

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দায়িত্বরত আনসার সদস্যদের সতর্কতা, দায়িত্বশীলতা ও তাৎক্ষণিক তৎপরতায় এক প্রবাসী যাত্রীর হারিয়ে যাওয়া লাগেজ উদ্ধার করা হয়েছে। পরে যথাযথ যাচাই-বাছাই শেষে উদ্ধারকৃত লাগেজটি প্রকৃত মালিকের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
বুধবার (২৪ জুন) সকাল আনুমানিক ১০টা ২০ মিনিটে বিমানবন্দরের ক্যানোপি-০২ এলাকায় দায়িত্বরত এপিসি মো. নিজাম উদ্দীনকে ওমানফেরত প্রবাসী যাত্রী মো. শাহীন মৃধা তার একটি লাগেজ খুঁজে না পাওয়ার বিষয়টি জানান। ঘটনাটি জানার পরপরই এপিসি মো. নিজাম উদ্দীন লাগেজটি উদ্ধারে মাঠে নামেন এবং শিফটে দায়িত্বপ্রাপ্ত থানা প্রশিক্ষক মো. ওয়াসিম মিয়াকে বিষয়টি অবহিত করেন।
থানা প্রশিক্ষক মো. ওয়াসিম মিয়ার নির্দেশনায় আনসার সদস্যরা হারানো লাগেজ উদ্ধারের লক্ষ্যে ক্যানোপি এলাকায় মাইকিং ও অনুসন্ধানসহ ব্যাপক খোঁজখবর শুরু করেন। অনুসন্ধানের একপর্যায়ে জানা যায়, দুবাইপ্রবাসী মো. ঈমান আলী ভুলবশত নিজের লাগেজ বিমানবন্দরে রেখে ওমানপ্রবাসী মো. শাহীন মৃধার লাগেজটি সঙ্গে নিয়ে চলে গেছেন। এই কারণে শাহীন মৃধা নিজের লাগেজ খুঁজে না পেয়ে আনসার সদস্যদের সহায়তা চান।
এদিকে ক্যানোপি এলাকায় পড়ে থাকা মালিকবিহীন অপর লাগেজটির ট্যাগ পরীক্ষা করে একটি মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করেন এপিসি মো. নিজাম উদ্দীন। পরে সেই নম্বরে যোগাযোগ করা হলে দুবাইপ্রবাসী মো. ঈমান আলীর সন্ধান মেলে। তাকে জানানো হয় যে, তার লাগেজটি বিমানবন্দরেই পড়ে আছে। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি ভুল বুঝতে পারেন এবং দ্রুত বিমানবন্দরে ফিরে আসেন।
পরবর্তীতে ঈমান আলীর সঙ্গে থাকা লাগেজটি পরীক্ষা করে দেখা যায়, সেটি মূলত ওমানপ্রবাসী মো. শাহীন মৃধার হারিয়ে যাওয়া লাগেজ। পরে উভয় যাত্রীর উপস্থিতিতে লাগেজ দুটির ট্যাগ নম্বর, সঠিক বিবরণ ও প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই-বাছাই করে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, অনিচ্ছাকৃতভাবে লাগেজ দুটি অদলবদল হয়ে গিয়েছিল।
সবশেষে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দুই প্রবাসীর কাছে তাদের নিজ নিজ লাগেজ বুঝিয়ে দেওয়া হয়। অত্যন্ত দ্রুততম সময়ে হারিয়ে যাওয়া লাগেজ ফিরে পেয়ে প্রবাসী মো. শাহীন মৃধা স্বস্তি প্রকাশ করেন এবং আনসার সদস্যদের আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, কেপিআইভুক্ত এলাকা ও জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা ও জনসেবা নিশ্চিত করতে সতর্কতা, আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। এ ঘটনাটি তাদের জনবান্ধব সেবা, তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং দায়িত্বশীল কর্মতৎপরতার আরেকটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।