মাদারীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:৪৮ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

মাদারীপুরে টানা সংঘর্ষ, ৩ শতাধিক বোমা বিস্ফোরণ 

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি। ছবি : কালবেলা
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি। ছবি : কালবেলা

মাদারীপুরে গত ২০ দিনের ধারাবাহিক সংঘর্ষ, ককটেল ও হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় চরম আতঙ্কে রয়েছেন সাধারণ মানুষ। আধিপত্য বিস্তার, পূর্বের বিরোধ ও হত্যাকাণ্ডের জের ধরে একের পর এক সহিংস ঘটনায় প্রশ্নের মুখে পড়েছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। বিভিন্ন ঘটনায় এখন পর্যন্ত প্রায় তিন শতাধিক বোমা বিস্ফোরণের অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে এসব ঘটনার ভিডিও-ছবি ছড়িয়ে পড়ায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও শুরু হয়েছে ব্যাপক সমালোচনা।

জানা যায়, গত ৩০ জানুয়ারি রাত ৮টার দিকে সবুজবাগ ও বটতলা এলাকার কিশোরদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় বটতলা এলাকায় বেশ কয়েকটি দোকানপাট ও বাড়িঘরে ভাঙচুর চালানো হয়। আতঙ্ক ছড়াতে অন্তত অর্ধশত হাতবোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে।

এরপর ১৩ ফেব্রুয়ারি শাকিল মুন্সি হত্যাকাণ্ডের জেরে বাদীপক্ষের সমর্থক ও আসামিপক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষ চলাকালে শতাধিক হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে, যা পুরো শহরে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়।

এদিকে ২১ ফেব্রুয়ারি রাত ৭টার দিকে সদর থানা সংলগ্ন সার্বিক কাউন্টারের সামনে হরিকুমারিয়া এলাকায় কিশোরদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এর প্রায় দুই ঘণ্টা পর নতুন মাদারীপুর এলাকায় ফের শাকিল মুন্সি হত্যাকাণ্ডের জেরে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময়ও শতাধিক হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

অন্যদিকে ২৪ ফেব্রুয়ারি ইফতারের সময় সদর উপজেলার চরমুগরিয়া ব্রিজ সংলগ্ন নয়াচর এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সাবেক মেম্বার জসিম মোল্লা ও পান্নু বেপারির সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। একই দিনে সন্ধ্যার পর সোনালি পরিবহনের ড্রাইভার কাউসার হোসেন ও তার স্ত্রীকে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ডিসি ব্রিজ, কলেজ রোডসহ পূর্ব আমিরাবাদ এলাকায় কিশোর ও যুবকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এসময় আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য পূর্ব আমিরাবাদ এলাকায় ১৫-২০টি হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

প্রতিটি ঘটনার পরপরই ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এতে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। অনেকেই মাদারীপুরের পরিস্থিতির সঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তুলনা করছেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুল করিম বলেন, ‘আমরা প্রতিদিন আতঙ্ক নিয়ে দোকান খুলছি। কখন কোথায় বোমা পড়ে শঙ্কায় থাকি। দ্রুত কিশোর গ্যাং বন্ধ না হলে ব্যবসা-বাণিজ্য চালানো কঠিন হয়ে যাবে।’

একজন অভিভাবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমাদের সন্তানরা স্কুল-কলেজে যাবে না-কি সংঘর্ষে জড়াবে? এই দুশ্চিন্তায় আছি। প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ দরকার।’

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আধিপত্য বিস্তার ও কিশোর গ্যাং-সংক্রান্ত সব বিষয় নিয়ে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। খুব শিগগিরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

এএসআই পদে ২ হাজার শূন্য পদের জেলাভিত্তিক তালিকা প্রকাশ

নদীপথে পুশইনের চেষ্টা ভেস্তে দিল বিজিবি 

নেশার টাকার জন্য স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগ ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে

মিনিস্টারে চাকরির সুযোগ, বেতন ৭০ হাজার টাকা

‘তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানাতেই ভারত ছেড়েছি’

টিকটক করায় স্ত্রীকে হত্যা

ইতালিতে অবৈধভাবে লোক পাঠানোর অভিযোগে বিমানের কর্মকর্তা গ্রেপ্তার

১৭৮ জনকে নিয়োগ দেবে ডিএনসিসি, আবেদন অনলাইনে

ইরান চুক্তি নিয়ে সতর্ক প্রতিক্রিয়া প্রভাবশালী ইসরায়েলপন্থি সংগঠনের

আদ্‌-দ্বীনের অন্য শাখা থাকলে, সেগুলোর কি হবে জানালেন মন্ত্রী

১০

শিক্ষার চার স্তম্ভে আমূল পরিবর্তনের ঘোষণা গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর

১১

৩ জেলায় চাকরি দেবে অ্যাপেক্স, আবেদন অনলাইনে

১২

আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালকের পদত্যাগ, দায়িত্বে জামালুন্নেসা

১৩

ইবনে সিনায় চাকরির সুযোগ, আছে বিভিন্ন সুবিধা

১৪

দিনে নিখোঁজ, রাতে বাড়ির পাশে মিলল ‘সাদিয়ার’ মরদেহ

১৫

‘চাঁদা দাবির’ অভিযোগে বিএনপির দুই নেতাকে গণপিটুনি

১৬

শুক্রবারের আগেই যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি প্রকাশ হতে পারে : জে ডি ভ্যান্স

১৭

প্রধানমন্ত্রী বুধবার মৌলভীবাজারে যাচ্ছেন, চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি

১৮

দীর্ঘদিনের বিরোধের অবসান, শতবর্ষী বট-পাকুড় গাছের ডালপালা অপসারণ

১৯

রামিসা ধর্ষণ-হত্যা মামলার পেপারবুক প্রস্তুত, শুনানি শুরু যে কোনো দিন

২০
X