছে। তবে গত কয়েকদিনে অনেকখানি বেড়েছে। কেনা দাম বেশি পড়ছে বলে বিক্রিতে দাম বাড়াতে হয়েছে আমাদের।
নিউমার্কেট বনলতা মার্কেটের লিপি স্টোরের রুবেল হোসেনসহ অন্য বিক্রেতারাও জানান, খোলা তেলের পাইকারি বাজার গত দুই দিনে হঠাৎ অনেকটা বেড়ে গেছে। প্রতি ডামে ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা খোলা তেল কেজি হিসেবে কেনাবেচা করে থাকি। বর্তমানে খোলা পাম অয়েলের ড্রাম (১৮৫ কেজি) আমাদের কিনতে হচ্ছে ৩২ হাজার ৬০০ থেকে ৩২ হাজার ৮০০ টাকায়। দুদিন আগে যা ছিল ৩১ হাজার ৮০০ টাকা। দাম বাড়ায় এ তেল কেজি হিসেবে ১৮০-১৮২ টাকার নিচে বিক্রি করা সম্ভব নয়। একইভাবে খোলা সয়াবিনের দামও ড্রামপ্রতি হাজার টাকা বেড়ে গেছে। খুচরায় প্রতি কেজি ১৯০ টাকা ছাড়িয়ে গেছে।
জানতে চাইলে বাংলাদেশ পাইকারি ভোজ্যতেল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি গোলাম মাওলা কালবেলাকে বলেন, দাম আমাদের হাতে নেই। সংকট দেখা দিলেই কোম্পানিগুলো মিলগেটে দাম বাড়িয়ে দেয়। সে অনুযায়ী আমাদের বিক্রি করতে হয়। কোম্পানিগুলো জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আমদানি ব্যাহত হচ্ছে। তা ছাড়া চলমান জ্বালানি তেলের সংকটে পরিবহন ভাড়াও অনেক বেড়ে গেছে। এসব কারণে বাজার বাড়তি।
সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) সর্বশেষ তথ্য বলছে, মাসের ব্যবধানে রাজধানীর খুচরা বাজারে খোলা তেলের দাম অনেকখানি বেড়েছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে খুচরায় খোলা সয়াবিন প্রতি লিটার ১৮৫ থেকে ১৯৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক মাস আগে এই তেলের প্রতি লিটারের দাম ছিল ১৭৫ থেকে ১৮৫ এবং গত বছর এই সময়ে দাম ছিল ১৫৭ থেকে ১৬৫ টাকা। অন্যদিকে খোলা পাম অয়েলের লিটার এখন ১৬০ থেকে ১৬৮ টাকা বিক্রি হচ্ছে। গত মাসে যা ১৫০ থেকে ১৬২ টাকায় এবং এক বছর আগে ১৪৪ থেকে ১৫৩ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যবসায়ীদের মাঝে যে কোনো অজুহাতে দাম বাড়িয়ে দেওয়ার যে প্রবণতা রয়েছে, সেটা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। দাম যৌক্তিকভাবে বাড়ছে কি না, সেটা মনিটরিং প্রয়োজন। নইলে ভোক্তার ওপর খরচের চাপ এক ধাক্কায় অত্যধিক বেড়ে যায়।
ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন কালবেলাকে বলেন, ব্যবসায়ীরা এখন মধ্যপ্রাচ্যের বিদ্যমান পরিস্থিতিকে সামনে রেখে দাম বাড়াচ্ছেন। সেই সঙ্গে বলা হচ্ছে পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে। কিন্তু ব্যয় কতটা বেড়েছে, সেটা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে না। সে অনুযায়ী দামটা যৌক্তিকভাবে বেড়েছে কি না, সেটাও খতিয়ে দেখতে হবে। ব্যবসায়ীদের এই ‘ফ্রি স্টাইলে’ দাম বাড়ানোটা বন্ধ করতে হবে। সেজন্য বাজার মনিটরিং জোরদার করতে হবে। রান্নার তেলের দাম এভাবে লাগামহীনভাবে বাড়লে তা ভোক্তার কষ্ট কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়। এর প্রভাবে খাবারের দোকানগুলোতে খাবারের দাম বেড়ে গেলে খেটে খাওয়া মানুষেরও কষ্ট বাড়ে।