

আমরা সাধারণত কিডনি বা পিত্তথলিতে পাথর হওয়ার কথা শুনে অভ্যস্ত। কিন্তু শরীরের আরও এক সংবেদনশীল জায়গা গলাতেও পাথর হতে পারে! শুনতে অদ্ভুত মনে হলেও অনেক সময় রোগীরা নিজেরাই গলা থেকে পাথর বের হতে দেখে বিচলিত হয়ে পড়েন। চিকিৎসার পরিভাষায় এই সমস্যাকে বলা হয় ‘টনসিল স্টোন’ বা ‘টনসিলোলিথ’। কেন হয় এই সমস্যা আর এর প্রতিকারই বা কী, তা নিয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন ভারতীয় ইএনটি স্পেশ্যালিস্ট ডা. সোমনাথ দে।
টনসিল স্টোন আসলে কী?
আমাদের টনসিলের ভেতরে ছোট ছোট ভাঁজ বা গর্ত থাকে, যাকে চিকিৎসকেরা বলেন ‘টনসিলার ক্রিপ্ট’। এই গর্তগুলোতে যখন খাবারের কণা, লালা, মৃত কোষ বা বিভিন্ন জীবাণু জমে যায় এবং ধীরে ধীরে ক্যালসিয়ামের মতো খনিজের সঙ্গে মিশে শক্ত হয়ে যায়, তখনই তা পাথরের মতো আকার নেয়। এই স্টোনগুলো সাধারণত সাদা বা হলদে রঙের হয় এবং টনসিলের ওপরে ছোট ছোট দানার মতো দেখা যেতে পারে।
কেন হয় এই সমস্যা?
যাদের বারবার টনসিল ইনফেকশন বা টনসিলাইটিস হয়, তাঁদের এই সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। সংক্রমণের ফলে টনসিলের খাঁজগুলো আরও গভীর হয়ে যায়, ফলে সেখানে ময়লা জমার প্রবণতা বাড়ে। এছাড়া মুখের সঠিক পরিচ্ছন্নতা বজায় না রাখা, পর্যাপ্ত পানি পান না করা এবং ধূমপান বা মুখ শুকিয়ে থাকার সমস্যাও টনসিল স্টোনের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
উপসর্গ বা লক্ষণগুলো কী কী?
অনেক সময় টনসিল স্টোন থাকলেও তা সহজে বোঝা যায় না। তবে কিছু সাধারণ লক্ষণ দেখে এটি শনাক্ত করা সম্ভব:
আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই
অনেকেই মনে করেন গলার এই পাথর থেকে বোধহয় ক্যানসার হতে পারে। তবে চিকিৎসকদের মতে, ক্যানসারের সঙ্গে টনসিল স্টোনের কোনো সম্পর্ক নেই।
এটি কোনো সংক্রামক বা প্রাণঘাতী রোগ নয়। অনেক সময় এই স্টোন নিজে থেকেই বেরিয়ে যায় বা অজান্তে গিলে ফেললেও শরীরের কোনো ক্ষতি হয় না।
প্রতিকার ও ঘরোয়া যত্ন
টনসিল স্টোনের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে বা এটি প্রতিরোধ করতে কিছু নিয়ম মেনে চলা জরুরি:
কখন যাবেন চিকিৎসকের কাছে?
যদি ঘরোয়া উপায়ে সমস্যা না কমে, বারবার স্টোন ফিরে আসে বা গিলতে প্রচণ্ড কষ্ট হয়, তবে অবশ্যই একজন ইএনটি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে। অনেক সময় চিকিৎসক চেম্বারেই বিশেষ পদ্ধতিতে স্টোন বের করে দেন। তবে সমস্যা খুব বেশি হলে চিকিৎসকেরা ‘টনসিলেকটমি’ বা টনসিল বাদ দেওয়ার অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিতে পারেন।
মনে রাখবেন, মুখে দুর্গন্ধ মানেই সবসময় পেটের সমস্যা নয়; অনেক সময় এর কারণ লুকিয়ে থাকতে পারে আপনার গলার ভেতরেই। তাই সচেতন হোন এবং সঠিক সময়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
তথ্যসূত্র: দ্য ওয়াল