

একসময় অভিনয় ও নৃত্যে নিয়মিত মুখ ছিলেন মেহবুবা মাহনূর চাঁদনী। এখন ছোট পর্দায় খুব একটা দেখা না গেলেও ফুটবল বিশ্বকাপ উপলক্ষে বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলের খেলার অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে অংশ নিচ্ছেন তিনি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অভিনয়ে ফেরা, আর্জেন্টিনার প্রতি ভালোবাসা, ভাইরাল ফেসবুক স্ট্যাটাস ও নৃত্যচর্চা নিয়ে কথা বলেছেন এই অভিনেত্রী। চাঁদনী জানান, ছোটবেলা থেকেই তিনি আর্জেন্টিনার সমর্থক। কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনার খেলা দেখেই দলটির প্রতি ভালোবাসা তৈরি হয়েছে। বিশ্বকাপের প্রতিটি আসরেই তারকাদের নিয়ে আয়োজিত খেলার অনুষ্ঠানে তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয় বলেও জানান তিনি। বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ম্যাচের প্রসঙ্গ টেনে চাঁদনী বলেন, ম্যাচের শেষ দিকে তার ‘দম বন্ধ হয়ে আসছিল’। ৮৫ মিনিট পর্যন্ত পিছিয়ে থাকা আর্জেন্টিনা শেষ মুহূর্তে সমতায় ফিরে পরে জয় তুলে নেওয়ায় স্বস্তি পান তিনি। তার ভাষায়, ম্যাচটি ছিল ‘ফাইনালের মতো’। সম্প্রতি প্রাণীদের নিয়ে দেওয়া একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস ভাইরাল হওয়ার বিষয়েও কথা বলেন চাঁদনী। তিনি জানান, পোস্টটি কাউকে উদ্দেশ্য করে দেওয়া হয়নি। মানুষের মনুষ্যত্ব নিয়েই তিনি মন্তব্য করেছিলেন। তার মতে, মানুষ সাপের কাছ থেকে ছোবল দেওয়া বা শেয়ালের কাছ থেকে চাতুর্য শিখলেও কুকুরের বিশ্বস্ততা শিখতে পারছে না। অভিনয়ে ফেরার ইচ্ছার কথাও স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী। চাঁদনী বলেন, ‘আমাকে ডাকতে হবে তো! আমি সব সময়ই কাজ করতে চাই। এখন নতুনদের মতো আমার তো প্রোডাকশন হাউসে গিয়ে বসে থাকা যাবে না। মানুষের কাছে বলে বলে কাজ নেওয়া যাবে না। বেশ আগে থেকেই বলে আসছি, গল্পে মামা, চাচা, ফুফু, দাদাদের চরিত্রের গুরুত্ব দিতে হবে। কেউ এতদিন মাথায় নেয়নি। এখন দেখলাম দীপা খন্দকারকে কেন্দ্র করে নাটক হচ্ছে। তার করা ফুফুর একটি চরিত্র এখন মানুষের মুখে মুখে। এখন পারিবারিক গল্পের নাটক দর্শক বেশ দেখছে। আমার মনে হয় শিগগিরই ডাক পাব। প্রত্যেক বয়সের একটা সৌন্দর্য আছে। আমাকে বড় বোন, ভাবির চরিত্রে ডাকলে ক্যামেরার সামনে দাঁড়াব। শর্ত একটাই—চরিত্রটা গুরুত্বপূর্ণ হতে হবে।’
সম্প্রতি ইউটিউবে মুক্তি পাওয়া তার অভিনীত নাটক ‘দুই বিয়ে’ নিয়েও কথা বলেন চাঁদনী। তিনি জানান, নাটকটি করোনার আগেই নির্মিত হয়েছিল এবং তখন এর নাম ছিল ‘শূন্যতায় পূর্ণতা’। প্রথম প্রচারের সময়ও নাটকটি আলোচিত হয়েছিল। দীর্ঘদিন পর ইউটিউবে নতুন নামে প্রকাশিত হয়ে এক সপ্তাহে প্রায় ১০ লাখ ভিউ পেয়েছে, যা পুরোনো একটি নাটকের জন্য ইতিবাচক বলেই মনে করেন তিনি। নৃত্যচর্চা প্রসঙ্গে চাঁদনী বলেন, বর্তমানে টেলিভিশনে নাচের অনুষ্ঠান খুব কম হয় এবং সরকারি পৃষ্ঠপোষকতাও সীমিত। তাই তিনি একটি স্কুলে নৃত্যের শিক্ষকতা করছেন এবং বাসায়ও শিশুদের নাচ শেখাচ্ছেন।