

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় করা বহুল আলোচিত মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হচ্ছে আজ। আলোচিত এ মামলায় মোট ১৮ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে আসামিদের উপস্থিতিতে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আদালতে হাজির করা হবে।
এর আগে সোমবার (১ জুন) ট্রাইব্যুনালে মামলার অভিযোগ গঠন শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। বেলা ১১টার দিকে কঠোর পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে দুই আসামিকে আদালতে আনা হয়। শুনানি শেষে আদালত তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে মামলাটি সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে পাঠান এবং এ কার্যক্রম শুরুর জন্য ২ জুন দিন ধার্য করেন।
আদালত সূত্র জানিয়েছে, গত ২৪ মে পুলিশের দাখিল করা অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে ট্রাইব্যুনাল ১ জুন অভিযোগ গঠন শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেছিলেন। তদন্তে পাওয়া ডিএনএ রিপোর্ট, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং বিভিন্ন ফরেনসিক আলামতের ভিত্তিতে অভিযোগপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষে আছেন পাবলিক প্রসিকিউটর আজিজুর রহমান দুলু। তিনি আদালতে সাক্ষীদের উপস্থাপন করবেন। পরে সাক্ষীদের জেরা করবেন স্টেট ডিফেন্স অ্যাডভোকেট মুসা কালিমুল্যাহ।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান ভূঁইয়া নিপুণ গত ২৪ মে সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এরপর ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হক মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
একই দিন মামলার নথি ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। পরে ট্রাইব্যুনাল অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য ১ জুন দিন ধার্য করেন।
গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবীর একটি বাসা থেকে আট বছর বয়সী রামিসা আক্তারের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ওই বাসার বাসিন্দা সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সোহেল রানা ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।