

আগামী দুই বছরের জন্য বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন অভিনেতা শিবা সানু এবং জয় চৌধুরী। চলচ্চিত্র তারকাদের মধ্যে রুবেল, ওমর সানী, মিশা সওদাগর, হেলাল খান, রোজিনাসহ অনেকের প্রত্যাশা নতুন নেতৃত্বে সুদিন ফিরবে বাংলা চলচ্চিত্রে। সবার প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবেন শিবা সানু, জয়? এ প্রসঙ্গে বিস্তারিত লিখেছেন—দিবাকর বিশ্বাস।
সব জল্পনা-কল্পনা শেষে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের দ্বিবার্ষিক নির্বাচনে সভাপতি পদে বিজয়ী হয়েছেন অভিনেতা শিবা সানু এবং সাধারণ সম্পাদক পদে জয়ী হয়েছেন অভিনেতা জয় চৌধুরী। শনিবার ভোরে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশন। আগামী দুই বছর শিল্পী সমিতির দায়িত্ব থাকবে শিবা সানু, জয়ের হাতে।
বাংলা চলচ্চিত্র তার জৌলুস হারিয়েছে অনেক দিন। আগের মতো সিনেমা হয় না। দেশে সচল সিনেমা হল কমতে কমতে মাত্র ৫০টিতে এসে দাঁড়িয়েছে। অথচ পাঁচ বছর আগেও সিনেমা হলের সংখ্যা ছিল ২৫০। বাংলা চলচ্চিত্র এখন যেন মরা গাং। সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির উন্নয়নের স্বপ্ন দেখেন বরেণ্য অভিনেতা ও প্রযোজক সোহেল রানা। তিনি বলেন, 'চলচ্চিত্র জগতের জন্য যাদের মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি মঙ্গল হবে শিল্পীরা হয়তো তাদেরই নির্বাচন করেছেন। এখন তারা চলচ্চিত্র জগতের যে সমস্যাগুলো আছে, সেগুলো সমাধানের দায়িত্ব নিবে আশা করি। এটাই আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়। আশা করব, তারা শিল্পীদের স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি দেশের চলচ্চিত্র শিল্পের বিদ্যমান সংকট মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।‘
এফডিসিতে এলে এখন কষ্ট পান চিত্রনায়ক রুবেল। মন খারাপ করে তিনি বলেন, ‘আমি কষ্টের জন্য এফডিসিতে আসি না। আগে এফডিসিতে ঢুকলে সকাল সাড়ে ৭টা ৮টা থেকেই পা ফেলা যেত না। ৯ থেকে ১০ পার্টির শুটিং থাকত। এখন মাসের পর মাস এফডিসি খালি থাকে—কোনো শুটিং হয় না। এফডিসিতে ঢোকার পর চারদিকে যখন খাঁখাঁ করে, তখন অনেক খারাপ লাগে।’
নতুন নেতৃত্বের প্রতি প্রত্যাশা জানিয়ে রুবেল বলেন, ‘তারা যেন এফডিসির ভালো হয় এমন কিছু চিন্তা করে। ব্যক্তিগত স্বার্থের কথা চিন্তা না করে ফিল্মের কথা চিন্তা করে।’ সেই সঙ্গে শিল্পী সমিতির জন্য ভালো লোকের চেয়ে যোগ্য লোক বেশি দরকার বলে মনে করেন তিনি।
নতুন নেতৃত্বের প্রতি শিল্পী সমিতির তিনবারের সভাপতি মিশা সওদাগরের প্রত্যাশা, নতুন নেতৃত্ব যেন শিল্পী সমিতির পক্ষে থাকেন সব সময়। মিশা বলেন, ‘অতীতে আমরা ভালো এবং উৎসাহমূলক যে কাজগুলো করেছি, সেগুলো যেন তারা অনুসরণ করেন, আর আমাদের ভুলগুলো এডিট করেন।’ চিত্রনায়ক ওমর সানী কালবেলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘নতুন নেতৃত্বের কাছে প্রত্যাশা সামান্যই। সবাই যেন মিলেমিশে থাকে।’
