

শীতকালীন অন্যতম একটি সবজি হচ্ছে শিম, যা শীতকাল ছাড়া বছরের অন্য সময় পাওয়া কঠিন। শিমে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, ফাইবার, ভিটামিন আর মিনারেল আছে। শিমের বিচি শরীরে প্রয়োজনীয় প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে সাহায্য করে। শিমের বিভিন্ন ধরনের পুষ্টিগুণ ও শিমের মধ্যে থাকা খনিজ চুল পড়া রোধে সহায়তা করে এবং চুলের স্বাস্থ্য সুরক্ষায়ও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে। চলুন শিমের কিছু উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক—
n রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি
রোগের প্রতিকার এবং প্রতিরোধের ক্ষমতা বাড়ে।
n কোষ্ঠকাঠিন্য নিয়ন্ত্রণ
অনেকটা ফাইবার থাকায় কোষ্ঠকাঠিন্য নিয়ন্ত্রণে থাকে।
n ডায়াবেটিস সুরক্ষায়
শর্করা ও চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে ডায়াবেটিস বশে রাখার ক্ষমতা আছে।
n চুল পড়া কমায়
প্রচুর পরিমাণ খনিজ পদার্থ থাকায় চুল পড়ার সমস্যা কমাতে সাহায্য করে শিম।
n ত্বকের আর্দ্রতা দূর করে
অনেকটা পানিও থাকে এ সবজিতে। ফলে ত্বকের আর্দ্রতা দূর করতেও সাহায্য করে শিম।
n হৃদরোগীদের জন্য
যারা নিয়মিত শিম খান, তাদের হৃদরোগের ঝুঁকি কমে। এতে থাকা ফাইটোকেমিক্যালস হৃৎপিণ্ডকে সুরক্ষা দেয়।
n কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে
এ সবজির পাঁচক আঁশ কোলেস্টেরলের
মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এর স্যাপোনিনস রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে রাখে।
n অস্থিসন্ধির জন্য
হাড়ের সংযোগস্থলের সুরক্ষা দেয় এবং অস্ট্রিওআর্থ্রাইটিস রোগ হওয়ার শঙ্কা কমায়।
n ওজন কমাতে
শিমের আঁশ দ্রুত ভরে ফেলে পাকস্থলী। এ ছাড়া রক্তে চিনি আসার পরিমাণও কমিয়ে রাখে। শরীরকে শক্তি দেয়। অন্যদিকে ওজন বাড়তে বাধা দেয়।
n ক্যানসার প্রতিরোধ
ক্যানসারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার অসাধারণ
এক ক্ষমতা আছে শিমে। এতে ইসোফ্লাবোনেস, ফাইটোস্টেরলসের মতো ক্যানসার-প্রতিরোধী উপাদান থাকে।
n শিমের অপকারিতা
কারও কারও শিম খেলে মাইগ্রেনের
তীব্রতা বাড়তে পারে। মাথাব্যথা
হতে পারে। এ ছাড়া শরীরে অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে শিম খাওয়া বাদ দিতে হবে। যারা বিষণ্নতার জন্য
মনো-অ্যামাইন অক্সিডেস ইনহিবিটর খান, তাদের জন্য শিম বাদ দেওয়াই ভালো।
এ সবজির উপাদান এসব ওষুধের
সংস্পর্শে এসে রক্তচাপ বাড়িয়ে দিতে
পারে।
n শুকনো শিমের বিচির উপকারিতা
কাঁচা শিমের বিচিতে যেরকম উপকার রয়েছে, তেমনি শুকনো শিমের বিচিতেও অনেক উপকার রয়েছে। এ বিচিতে বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন এবং আয়রন থাকায় এটি দেহের জন্য খুবই স্বাস্থ্যকর ও কার্যকরী। এটি যেমন ওজন কমাতে সাহায্য করে, তেমনি বিভিন্ন ধরনের রোগ দূর করার ক্ষেত্রেও কার্যকরী।
এটি দেহের শক্তি জোগায় এবং ক্রনিক রোগ উপশমে খুবই ফলপ্রসূ। তবে
শুকনো শিমের বিচি অনেক দিন সংরক্ষণ করা যায়। পরবর্তীকালে এটি খাদ্য
হিসেবে ব্যবহার করা যায়। অনেক দিন সংরক্ষণ করার ফলেও এর যে গুণাগুণ, তা অটুট থাকে। কোলন ক্যানসার প্রতিরোধে এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে খুবই কার্যকরী।