

চট্টগ্রাম নগরীর ৫৯টি স্থানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন।
তিনি বলেন, প্রথম পর্যায়ে দুটি মোড়ে পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। এআই ক্যামেরার পাশাপাশি সড়ক চিহ্ন, নিরাপদ পথচারী পারাপার এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো স্থাপনের কাজও করবে চসিক। তবে সড়ক ব্যবহারকারীরা ট্রাফিক আইন না মানলে শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) নগরীর দ্য পেনিনসুলা চিটাগং হোটেলে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) ও ওয়ার্ল্ড রিসোর্সেস ইনস্টিটিউট (ডব্লিউআরআই) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক কর্মশালায় তিনি এ তথ্য জানান।
সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি কমাতে অবকাঠামোগত নকশার মাধ্যমে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ, সড়কে নিরাপত্তা, কার্যকর আইন প্রয়োগ, নিরাপদ সড়ক নকশা ও গতি নিয়ন্ত্রণবান্ধব অবকাঠামো গড়ে তোলার পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানোর লক্ষ্যে ‘স্পিড রিডাকশন থ্রু ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডিজাইন’ শীর্ষক দিনব্যাপী এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালায় চসিকের ১৫ জন প্রকৌশলী এবং চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) ট্রাফিক বিভাগের ১০ জন কর্মকর্তা অংশ নেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া বলেন, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে চসিক ও বিআইজিআরএসের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে সিএমপি। দুর্ঘটনা প্রতিরোধে নগরজুড়ে গতিসীমা নির্দেশিকা কার্যকরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি চালক ও সড়ক ব্যবহারকারীদের ট্রাফিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানান।
সিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-দক্ষিণ) মোহাম্মদ লিয়াকত আলী খান বলেন, সড়কে শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের পাশাপাশি সিটি করপোরেশনেরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে। দুই প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগে চট্টগ্রামের সড়ক আরও নিরাপদ করা সম্ভব।
কর্মশালার কারিগরি অধিবেশন পরিচালনা করেন ভাইটাল স্ট্র্যাটেজিসের সিনিয়র টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার মাইরিক পালা, ডব্লিউআরআই ইন্দোনেশিয়ার আরবান রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড নলেজ ম্যানেজমেন্ট ম্যানেজার রেত্নো উইহানেস্তা এবং ডব্লিউআরআই বাংলাদেশের স্থপতি ফারজানা ইসলাম তমা ও আরিনা তাহনিম।
কর্মশালায় দলভিত্তিক নকশা অনুশীলনের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন ধরনের সড়ক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে গতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর অবকাঠামোগত সমাধান উপস্থাপন করেন। কর্মশালা শেষে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সনদপত্র বিতরণ করা হয়।