অভিনেতা ডা. এজাজ ভোট দিতে এসে নতুন নেতৃত্ব প্রসঙ্গে বলেন, ‘তারা যেন ভালো কাজ করেন। শিল্পীদের জন্য, চলচ্চিত্রের জন্য কাজ করেন।’
ঢালিউডে আগের মতো সিনেমা হয় না। শিল্পীদের অনেকের হাতে কাজ নেই। সেটা নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করলেন অভিনেত্রী রোজিনা। সেই সঙ্গে বললেন, ‘নির্বাচনে হারজিৎ স্বাভাবিক ব্যাপার। চলচ্চিত্রের স্বার্থেই সবাই যেন একসঙ্গে কাজ করে।’
‘সাগরিকা’ সিনেমার অভিনেতা হেলাল খান বর্তমানে রাজনীতি নিয়েই বেশি ব্যস্ত। নতুন নেতৃত্ব নিয়ে তিনি কালবেলাকে বলেন, ‘চলচ্চিত্রের জন্য শিল্পীদের জন্য তারা যেন কাজ করেন। পুরো ইন্ডাস্ট্রিকে নতুন করে সুন্দরভাবে সাজাতে হবে। বিনোদনমূলক পরিবেশ থাকবে। কোনো উচ্ছৃঙ্খল পরিবেশ থাকবে না। বিদেশি সংস্কৃতি যেটা, সেটা যেন আর না হয়। নিজস্ব সংস্কৃতি নিয়ে আমরা এগিয়ে যাব। সোনালি দিনগুলো ফিরিয়ে আনব।’
বাংলা চলচ্চিত্রের আরেক দর্শকনন্দিত অভিনেত্রী রেবেকা নতুন নেতৃত্ব প্রসঙ্গে কালবেলাকে বলেন, ‘চলচ্চিত্রের কাজ বাড়ুক, শিল্পীদের জন্য তারা কিছু করুক। সিনেমার যেন উন্নয়ন হয়। চলচ্চিত্রে যে সমস্যা আছে সেগুলো যেন সরকারের সঙ্গে তারা আলাপ করে সমাধান করে।’
এদিকে নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরই গণমাধ্যমের মুখোমুখী হন নবনির্বাচিত সভাপতি ও সম্পাদক। এ সময় গলায় সহকর্মীদের পরানো বিজয়ের মালা খুলে টেবিলে রেখে দেন বিজয়ী প্রার্থীরা। সভাপতি শিবা সানু বলেন, ‘এই মালা আমি এখন পরব না। এই মালা পরার সময় আমার এখনও আসেনি। আমি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, তা বাস্তবায়নের পর যদি কেউ আমাকে একটি ফুল দেয়, সেটাই আমার কাছে সবচেয়ে বড় উপহার হবে।’
এ সময় তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা সব প্রার্থীর উদ্দেশে বলেন, ‘নির্বাচনে যারা জয় পাননি, তাদেরও অভিনন্দন। আর যারা আমাকে জয়ী করেছেন, আমার প্রতি তাদের পূর্ণ বিশ্বাস ছিল। এ জন্য আমি সবার প্রতি কৃতজ্ঞ। আমরা চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতিতে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চাই।’
নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক জয় চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের এই যাত্রাটা একেবারেই সহজ ছিল না, তবু আমরা সার্থক। প্রতিবার সমালোচনা হলেও এবার নির্বাচন নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা ছিল। এ জন্য সবার কাছেই আমরা কৃতজ্ঞ। কথা দিচ্ছি শিল্পীদের পাশে আগে যেভাবে ছিলাম, এখনও আপনারা আমাকে সব সময় পাশে পাবেন।’
অন্যদিকে নির্বাচনের আগে জয় চৌধুরী ভোটারদের কাছে এক বছর সময় চেয়ে নিয়েছেন। নির্বাচিত হলে যদি এক বছরের মধ্যে তার দেওয়া প্রতিশ্রুতি রাখতে না পারেন বা শিল্পীরা তাকে পাশে না পান, তাহলে তিনি নিজেই এই সম্পাদকের চেয়ার ছেড়ে চলে যাবেন।