

চট্টগ্রাম-১ (মীরসরাই উপজেলা) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আশরাফ ছিদ্দিকির মনোনয়নপত্রে ভোটারের স্বাক্ষরের তালিকায় মিলেছে এক মৃত ব্যক্তির নাম ও স্বাক্ষর। এ কারণে তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া নানা অনিয়মের কারণে দলীয় মনোনয়ন না থাকায় বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী শহিদুল ইসলাম চৌধুরী এবং জাতীয় পার্টির (জাকের) প্রার্থী মোহা. এরশাদ উল্ল্যার মনোনয়ন বাতিল হয়েছে।
শুক্রবার (২ ডিসেম্বর) চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রমে এসব সিদ্ধান্ত নিশ্চিত হওয়া গেছে।
রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, মনোনয়নপত্রে সাক্ষরের বিষয়ে সাতজন ভোটার স্বাক্ষর প্রদানের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন, যা যাচাই-বাছাইয়ের সময় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে।
জানা গেছে, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আশরাফ ছিদ্দিকির মনোনয়নপত্রে দাখিল করা প্রয়োজনীয় ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরের তালিকায় এক মৃত ব্যক্তির নাম ও স্বাক্ষর পাওয়া যায়। বিষয়টি যাচাই করে নিশ্চিত হওয়ার পর নির্বাচন বিধি অনুযায়ী তার মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করা হয়। দলীয় মনোনয়ন না থাকায় বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী শহিদুল ইসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে। অপর দিকে জাতীয় পার্টির (জাকের) প্রার্থী মোহা. এরশাদ উল্ল্যা নিজেই নিজের প্রস্তাবকারী হওয়ায় নির্বাচন বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা জানান, যাদের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে তারা আগামী ৪ জানুয়ারির পরবর্তী চার কার্যদিবসের মধ্যে আপিল করতে পারবেন।
চট্টগ্রাম-১ (মীরসরাই উপজেলা) আসনটিতে মোট ১৩ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও জমা দেন ১০ জন। যাচাই-বাছাই শেষে তিনজনের মনোনয়ন বাতিল এবং সাতজনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
যাচাই-বাছাই শেষে সাত প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। তারা হলেন— জাতীয় পার্টির সৈয়দ শাহাদাত হোসেন, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের (বিএমএল-রেজি-৪০) শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নুরুল আমিন, জেএসডির একেএম আবু ইউসুফ, জামায়াতের মোহাম্মদ ছাইফুর রহমান, ইনসানিয়াত বিপ্লবের রেজাউল করিম এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ফেরদৌস আহমদ চৌধুরী।
এবারের নির্বাচনে তিন রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন ২৩১ জন। তবে শেষ পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ১৪৩ জন। সবচেয়ে বেশি অর্থাৎ ১২টি করে মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি-বাকলিয়া) ও চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর, ইপিজেড ও পতেঙ্গা) আসনে। সবচেয়ে কম অর্থাৎ তিনটি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে।
মন্তব্য করুন