

বন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে বাসা থেকে বের হয়েছিল ১৭ বছর বয়সী আশফাক কবির সাজিদ। স্বাভাবিক একটি বিকেলই হয়তো মনে হয়েছিল তার কাছে। কিন্তু সেই ডাকাই হয়ে উঠল শেষ ডাকা। চট্টগ্রামের চকবাজারে বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে আর ঘরে ফেরা হলো না এই কলেজছাত্রের। নির্মাণাধীন একটি ভবনের আটতলা থেকে লিফটের ফাঁকা গর্তে ফেলে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তারই পরিচিত একদল তরুণের বিরুদ্ধে।
ঘটনাটি ঘটে গত ১২ এপ্রিল রোববার রাতে চকবাজার থানার ডিসি রোড এলাকার মৌসুমি আবাসিকের একটি নির্মাণাধীন ভবনে। নিহত আশফাক কবির সাজিদ নগরের বিএএফ শাহীন কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার গ্রামের বাড়ি কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায়। চট্টগ্রামে এসে সে বাকলিয়া ডিসি রোড কবরস্থানের পাশের একটি বাসায় ভাড়া থাকত।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা আবুল হাশেম সিকদার বাদী হয়ে গত মঙ্গলবার চকবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় সাতজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার পরপরই পুলিশ ওই ভবনের নিরাপত্তাকর্মী এনামুল হকসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবুল আজাদ। তিনি জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে। কী কারণে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন বিকেলে আশফাককে তার বন্ধু ফারদিন হাসান মোবাইল ফোনে কল দিয়ে বাকলিয়া এক্সেস রোডের মৌসুমি আবাসিক এলাকার মোড়ে ডেকে নেয়। সেখানে কথা বলার একপর্যায়ে আইমন, অনিক, রানা মাইকেল, ইলিয়াস, এনায়েত উল্লাহ, মিসকাতুল কায়েসসহ একদল তরুণ ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়।
পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে আশফাক কৌশলে পাশের একটি নির্মাণাধীন ভবনে ঢুকে পড়ে এবং ভেতর থেকে গেট বন্ধ করে দেয়। পরে সিঁড়ি বেয়ে দ্রুত আটতলায় উঠে যায়। তবে হামলাকারীরা ভবনের গেটে ধাক্কা দিলে নিরাপত্তাকর্মী এনামুল হক গেট খুলে দেন। এরপর তারা ভবনের ওপরতলায় উঠে আশফাককে ধরে ফেলে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ওপরতলায় নিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তাকে আটতলা থেকে লিফটের ফাঁকা স্থানে ফেলে দেওয়া হয়। এতে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত আশফাকের বাবা আবুল হাশেম সিকদার বলেন, ‘আমার ছেলে কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল না। কেন তাকে হত্যা করা হলো, সেটি দ্রুত তদন্ত করে বের করতে হবে। আমি হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’