

রাজধানীর শাপলা চত্ত্বর হত্যাকাণ্ডের মামলাসহ র্যাবে থাকা অবস্থায় ক্রসফায়ারের অভিযোগে করা মামলায় আসামি করা হবে সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম কালবেলাকে এই তথ্য জানান।
প্রসিকিউশন জানায়, ২০১৩ সালে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশে বিচারবর্হিভূত হত্যাকাণ্ডে তৎকালীন র্যাব কর্মকর্তা সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের সম্পৃক্ত থাকার তথ্য পেয়েছে তদন্ত সংস্থা। তাকে এ মামলার আসামি করা হবে।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আসলে কারা আসামি হতে যাচ্ছেন, তা এখনই প্রকাশ করতে পারছি না। তবে তৎকালীন আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনসহ অনেক কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততা পাচ্ছি। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে পূর্ণ প্রতিবেদন পাবো বলে আমরা আশাবাদী। এ নিয়ে কাজ করছে তদন্ত সংস্থা।
নারকীয় এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, শাপলা চত্বরে ঘটে যাওয়া নারকীয় হত্যাকাণ্ডটি গোটা পৃথিবীর মানুষের বিবেককে নাড়া দিয়েছিল। সেহেতু মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় যাদেরই সম্পৃক্ততা মিলবে, আমরা তাদেরই আইনের আওতায় আনবো। তিনি সিভিলিয়ান কিংবা আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর হোক। আমরা প্রত্যেককেই বিচারের আওতায় নিয়ে আসবো।
এ সময় তিনি আরও বলেন, শুধু শাপলা চত্বর গণহত্যা মামলায় নয়, তিনি যখন র্যাবে ছিলেন সে সময় যত গুম হয়েছে-খুন হয়েছে কিংবা ক্রসফায়ার হয়েছে সেসব মামলায়ও তাকে আনা হবে। তিনি র্যাবে থাকা অবস্থায় কি ক্রসফায়ার হয়নি, গুম হয়নি খুন হয়নি। যারাই জড়িত থাকবে সবাইকে আনা হবে। এ সময় তার কাছে জানতে চাওয়া হয় সে তো ট্রাইব্যুনালের একটি মামলায় সাজা খাটছেন, রাজসাক্ষী হওয়ায় সাজাও কম হয়েছে। তাহলে তাকে কি অন্য মামলায় আনা হবে আর? চিফ বলেন, আপনি শেখ হাসিনাকে আনতে পারলে তাকে কেন আনা যাবে না। তিনি একটা পার্টিকুলার মামলায় সাক্ষী হয়েছেন। কিন্তু অন্য মামলায় কেন তাকে আনা হবে না? শাপালা চত্বর মামলা অন্য একটা প্রেক্ষাপট, অন্য একটা বিষয় তাহলে কেন আনা যাবে না অবশ্রই আনা হবে। শুধু তিনি নয় এই মামলায় যাদের সম্পর্ক পাওয়া যাবে সবাইকে আনা হবে।বর্তমানে এ মামলা তদন্তাধীন রয়েছে। গত ৫ এপ্রিল প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল।
তবে প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ৭ জুন দিন ঠিক করেন ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেল। এ মামলায় গ্রেপ্তার রয়েছেন ছয়জন।
তারা হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহিদুল হক, পুলিশের সাবেক উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোল্যা নজরুল ইসলাম, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা মণ্ডলীর সভাপতি শাহরিয়ার কবির ও সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল।
এদিকে, জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে দেশজুড়ে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় পাঁচ বছরের সাজা নিয়ে কারাগারে রয়েছেন চৌধুরী মামুন। সাবেক এই আইজিপি এ মামলার রাজসাক্ষী হিসেবে জবানবন্দিও দিয়েছেন।