

সুরেলা কণ্ঠের জন্য প্রজন্মের পর প্রজন্মের শ্রোতাদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন ভারতীয় সংগীতশিল্পী অলকা ইয়াগনিক। ‘এক দো তিন’, ‘তালে সে তাল মিলা’, ‘টিপ টিপ বরসা পানি’, ‘দিলবার দিলবার’ ও ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’-এর মতো অসংখ্য জনপ্রিয় গানে কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি। চার দশকের ক্যারিয়ারে ২৫টি ভাষায় প্রায় ২২ হাজার গান রেকর্ড করেছেন এই কিংবদন্তি শিল্পী।
২০২৪ সালের পর থেকে জনসমক্ষে খুব একটা দেখা যায়নি অলকাকে। সম্প্রতি ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছ থেকে দেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘পদ্মভূষণ’ গ্রহণ করতে গিয়ে আবারও আলোচনায় আসেন তিনি। তবে হুইলচেয়ারে তাকে দেখে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন ভক্তরা।
জানা যায়, অলকা ‘সেন্সোরিনিউরাল হিয়ারিং লস’ নামের বিরল শ্রবণজনিত সমস্যায় ভুগছেন। ২০২৪ সালে একটি বিমানযাত্রার পর হঠাৎই তিনি শ্রবণশক্তি হারানোর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন। চিকিৎসকদের মতে, ভাইরাল সংক্রমণ বা দীর্ঘদিন উচ্চ শব্দের মধ্যে কাজ করার কারণে এমনটি হতে পারে।
পদ্মভূষণ গ্রহণের পর ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে অলকা জানান, গত দুই বছর তিনি কঠিন স্বাস্থ্যসংকটের মধ্য দিয়ে গেছেন। এ সময় ভক্তদের ভালোবাসা, প্রার্থনা ও সমর্থন তাকে শক্তি জুগিয়েছে। তিনি লেখেন, এই সম্মাননা শুধু তার একার নয়, বরং সেই সব শ্রোতার, যারা বছরের পর বছর তার গানকে ভালোবেসেছেন।
ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরছেন বলেও জানান অলকা। তিনি লেখেন, ‘এই মুহূর্তটি বিশেষভাবে অর্থপূর্ণ মনে হচ্ছে কারণ এটি কেবল আমার কাজের স্বীকৃতি নয়, বরং ভালোবাসা, আশা এবং ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি থেকে যে শক্তি আসে, তার এক অনন্য স্মারক। আমি ধীরে ধীরে নিজের চেনা ছন্দে ফিরে আসছি এবং আজ এখানে উপস্থিত হতে চেয়েছি—শুধু নিজের জন্য নয়, বরং আপনাদের প্রত্যেকের জন্য যারা আমার এই পথচলার অংশ হয়েছেন।’
এই স্বীকৃতি তাকে নতুন করে আশা ও সাহস জুগিয়েছে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে দেশের নেতৃত্ব, কর্তৃপক্ষ এবং ভক্তদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন অলকা।
অলকার এই পোস্ট মুহূর্তেই ভাইরাল হয়েছে। হাজারো ভক্তের পাশাপাশি সংগীত ও চলচ্চিত্র অঙ্গনের অনেক তারকাও তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন।