

সমালোচনার মুখে ১০ বছরের পরিবর্তে সাত বছরের পুরোনো বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানি করার প্রস্তাব উঠছে। আজ বৃহস্পতিবার এ প্রস্তাব কেবিনেটে উঠছে বলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুরোনো বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানি করলে দূষিত ব্যাটারির ডাম্পিং স্টেশন হবে বাংলাদেশ। এ ছাড়া বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানও গড়ে উঠবে না দেশে।
সূত্র জানায়, ২০২৬-২৯-এর জন্য নতুন আমদানি নীতি আদেশে সাত বছরের পুরোনো বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানির সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। অথচ বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারির আয়ু সাধারণত আট বছরের বেশি হয় না। এক্ষেত্রে এক-দুই বছরের মধ্যেই এসব ব্যাটারির কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে যাবে। এতে গাড়ির এসব পুরোনো ব্যাটারির ডাম্পিং স্টেশন হবে বাংলাদেশ। একদিকে শিল্প বাধাগ্রস্ত হবে, অন্যদিকে পুরোনো এ ইলেকট্রিক বর্জ্য নিয়ে বিপাকে পড়বে বাংলাদেশ। প্রশ্ন উঠেছে, কার স্বার্থে এ সুযোগ রাখছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়?
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জিয়াউর রহমান খান কালবেলাকে বলেন, পুরোনো বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানির সুযোগ দিলে ডিজাস্টার হবে। কারণ এর ব্যাটারি আট বছরের বেশি টেকে না। ফলে পুরোনো গাড়ির ব্যাটারির ডাম্পিং স্টেশন হিসেবে ব্যবহৃত হবে বাংলাদেশ।
এরই মধ্যে বাংলাদেশের মীরসরাই ইকোনমিক জোনে বৈদ্যুতিক গাড়ি উৎপাদন কারখানা স্থাপন করা হয়েছে। আরও নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হবে। বিওয়াইডি বাংলাদেশের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা ইমতিয়াজ নওশের গণমাধ্যমকে বলেন, শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত নীতিমালা কার্যকর হলে বৈদ্যুতিক গাড়ির দাম কমার পাশাপাশি এ খাতের নতুন নতুন মডেলের গাড়ি আমদানিতে উৎসাহিত হবেন গাড়ি ব্যবসায়ীরা। তবে সাত বছরের পুরোনো বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানির সুযোগ দেওয়া হলে দেশে এ ধরনের শিল্পের বিকাশ ব্যাহত হবে। এতে বিদেশি বিনিয়োগও বাধাগ্রস্ত হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ সালে দেশে সম্পূর্ণ তৈরি বৈদ্যুতিক গাড়ি (সিবিউ) এসেছিল ৭৭টি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৭৮টিতে। আর চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে এসেছে ৩০টি বৈদ্যুতিক গাড়ি। ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সির (আইইএ) তথ্যমতে, ২০২৪ সালে বিশ্বজুড়ে বৈদ্যুতিক গাড়ির বিক্রি ১ কোটি ৭০ লাখ ছাড়িয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ২৫ শতাংশের বেশি।