

বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও সিনিয়র সাংবাদিক আবু হেনা রাসেল আর নেই। বুধবার (২২ জুলাই, ২০২৬) দুপুরে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন; ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৭ বছর। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য সহকর্মী, স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি চত্বরে মরহুমের জানাযা নামাজ সম্পন্ন হয়। সাংবাদিক নেতারা তার কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। পরে রায়েরবাজার বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধ–সংলগ্ন কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়।
স্বজন ও সহকর্মীরা জানিয়েছেন, গতকাল রাজধানীর আসাদগেট সংলগ্ন একটি ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেলে জ্বালানি নিতে যান রাসেল। সেখানে হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে নিয়ে যান। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
রাজশাহীতে জন্ম নেওয়া রাসেল ২০০০ সালের দিকে ঢাকায় সাংবাদিকতা শুরু করেন। তিনি দৈনিক ভোরের কাগজ, সমকাল ও কালের কণ্ঠ পত্রিকায় অপরাধ বিভাগে দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ তিনি ‘দৈনিক খবর সংযোগ’ পত্রিকায় বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
আবু হেনা রাসেল বিভিন্ন সময়ে ডিআরইউ ও ক্র্যাব কার্য নির্বাহী কমিটিতে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ তিনি ক্র্যাব কার্যনির্বাহী কমিটিতে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে এক নম্বর সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
সজ্জন মানুষ হিসেবে পরিচিত এই সাংবাদিকের মৃত্যুতে সংগঠন ও সহকর্মীদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার মৃত্যুতে ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল, ক্র্যাব সভাপতি মির্জা মেহেদী তমাল ও এম এম বাদশাহ গভীর শোক জানিয়েছেন। তারা মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
এদিকে রাসেলের মৃত্যুতে ক্র্যাব প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান স্থগিত ঘোষণা করেছে। সংগঠনটির ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষ্যে আগামিকাল বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল।