বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৬:১৬ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
জাপান টাইমসের প্রতিবেদন

ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখল করলে জলবায়ু গবেষণার কী হবে?

ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

গ্রিনল্যান্ড দখল নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও গ্রিনল্যান্ডের বিজ্ঞানীদের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েনে বেশ কয়েকটি যৌথ গবেষণা প্রকল্প স্থগিত হয়ে গেছে।

মার্কিন গবেষকেরা জানিয়েছেন, রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে গ্রিনল্যান্ডের সহকর্মীদের সঙ্গে সরাসরি সহযোগিতা আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। ভবিষ্যতে শিক্ষার্থী ও তরুণ গবেষকদের নিয়ে যৌথ গবেষণা কীভাবে চলবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

গ্রিনল্যান্ড দ্রুত উষ্ণ হয়ে উঠছে। দেশটির বিশাল বরফস্তরে এত পরিমাণ মিঠা পানি রয়েছে, যা পুরোপুরি গলে গেলে বিশ্বের সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা প্রায় ২৩ ফুট পর্যন্ত বাড়তে পারে। বিজ্ঞানীরা এ বরফস্তর কত দ্রুত দুর্বল হচ্ছে এবং এর প্রভাব বৈশ্বিক আবহাওয়ার ওপর কী হতে পারে, তা বোঝার চেষ্টা করছেন।

বিশেষ করে আটলান্টিক মহাসাগরের গুরুত্বপূর্ণ স্রোতব্যবস্থা ‘এএমওসি’ দুর্বল হয়ে পড়ছে কি না, তা নিয়ে গবেষণা চলছে। এই স্রোত পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের আবহাওয়াকে প্রভাবিত করে।

গ্রিনল্যান্ডে এসব গবেষণার বড় অংশের অর্থায়ন করে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশন (এনএসএফ)। সংস্থাটি বর্তমানে সেখানে ১৯টি প্রকল্পে প্রায় ২৬ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করছে। তবে গ্রিনল্যান্ডের কিছু গবেষক বলছেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে এখন মার্কিন অর্থায়ন গ্রহণ বা যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানীদের সঙ্গে কাজ করতে তারা সতর্ক হচ্ছেন।

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষক বলেন, নতুন যৌথ গবেষণা শুরু করা এখন অনেক কঠিন হয়ে গেছে। গ্রিনল্যান্ডের মানুষ আশঙ্কা করছেন, যুক্তরাষ্ট্র গবেষণার মাধ্যমে দ্বীপটির রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

এর আগে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর রাশিয়ার সঙ্গে জলবায়ু গবেষণাও বন্ধ হয়ে যায়। এতে গুরুত্বপূর্ণ জলবায়ু তথ্য সংগ্রহ ব্যাহত হয়েছিল। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ভূরাজনৈতিক দ্বন্দ্ব জলবায়ু গবেষণার জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

গ্রিনল্যান্ডে জলবায়ু গবেষণার কাজে অনেক সময় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সহায়তা লাগে। তবে গবেষকদের কেউ কেউ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি গ্রিনল্যান্ডের প্রতি আগ্রাসী অবস্থান বজায় রাখে, তাহলে তারা সামরিক সহায়তাও ব্যবহার করবেন না।

গবেষকদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব পড়া খুবই উদ্বেগজনক। তারা বলছেন, বিজ্ঞান ও কূটনীতিকে আলাদা রাখা না গেলে ভবিষ্যতে বিশ্ব আরও বড় ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।

কালবেলা/পিআর
কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

শাবিপ্রবিতে শিক্ষার্থীকে মারধর, দুই ছাত্রদল নেতাকে বহিষ্কার

ডিমলায় বাড়ছে অনলাইন জুয়ার বিস্তার, উদ্বেগে অভিভাবক ও সচেতন মহল

বিকেলে বাবার দাফন, রাতে এটিএম বুথে ডিউটি, সকালে এইচএসসি পরীক্ষা

জুলাই শহীদদের স্মরণে ঢাবি কেন্দ্রীয় মসজিদে ছাত্রদলের দোয়া ও মিলাদ বুধবার

বিয়ে নিয়ে শুভঙ্করের ফাঁকি, জামায়াত এমপির গোমর ফাঁস করলেন কাজী  

থাইল্যান্ডে আন্তঃদেশীয় অপরাধ সম্মেলন শেষ, কর্মব্যস্ত সময় কাটালেন আইজিপি

রাজধানীতে বিএনপি কর্মীকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা

আরএফএল কর্মীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার, সহকর্মী পলাতক

অবৈধ পথে ইতালি যাওয়ার চেষ্টা, হাঙ্গেরিতে বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু

নতুন বাংলাদেশ গড়তে এনসিপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: হাসনাত আব্দুল্লাহ

১০

‘রাজনৈতিক বিভেদের ঊর্ধ্বে থেকে আইনজীবীদের কল্যাণে কাজ করতে হবে’

১১

বিশ্বকাপ ফাইনালের মারামারিতে যে শাস্তি পেতে পারেন আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়রা

১২

হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লড়তে চান সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট, দাবি ট্রাম্পের

১৩

হুতিদের হুমকির মুখে লোহিত সাগর থেকে ফিরে গেল ২ সৌদি জাহাজ

১৪

চুক্তি আগস্টে / এবার এয়ারবাসের ১০ উড়োজাহাজ কিনছে সরকার

১৫

উন্নয়ন কোনো দলের নয়, জনগণের অধিকার: মান্নান

১৬

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যাদের প্রার্থী হতে সুযোগ দেবে না ইসি

১৭

কুয়াকাটায় বসতবাড়ি থেকে পদ্ম গোখরা উদ্ধার

১৮

ইরানে হামলা না চালালে আজ ইসরায়েলের অস্তিত্ব থাকত না: ট্রাম্প

১৯

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে অভিযাত্রিক ফাউন্ডেশনের খাদ্য সহায়তা

২০
X