বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশ : ১২ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:১৫ পিএম
আপডেট : ১২ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:১৮ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

আশার মৃত্যুতে ভারতীয় সংগীতশিল্পীদের শোক

আশা ভোঁসলে, এ আর রহমান, শ্রেয়া ঘোষাল, সেলিম মার্চেন্ট ও শঙ্কর মহাদেবন । ছবি : সংগৃহীত
আশা ভোঁসলে, এ আর রহমান, শ্রেয়া ঘোষাল, সেলিম মার্চেন্ট ও শঙ্কর মহাদেবন । ছবি : সংগৃহীত

আকাশভাঙা বিষাদ আর সুরের ভুবনে এক গভীর শূন্যতা তৈরি করে বিদায় নিলেন সুরসম্রাজ্ঞী আশা ভোঁসলে। দীর্ঘ আট দশক ধরে যার কণ্ঠের জাদুতে বুঁদ হয়েছিল গোটা বিশ্ব, সেই কিংবদন্তি আজ চিরশান্তির দেশে। রোববার (১২ এপ্রিল) মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ৯২ বছর বয়সী এই সুর-জাদুকরী।

কখনও চঞ্চল কিশোরীর খিলখিল হাসি, কখনও বিরহী হৃদয়ের গুমরে মরা হাহাকার, তার কণ্ঠের বৈচিত্র্য ছিল স্রষ্টার এক বিস্ময়কর আশীর্বাদ। তার প্রয়াণে ভারতীয় সংগীতের একটি স্বর্ণযুগের অবসান ঘটলো। প্রিয় 'আশা ভোঁসলে’ তাই তার বিদায়ে শোকস্তব্ধ গোটা বিনোদন দুনিয়া। এ আর রহমান, শ্রেয়া ঘোষাল, সেলিম মার্চেন্ট এবং শঙ্কর মহাদেবনসহ অগণিত শিল্পী ও অনুরাগী জানিয়েছেন তাদের অশ্রুসিক্ত শ্রদ্ধা।

আশা ভোঁসলেকে স্মরণ করে শ্রেয়া তার নিজের সোশ্যাল হ্যান্ডেল ফেসবুকে লিখেছেন, ‘আজ আমরা এমন এক কণ্ঠস্বরকে হারালাম যা কয়েক প্রজন্মকে পথ দেখিয়েছে। আশা ভোঁসলে শুধু কিংবদন্তি ছিলেন না, তিনি ছিলেন অসীম। তাঁর বহুমুখী প্রতিভা আমাদের সংগীতের আত্মার অংশ। আমরা সত্যিই ভাগ্যবান যে তাঁর মতো এক প্রতিভাকে চোখের সামনে দেখার সুযোগ পেয়েছি।‘

সুরকার এ আর রহমান একটি ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, ‘তিনি নিজের কণ্ঠস্বর নিয়ে চিরকাল আমাদের মধ্যে বেঁচে থাকবেন। কী অসাধারণ একজন শিল্পী!’

অন্যদিকে, সুরকার শঙ্কর মহাদেবন বলেছেন, ‘তিনি আমাদের হৃদয়ে অমর হয়ে রইলেন।‘

সুরকার সেলিম মার্চেন্ট তাঁর বার্তায় লিখেছেন, ‘একটি যুগের শেষ হয় না, তা প্রতিধ্বনিত হতে থাকে। প্রতিটি সুরে প্রাণ দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ আশা জি।‘

এছাড়া প্রথম ইন্ডিয়ান আইডল অভিজিৎ সাওয়ান্ত বলেন, ‘কিংবদন্তিরা কখনও সত্যিই চলে যান না। আজীবন সুর উপহার দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ। ওম শান্তি।‘

উল্লেখ্য, ১৯৩৩ সালের ৮ সেপ্টেম্বর জন্ম গ্রহণ করেন আশা ভোঁসলে। মাত্র ১০ বছর বয়সে গাছের তলায় দাঁড়িয়ে ট্রেনের আওয়াজের মধ্যে প্রথম গান রেকর্ড করেছিলেন তিনি। সেই শুরু, তারপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

২০টিরও বেশি ভাষায় ১২ হাজারেরও বেশি গান গেয়ে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে নাম তুলেছিলেন তিনি। ‘দম মারো দম’ থেকে ‘চুরা লিয়া হ্যায় তুমনে’, কিংবা ‘দিল চিজ কেয়া হ্যায়’ কিশোর কুমার, মান্না দে বা মহম্মত রফিদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে গান গেয়েছেন তিনি।

ভারত সরকার তাকে ‘দাদাসাহেব ফালকে’ এবং ‘পদ্মবিভূষণ’ সম্মানে ভূষিত করেছিল। সুরের আকাশ আজ ম্লান, কিন্তু তার রেখে যাওয়া কয়েক হাজার গান অমর হয়ে থাকবে প্রতিটি সংগীতপ্রেমীদের হৃদয়ে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬ / সবুজ পরিবেশ, নিরাপদ কৃষি ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশই আমাদের প্রত্যাশা

প্রধানমন্ত্রীর লাল টেলিফোনের তার চুরি, ৫ দিনের রিমান্ডে দুই আসামি

১৫ বছর পর বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখল অস্ট্রেলিয়া

সীমান্তবর্তী এলাকায় টহল ও নজরদারি জোরদার

ব্রাজিলের বিখ্যাত ভবিষ্যৎদ্রষ্টার মতে এবার বিশ্বকাপ জিতবে পর্তুগাল

দৌলতদিয়ার বাস ডুবির ঘটনায় দুটি তদন্ত কমিটি গঠন : নৌ প্রতিমন্ত্রী

আর্জেন্টিনার সামনে সেই পুরোনো অভিশাপ

তৃতীয় লিঙ্গের শিক্ষার্থীদের পাশে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় : উপাচার্য 

বিশ্বকাপে ভুভুজেলা নিষিদ্ধ করল ফিফা, কঠোর হচ্ছে স্টেডিয়াম প্রবেশনীতি

ভেঙে গেল জার্মানীর বিশ্বকাপজয়ী তারকার দুই দশকের সংসার

১০

আম খাওয়ার পর ভুলেও খাবেন না এই ৫ খাবার

১১

অবশেষে ‘অলৌকিক’ সেই গাছ নিয়ে রহস্যের অবসান

১২

অস্ত্র নামাবে না হামাস, সামরিক অস্ত্রভাণ্ডারের সিদ্ধান্তও আলোচনা ছাড়া নয়

১৩

জিমেইল হ্যাক করে ব্যাংক থেকে টাকা আত্মসাৎ, মূলহোতাসহ গ্রেপ্তার ২ 

১৪

বাসযোগ্য পৃথিবী গড়তে বৈশ্বিক সহযোগিতার আহ্বান পরিবেশ প্রতিমন্ত্রীর

১৫

সাহারা মরুভূমিতে ট্রাক বিকল, তৃষ্ণায় প্রাণ গেল ৪৯ যাত্রীর

১৬

লেবাননে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী নিহতের ঘটনায় মিসরের নিন্দা

১৭

রাজনীতি ও গণতন্ত্রকে ধ্বংসে সুপরিকল্পিত চক্রান্ত চলছে : মির্জা ফখরুল

১৮

বিয়ের মধ্যে প্রচলিত ৩০ কুসংস্কার

১৯

রাজধানীর কিছু গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় মিছিল-সমাবেশ নিষিদ্ধ

২০
X