

প্রথম সিনেমা ‘বরবাদ’ দিয়ে আলোচনায় আসেন নির্মাতা মেহেদী হাসান হৃদয়। শাকিব খানকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে মন ভরান দর্শকের। এরপর দ্বিতীয় সিনেমা ‘রাক্ষস’ দিয়েও নিজেকে আবার প্রমাণ করেন তিনি। এবার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ক্যারিয়ারের তৃতীয় সিনেমাটি নিয়ে দর্শকদের সামনে আসার। বর্তমান ব্যস্ততা ও নতুন সিনেমা প্রসঙ্গে কালবেলার সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন—রেজওয়ানুর রহমান
বর্তমান ব্যস্ততা এবং নতুন কাজের পরিকল্পনা কেমন চলছে?
বর্তমানে ‘বিদায়’ সিনেমার শুটিং ও এডিটের কাজের পাশাপাশি পরবর্তী আরেকটি সিনেমার গল্প লেখার কাজ করছি। আপাতত এ নিয়েই ব্যস্ত আছি।
গত কোরবানি ঈদে আপনার ‘বিদায়’ সিনেমাটি মুক্তি দেওয়ার কথা ছিল। এর পিছিয়ে যাওয়ার কারণ কী?
আসলে আমাদের শুটিং ছিল মালয়েশিয়ায়, যেখানে শুটের অনুমতি পেতে আমাদের দেরি হয়ে গেছে। আমরা চাইলে আমাদের শুট শেষ করতে পারতাম; কিন্তু সেটি অনেক তাড়াহুড়ো হয়ে যেত। আর তাড়াহুড়ো করে আমরা কিছু করতে চাই না। এ জন্য আমরা গত ঈদে সিনেমাটি মুক্তি দিতে পারিনি। তবে আমাদের আশা আছে, আল্লাহ যদি চান আসন্ন দুর্গাপূজায় সিনেমাটি মুক্তি দেব।
‘বিদায়’ সিনেমার প্রযোজকের সঙ্গে মতবিরোধের যে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, এটি কতটুকু সত্য?
এ বিষয়টি পুরোটাই একটা গুজব। প্রযোজকের সঙ্গে আমার সম্পর্ক খুবই ভালো এমনকি গতকাল (রোববার) তার বাসায় গিয়ে আড্ডা দিয়েছি, ডিনার করেছি।
দীর্ঘদিন পর অভিনেতা বাপ্পারাজকে এই সিনেমার মধ্য দিয়ে পর্দায় ফিরিয়ে আনছেন। কেন তাকেই চিন্তা করলেন?
গল্পে চরিত্রের প্রয়োজনেই আমি বাপ্পারাজ ভাইকে নিয়েছি। আমার যে চরিত্রটি প্রয়োজন ছিল, মনে হয়েছে বাপ্পারাজ ভাই ভালো পারবেন এবং তিনি এমন গুণী শিল্পী, এত লিজেন্ড শিল্পীরা কেন পর্দার বাইরে থাকবেন। হয়তো তিনি ভালো গল্প পাচ্ছিলেন না বা ভালো চরিত্র পাচ্ছিলেন না। তো আমার গল্প আর চরিত্রের সঙ্গে ব্যাটে-বলে মিলে গেছে, ভাইও হয়তো এমন একটি চরিত্র চাচ্ছিলেন। তারপর বাপ্পা ভাইয়ের সঙ্গে আমার কথা হয় এবং আমরা কাজ শুরু করি।
দুটি অ্যাকশন ঘরানার সিনেমার পর এবার কমেডি ও ইমোশনাল সিনেমা নির্মাণ করলেন। এর কারণ কী?
পরপর দুটি অ্যাকশন সিনেমা তৈরি করেছি বলেই এখন একটু ভিন্নতা এনেছি। যদিও ‘রাক্ষস’ সিনেমা তৈরির আগে থেকেই এর শুটিংয়ের কাজ শুরু করেছিলাম। কারণ আমি চেয়েছিলাম আমার সেকেন্ড সিনেমাটি ডিফরেন্ট ঘরানার তৈরি করতে। কিন্তু কিছু জটিলতার কারণে ‘রাক্ষস’ আগে রিলিজ হয়েছে, সেই হিসাবে এটি আমার তিন নম্বর সিনেমা। ডিরেক্টর, আর্টিস্ট সবারই ভ্যারিয়েশনের দরকার আছে; ওই ভ্যারিয়েশনটা আমি চেষ্টা করেছি করার জন্য। সত্যটা বলতে গেলে এই গল্পটা আমাকে এতটা বেশি আকৃষ্ট করেছে যে, আমার মনে হয়েছে এই সিনেমাটি আমার বানাতেই হবে।
প্রথম সিনেমায় শাকিব খানকে পেয়েছিলেন, পরে তার সঙ্গে আবার কবে কাজ করছেন?
আমি চাই শাকিব খানকে নিয়ে সিনেমা বানাতে, দেখা যাক কোনো একদিন আসবে ইনশাআল্লাহ। খুব শিগগির দর্শক তা দেখতে পাবে। আমি আমার শতভাগ চেষ্টা চালাচ্ছি। তবে এইবার তাকে নিয়ে যে সিনেমাটি তৈরি করব, তার ঘরানাটা হবে একদমই আলাদা।
সিনেমাতেই কি স্থায়ী হচ্ছেন, নাকি দর্শক ভবিষ্যতে আপনার নতুন নাটকও দেখতে পাবে?
যেহেতু আমি এখন সিনেমা নিয়ে ব্যস্ত আছি, সেহেতু সিনেমাতেই থাকব। তবে নাটক তৈরি করার যে চিন্তাভাবনা নেই, তা নয়। আসলে আমি তো নাটক থেকেই এসেছি, নাটক-সিনেমা যাই বলি না কেন, দুটোই কিন্তু মাধ্যম আর এই দুটো মাধ্যমের একটা জায়গায় খুব দুর্দান্ত মিল, সেটি হচ্ছে নির্মাণ আর গল্প। আমি তো বরাবর গল্পটাই বলতে চাই, সেটি নাটকের মাধ্যমে হোক আর সিনেমার মাধ্যমে হোক। এখন যেহেতু সিনেমা নিয়ে আমি ব্যস্ত আছি, আপাতত নাটকটা আমি করতে পারছি না। কখনো যে করব না, এমনটা কিন্তু নয়। কখনো সময় হলে, গল্প খুব বেশি ভালো লাগলে অবশ্যই নাটক বানাব।
চলচ্চিত্র অঙ্গন এবং সিনেমা নির্মাণ নিয়ে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
আমার প্রথম পরিকল্পনা হচ্ছে, দর্শকদের হলমুখী করতে হবে। একটি-দুটি-তিনটি করে এমন সিনেমা দিতে হবে, যাতে দর্শক হলে এসে পয়সা উসুল সিনেমা দেখতে পায়। এখন কিন্তু দুই ঈদে সিনেমা দেখায় মানুষ অভ্যস্ত হয়ে গেছে। সামনে ঈদ ছাড়াও দর্শকদের সিনেমামুখী করতে হবে আমাদের। দর্শককে সবার আগে হলমুখী করতে পারলে বাংলাদেশে সিনেমা হল হবে, আর সিনেমা হল যখন বাড়বে, তখন সিনেমার বাজার বড় হবে।