

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার গত দুই মাস ধরে ধারাবাহিক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোর চিকিৎসকদের ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সিভিল সার্জনদের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, ডেঙ্গু আক্রান্ত কোনো রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়ার আগে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাবেন না। পাশাপাশি রোগীরা যাতে চিকিৎসা অসমাপ্ত রেখে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যেতে না পারেন, সে জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থাও আরও জোরদার করা হয়েছে।
রোববার (০৫ জুলাই) রাজধানীর ন্যাশনাল নিউরোসায়েন্স হাসপাতালের ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট দ্বিতীয় ইউনিট উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত প্রস্তুতিমূলক সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
হাম পরিস্থিতি সম্পর্কে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বর্তমানে রোগটির সংক্রমণ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ইতোমধ্যে দেশব্যাপী হাম প্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচি সম্পন্ন হয়েছে। তবে শিশুদের পুষ্টিহীনতার কারণে হাম পুরোপুরি নির্মূল করা এখনো সম্ভব হয়নি।
তিনি আরও দাবি করেন, গত চার বছরে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল বিতরণ ও টিকাদান কর্মসূচিতে ঘাটতির কারণে বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যসেবার বিকেন্দ্রীকরণ বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। দেশের মানুষের দোরগোড়ায় মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে হলে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের বিকল্প নেই। তিনি জানান, আগামী ১৫ আগস্ট ন্যাশনাল নিউরোসায়েন্স হাসপাতালের এই ইউনিট উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আমি বিশ্বাস করি, প্রধানমন্ত্রী হাসপাতালটি পরিদর্শন করলে এর উন্নয়নে যা যা প্রয়োজন, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবেন।
সভায় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং সবার জন্য সমান স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বিকেন্দ্রীকরণ অত্যন্ত প্রয়োজন। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে অন্তত ৪টি পুরোনো বিভাগীয় শহরে নিউরোসায়েন্স ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানে দক্ষ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক গড়ে তুলতে ন্যাশনাল নিউরোসায়েন্স হাসপাতালের ভূমিকা হবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।