

বিশ্বের ৩৫টি দেশ ও অঞ্চলে আগাম ভিসা ছাড়াই ভ্রমণের সুযোগ পাচ্ছেন বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা। এসব গন্তব্যে বাংলাদেশিরা ভিসামুক্ত, অন-অ্যারাইভাল (ভিসা অন অ্যারাইভাল) অথবা ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন (ইটিএ) সুবিধায় প্রবেশ করতে পারবেন। সর্বশেষ বৈশ্বিক পাসপোর্ট সূচকের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক ভ্রমণে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের জন্য এ সুযোগ উন্মুক্ত রয়েছে।
সর্বশেষ সূচক অনুযায়ী, বাংলাদেশি পাসপোর্টের বৈশ্বিক অবস্থানের উন্নতি হয়েছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স প্রকাশিত হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্স ২০২৬-এর জুলাই সংস্করণে বাংলাদেশ তিন ধাপ এগিয়ে ১০০তম থেকে ৯৭তম স্থানে উঠে এসেছে। একই অবস্থানে রয়েছে উত্তর কোরিয়া।
হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্সের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশি নাগরিকরা ১. বার্বাডোস ২. ভুটান ৩. ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডস ৪. বুরুন্ডি ৫. কম্বোডিয়া ৬. কোমোরো দ্বীপপুঞ্জ ৭. কুক দ্বীপপুঞ্জ ৮. জিবুতি ৯. ডোমিনিকা ১০. ফিজি ১১. গ্রেনাডা ১২. গিনি-বিসাউ ১৩. হাইতি ১৪. জ্যামাইকা ১৫. কেনিয়া ১৬. কিরিবাতি ১৭. মাদাগাস্কার ১৮. মালদ্বীপ ১৯. মাইক্রোনেশিয়া ২০. মন্টসেরাট ২১. নেপাল ২২. নিউ ২৩. রুয়ান্ডা ২৪. সামোয়া ২৫. সেশেলস ২৬. সিয়েরা লিওন ২৭. শ্রীলঙ্কা ২৮. সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস ২৯. সেন্ট ভিনসেন্ট অ্যান্ড দ্য গ্রেনাডিনস ৩০. বাহামাস ৩১. গাম্বিয়া ৩২. তিমুর-লেস্তে ৩৩. ত্রিনিদাদ ও টোবাগো ৩৪. টুভালু ৩৫. ভানুয়াতুতে আগাম ভিসা ছাড়াই ভ্রমণ করতে পারবেন।
এর আগের, অর্থাৎ ২০২৬ সালের সূচকে বাংলাদেশ ১০০তম অবস্থানে ছিল। এবার তিন ধাপ এগিয়ে ৯৭তম স্থানে ওঠায় পাসপোর্টের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা কিছুটা বেড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থান এখনো পিছিয়ে রয়েছে।
হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্স বিশ্বের অন্যতম গ্রহণযোগ্য পাসপোর্ট র্যাংকিং। এতে বিশ্বের ১৯৯টি দেশের পাসপোর্টকে ২২৭টি গন্তব্যের বিপরীতে মূল্যায়ন করা হয়। এই মূল্যায়নে আন্তর্জাতিক এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের (আইএটিএ) এক্সক্লুসিভ টিম্যাটিক (Timatic) ডেটাবেস ব্যবহার করা হয়, যা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সর্বশেষ ভিসানীতির তথ্য সংরক্ষণ করে।
প্রতি মাসে হালনাগাদ হওয়া এই সূচকে একটি পাসপোর্টের শক্তিমত্তা নির্ধারণ করা হয়, সেই পাসপোর্টধারীরা আগাম ভিসা ছাড়া কতটি গন্তব্যে প্রবেশ করতে পারেন তার ভিত্তিতে। এতে ভিসামুক্ত প্রবেশের পাশাপাশি ভিসা অন অ্যারাইভাল এবং ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন (eTA) সুবিধাও বিবেচনায় নেওয়া হয়। কোনো পাসপোর্টধারী যত বেশি দেশে আগাম ভিসা ছাড়া প্রবেশের সুযোগ পান, সেই পাসপোর্টের অবস্থান তত ওপরে থাকে।
হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্সের এই সূচক আন্তর্জাতিক ভ্রমণ, বিনিয়োগ এবং বৈশ্বিক চলাচলের সক্ষমতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে অন্যতম নির্ভরযোগ্য সূচক হিসেবে বিবেচিত হয়।
ভ্রমণের আগে যা মনে রাখবেন
ভিসা ছাড়া বা ভিসা অন অ্যারাইভাল সুবিধা থাকলেও ভ্রমণের আগে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট দেশের সর্বশেষ প্রবেশ নীতিমালা যাচাই করা উচিত। অনেক ক্ষেত্রে কমপক্ষে ৬ মাস মেয়াদি পাসপোর্ট, রিটার্ন টিকিট, হোটেল বুকিং, পর্যাপ্ত আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক ভ্রমণের আগে সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাস বা সরকারি ইমিগ্রেশন ওয়েবসাইট থেকে সর্বশেষ তথ্য জেনে নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।