রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ১০:০২ এএম
অনলাইন সংস্করণ

বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে বিলের ১০০ একর ফসল, দিশাহারা কৃষক

চাকিরপশার বিলের নাফাডাঙ্গা অংশে প্রায় ১০০ একর ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ছবি : কালবেলা
চাকিরপশার বিলের নাফাডাঙ্গা অংশে প্রায় ১০০ একর ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ছবি : কালবেলা

চৈত্র মাসের অকাল ও টানা বৃষ্টিতে কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার চাকিরপশার বিলের নাফাডাঙ্গা অংশে প্রায় ১০০ একর ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। আকস্মিক এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে বোরো ধান ও ভুট্টাসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কায় কৃষকদের চোখেমুখে এখন চরম হতাশা ও উদ্বেগের ছাপ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণে বিলের পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নাঞ্চলের বিস্তীর্ণ ফসলি জমি প্লাবিত হয়। বিশেষ করে নাফাডাঙ্গা এলাকার প্রায় ১০০ একর জমির বোরো ধান এখন পানির নিচে। অনেক ক্ষেতে ধান পাকার শেষ পর্যায়ে থাকায় কৃষকরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন। দ্রুত পানি নিষ্কাশন না হলে সম্পূর্ণ ফসল পচে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, চৈত্র মাসে এমন অস্বাভাবিক বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতা তারা আগে কখনও দেখেননি। হাড়ভাঙা খাটুনি আর ঋণের টাকায় ফলানো সোনার ফসল ঘরে তোলার আগমুহূর্তে এমন বিপর্যয় তাদের নিঃস্ব করে দিচ্ছে।

নাফাডাঙ্গা এলাকার কৃষক আব্দুল কাদের বলেন, অনেক কষ্ট করে ঋণ নিয়ে জমিতে ধান লাগিয়েছিলাম। এখন সব পানির নিচে। যদি দ্রুত পানি না নামে, তবে না খেয়ে থাকা ছাড়া উপায় থাকবে না।

আরেক কৃষক রফিকুল ইসলাম জানান, ফসল কাটার ঠিক আগমুহূর্তে এমন বৃষ্টি তাদের সব পরিকল্পনা ভেস্তে দিয়েছে।

রাজারহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাইফুন্নাহার সাথী বলেন, চাকিরপশার বিলের প্রায় ১০০ একর জমি তলিয়ে যাওয়ার খবর আমরা পেয়েছি। মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করছেন। তালিকা প্রস্তুত করে দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে কৃষকদের দাবি, শুধু তালিকা নয়, বরং বিলের পানি দ্রুত বের করে দেওয়ার জন্য স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে প্রতি বছরই তাদের এমন ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ফুটবল খেলতে গিয়ে প্রাণ গেল কিশোরের 

ভারতীয় নাগরিকদের পুশইনের চেষ্টা / সীমান্তে উত্তেজনা, শক্ত অবস্থানে বিজিবি 

আজ রাতে তেহরান পুড়বে : বেন-গাভির

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ইসরায়েলজুড়ে রেড অ্যালার্ট জারি

ভূমিকম্পের সময় যে দোয়া পড়বেন

বাসচালককে মারধর ও ছাত্রদল কর্মীকে কোপানোর অভিযোগ  

দেশের যেসব জেলায় ভূমিকম্প অনুভূত, উৎপত্তিস্থল যেখানে

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত

খেলতে গিয়ে প্রাণ গেল দুই শিশুর

চা শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধের দাবিতে ইউএনওর কাছে স্মারকলিপি

১০

আরও বাড়ল ই-ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সময়

১১

লেবাননে হামলা অব্যাহত থাকলে আবারও যুদ্ধে নামব : ইরান

১২

‘বিশ্ব এলপিজি দিবস-২০২৬’ উদযাপন করল ফ্রেশ এলপি গ্যাস

১৩

আর্জেন্টিনা যেন মিনি হাসপাতাল!

১৪

বিশ্বকাপ এলেই রং বদলান নেইমার

১৫

রামিসা হত্যাকাণ্ডের রায়ে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ পড়লেন জামায়াত আমির

১৬

সাতক্ষীরা পৌর নির্বাচনে নতুন সমীকরণ, আলোচনায় নাসিম ফারুক খান মিঠু

১৭

বিশ্বকাপে সেদিন আবির্ভাব হয়েছিল এক ‘ফুটবল দেবতার’, নাম তার ম্যারাডোনা

১৮

লাশ নিয়ে থানা ঘেরাও, এস আই প্রত্যাহার

১৯

বাজেট ২০২৬-২৭ / মানবসম্পদ উন্নয়নের রূপরেখা চান বিশেষজ্ঞরা

২০
X