

পুরো নাম মারিয়া হোসেন শান্ত। মডেলিংয়ের মাধ্যমে শোবিজ অঙ্গনে পা রাখেন। এরপর নাম লেখান অভিনয়ে। এখন দুই জগতে ব্যস্ততা তার। সম্প্রতি কালবেলার তারাবেলা অনুষ্ঠানে অতিথি হয়েছিলেন। সেখানে নিজের জানা-অজানা অনেক বিষয়ে কথা বলেন এ অভিনেত্রী; যা কালবেলার পাঠকদের জন্য তুলে ধরেছেন রাজু আহমেদ
মারিয়া হোসেন শান্ত। ছবি: সংগৃহীত
ছোটবেলায় কেমন ছিলেন শান্ত?
ছোটবেলায় আমি খুব শান্ত ছিলাম। বলতে গেলে বোবা টাইপ ছিলাম। কথা কম বলতাম, দুষ্টুমি তো একদমই করতাম না। এমনকি সেভাবে খেলাধুলাও করতে পারতাম না। তাই বাবা-মার সঙ্গে যখন গ্রামে যেতাম, আমার কাজিনরা খেলতে নিত না। যদি নিয়েও থাকত তাহলে দুধ-ভাত রাখত। এ ছাড়া শিশু বয়সে কেউ আমাকে কিছু বললেই আম্মুকে ডেকে নিয়ে যেতাম। তবে এখন একেবারেই উল্টো।
স্কুল জীবনের গল্প...
আমি স্কুলেও খুব শান্ত ছিলাম, লেখাপড়ায় মনোযোগী ছিল। জীবনের এ সময়টি আমার দারুণ কেটেছে। বলতে গেলে ছাত্রজীবনের সবচেয়ে সুন্দর সময়। পড়ালেখা, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা—সব ছিল এ সময়ে। কিন্তু কোনো কিছুই সিরিয়াস ছিল না। পুরোটাই ছিল উপভোগের জীবন। এখন সময়গুলো খুব মিস করি।
মারিয়া হোসেন শান্ত। ছবি: সংগৃহীত
প্রেমের গল্প...
স্কুলজীবনে অনেক প্রেমের প্রস্তাব পেয়েছি। মজার বিষয় হচ্ছে, আমার স্কুলের কেউ আমাকে প্রপোজ করত না। এর কারণও বেশ মজার। তখন আমার পেছনে এলাকার বড় ভাইরা ঘুরত। তবে বিষয়টি তখন আমি জানতে পারিনি। এটি জানতে পেরেছিলাম এসএসসি পরীক্ষার পর। জানার পর খুব হাসি পেয়েছিল। তার আগে এলাকার এক বড় ভাইয়ের সঙ্গে প্রেম হয়, যা টিকে ছিল দুই-আড়াই বছর। এই হলো স্কুলজীবনের কাহিনি।
মারিয়া হোসেন শান্ত। ছবি: সংগৃহীত
এরপর কি আর প্রেম এসেছে জীবনে...
এরপর আর প্রেম আসেনি। তবে ছয় বছর পর একজনকে আমার ভালো লেগেছিল। এ পর্যন্তই। অবশ্য ভালোলাগার বিষয়টি দুজনই জানতাম। যখন দেখলাম যে আমাদের মিল হচ্ছে না, তখন আর এগোনো হয়নি। দুজনই সরে আসি। এখন আমি সিঙ্গেল। প্রেম নিয়ে তেমন আর কোনো ভাবনা নেই।
লেখাপড়া...
আমি এখনো লেখাপড়া করছি। দেশের একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছি।
মারিয়া হোসেন শান্ত। ছবি: সংগৃহীত
কাজের কথা...
বিনোদন জগতে কাজ নিয়ে আমার কখনোই পরিকল্পনা ছিল না। বছর তিন আগে আমি মডেলিং শুরু করি। বলতে গেলে কোনোরকম প্রস্তুতি ছাড়াই। এরপর সবাই যখন আমার এ বিষয়টি নিয়ে উৎসাহ দিতে থাকে এবং বলতে থাকে যে তোমার এখন অভিনয়ও করা উচিত; তারপরই আমি অভিনয়ের বিষয়ে ভাবতে শুরু করি এবং নাটকে নাম লেখাই। যখন অভিনয় করলাম, তখন মনে হয়েছে যে, এটাই আমার মন দিয়ে করা উচিত। অভিনয়কে ভালোবেসে ফেললাম এবং এটাই করতে হবে বলে সিদ্ধান্ত নিই। কারণ, এ কাজ করে আমি হৃদয় থেকে শান্তি পাই।
পরিবারের সাড়া...
আমার পরিবার থেকে বিষয়টি প্রথমে সেভাবে গ্রহণ করেনি। আমার চাচারা চাননি আমি মিডিয়ায় কাজ করি। তারা বলেন, লেখাপড়া শেষ না করে কোনো কাজ নয়। কিন্তু আমি লেখাপড়া নিয়ে সেভাবে সিরিয়াস না থাকায় অভিনয়ের ওপরই মন চলে গেছে। তবে পরিবার থেকে এখন আর সেভাবে বাধা নেই। তারা আমার কাজ দেখে বেশ খুশি, তাদের ভালোও লাগছে। তাই এখন কাজ করে আনন্দ পাচ্ছি। এ ছাড়া আম্মা প্রথম থেকেই আমাকে অভিনয়ে সাপোর্ট করেছেন। তিনি সবসময় একটা কথাই বলেন, যখন যে কাজ করি না কেন, সেটি যেন মন দিয়ে করি।
মারিয়া হোসেন শান্ত। ছবি: সংগৃহীত
কাজের ক্ষেত্রে সমর্থন...
আমার মা। শুধু কাজের ক্ষেত্রে নয়, আমার জীবনে আজকের যে অবস্থান, এর জন্য সবচেয়ে বেশি অবদান আম্মুর। তিনি ছাড়া কোনো কিছুই সম্ভব নয়।
মারিয়া হোসেন শান্ত। ছবি: সংগৃহীত
সিনেমায় অভিনয়...
অবশ্যই ইচ্ছা আছে, তবে এখনো অনেক প্রস্তুতি নিতে হবে। এখন শুধু কাজ করে যেতে চাই।