

বিশ্বের ধনী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের তালিকা তৈরিতে ‘ফোর্বস’ ম্যাগাজিনের জুড়ি নেই। সাধারণত এই তালিকায় ব্যবসায়ী বা প্রযুক্তি খাতের ধনকুবেরদের আধিপত্য থাকলেও, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিনোদন দুনিয়ার তারকাদের দাপটও সেখানে বাড়ছে। সম্প্রতি ফোর্বস তাদের বিশেষ ‘আইকনোক্লাস্ট ৫০’ তালিকা প্রকাশ করেছে, যেখানে নিজেদের শিল্প ও ব্যবসায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা ব্যক্তিত্বদের সম্মান জানানো হয়েছে। আর এই তালিকায় এক অবিশ্বাস্য কীর্তি গড়ে বাজিমাত করেছেন বিশ্বখ্যাত পপ তারকা টেইলর সুইফট।
ফোর্বসের হিসাব অনুযায়ী, সুইফটের মোট সম্পত্তির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ বিলিয়ন (২০০ কোটি) ডলারে। এর মাধ্যমে ইতিহাসের সবচেয়ে ধনী নারী সংগীতশিল্পী হিসেবে নিজের নাম লেখালেন তিনি।
ফোর্বসের এই তালিকায় ইলন মাস্ক, মার্ক জাকারবার্গ, ডোনাল্ড ট্রাম্প কিংবা ওয়ারেন বাফেটের মতো শত বিলিয়নেয়ারদের পাশাপাশি জায়গা করে নিয়েছেন বিয়ন্সে, ব্যাড বানি, দ্য উইকেন্ড এবং লস অ্যাঞ্জেলেস ডজার্সের তারকা পিচার শোহেই ওতানির মতো বিনোদন ও ক্রীড়া জগতের বৈশ্বিক তারকারা।
টেইলর সুইফটের এই অবিশ্বাস্য উত্থানের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে ২০২৩-২৪ সালের রেকর্ডব্রেকিং ব্লকবাস্টার ‘ইরাস ট্যুর’ এবং একের পর এক হিট অ্যালবাম। বিশেষ করে তার সাম্প্রতিক অ্যালবাম ‘টর্চার্ড পোয়েটস ডিপার্টমেন্ট’ এবং ২০১৫ সালের শেষের দিকে মুক্তি পাওয়া ব্যাপক জনপ্রিয় ‘দ্য লাইফ অব আ শোগার্ল’, সেই সঙ্গে নিজের পুরনো গানের রি-রেকর্ডিং সংস্করণগুলো তাকে এই অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে।
ফোর্বস তাদের প্রতিবেদনে জানায়, ২০২০ সালে নিজের গানের স্বত্ব বা মাস্টার্স পুনর্নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়ে টেইলর সুইফট মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির ইতিহাস বদলে দিয়েছিলেন। এর ফলে রয়্যালটির সিংহভাগ সরাসরি তার পকেটে আসতে শুরু করে, যা অন্য শিল্পীদেরও নিজেদের গানের মালিকানা বুঝে নিতে অনুপ্রাণিত করেছে। ২০২৪ সালে ‘ইরাস ট্যুর’-এর মাধ্যমে সুইফট প্রথম বিলিয়নেয়ার ক্লাবে প্রবেশ করেন। এই ট্যুরটি ২.২ বিলিয়ন ডলার আয় করে ইতিহাসের সবচেয়ে সফল কনসার্ট ট্যুর হিসেবে রেকর্ড গড়ে।
এই আয়ের একটি বড় অংশ দিয়ে সুইফট আনুমানিক ৩৬০ মিলিয়ন ডলারে তার পুরনো গানের আসল মাস্টার্সগুলো কিনে নেন। ফলশ্রুতিতে, ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে তার মোট সম্পদ দ্বিগুণ হয়ে ২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়।