

বিশ্ববাজারে দরপতনের প্রভাব পড়েছে দেশের স্বর্ণের বাজারেও। স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম কমায় প্রতি ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ফলে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৮৫৫ টাকা।
মঙ্গলবার (২ জুন) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন এ মূল্য ঘোষণা করে বাজুস। সংগঠনটি জানিয়েছে, নতুন দাম একই দিন সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।
বাজুসের নির্ধারিত নতুন মূল্য অনুযায়ী, প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণ বিক্রি হবে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৮৫৫ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯২ হাজার ১৬৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতি ভরি ১ লাখ ৫৬ হাজার ৪৭৩ টাকা।
বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের মূল্য হ্রাস পাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে নতুন এ দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে সর্বশেষ গত ২৫ মে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়েছিল। সে সময় প্রতি ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা বৃদ্ধি করে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩৮ হাজার ১২১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
চলতি বছরে এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম ৭০ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৭ দফা দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং ৩৩ দফা কমানো হয়েছে। অন্যদিকে ২০২৫ সালে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল মোট ৯৩ বার। ওই বছর ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৯ বার।
এদিকে স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার দামও কমিয়েছে বাজুস। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি ভরি রুপার দাম ১১৭ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের রুপার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৬৫৭ টাকা।
এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৫ হাজার ৩৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৬০৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার প্রতি ভরি ৩ হাজার ৪৪১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
চলতি বছরে এখন পর্যন্ত রুপার দাম ৪১ দফা সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ২২ বার দাম বেড়েছে এবং ১৯ বার কমেছে। ২০২৫ সালে রুপার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল মোট ১৩ বার, যার মধ্যে ১০ বার বৃদ্ধি এবং ৩ বার কমেছিল।