কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ০২ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৯:৩৪ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

তালাকের পর ফের বিয়ে, যে ব্যাখ্যা দিলেন সাবিকুন নাহার

ইসলামিক বক্তা আবু ত্বহা মুহাম্মদ আদনান ও সাবিকুন নাহার। ছবি : সংগৃহীত
ইসলামিক বক্তা আবু ত্বহা মুহাম্মদ আদনান ও সাবিকুন নাহার। ছবি : সংগৃহীত

আলোচিত ইসলামিক বক্তা আবু ত্বহা মুহাম্মদ আদনান তার ‘প্রাক্তন’ স্ত্রী সাবিকুন নাহারকে আবার বিয়ে করেছেন। এর আগে গত ২১ অক্টোবর তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। ওই বিচ্ছেদের মাসখানেক পরেই তারা আবারও বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন।

মঙ্গলবার (০২ ডিসেম্বর) কালবেলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন সাবিকুন নাহার নিজেই।

তবে এবার তালাকের পর ফের বিয়ে নিয়ে ব্যাখা দিয়েছেন। সাবিকুন নাহার নিজেই তার ফেসবুক পেজে এক পোস্টের কমেন্টে বিষয়টি উল্লেখ করেছেন।

সেই কমেন্টে সাবিকুন নাহার উল্লেখ করেন, ‘আমাদের মাঝে চিরস্থায়ী ৩ তালাক বায়েন হয়নি, স্ত্রী কর্তৃক খুলা তালাক হয়েছিল। যেখানে উভয়ের সম্মতিতে যে কোনো সময় নতুন বিবাহের মাধ্যমে সংসার শুরু করার সুযোগ থাকে! সেটাই হয়েছে।

ওয়ামা আ’লাইনা ইল্লাল বা’লাগ।’

এ ছাড়া বিয়ের বিষয়টি নিয়ে এক ফেসবুক পোস্টে সাবিকুন নাহার উল্লেখ করেন, আলহামদুলিল্লাহ!

দুনিয়াটা ক্ষণস্থায়ী। পুরোদস্তুর ধোঁকা, নিখাঁদ এক প্রতারণা। কতদিনই আর বাঁচব আমরা এই দুনিয়ায়? অনন্ত পরকালের চুলচেরা হিসেব আর চিরস্থায়ী জান্নাতের সাফল্যই যে সব! সেই সাফল্যের ভিখারি হয়েই আজ কথাগুলো লিখছি....... কে কি ভাববে? কে কি বলবে? কি হবে আর কি নাহবে এসবেরও বিন্দুমাত্র পরোয়া নেই...... প্রতিনিয়ত আয়িশা তার বাবাকে খোঁজে! বাবা যাবো! বাবা গাড়ি! বাবা কই? শব্দগুলোর ওজন উঠানোর কোনো পরিমাপক মহাবিশ্বে নেই। উসমানও মাকে পাচ্ছে না। উসমানের সামনে অন্যরা তাদের মায়ের নিকট আম্মু বলে ছুটে যাচ্ছে।

অন্যদিকে নির্লিপ্ত চাহনিতে উসমানের প্রশ্ন তার আম্মুর কাছে কখন নিয়ে যাবে! পোস্টে সাবিকুন নাহার আরও উল্লেখ করেন, যা ঘটে গেছে তার অনিবার্য পরিণতি যে এটাই তা হয়তো আমরা জানতাম, তবে জানা আর প্রতিনিয়ত উপলব্ধি করা যে কখনোই এক নয়! ইলমুল ইয়াক্বিন আর হাক্কুল ইয়াক্বিনে আছে আকাশসম ফারাক। জানা বিষয়টি উপলব্ধি করেছি আমরা।

বেশাক আমাদের ভুল ছিল। কিছু ভুল বুঝেছি, বুঝানোও হয়েছে! উসমানের বাবার প্রতি প্রগাঢ় মুহাব্বাত থেকেই অস্থির হয়েছি, কিছু রাগ, জেদ ও সীমালঙ্ঘনও হয়ে গেছে! সাথে মানুষ ও জিন শয়তান, বিচ্ছেদের জাদু কি না ছিল?

হয়তো এভাবেই আমাদের ভাগ্য লিখা হয়েছিল। তাকদিরের কাছে তো অনেক বড়রাও অসহায় ছিলেন, যেমন গ্রহণের সময় নিরুপায় থাকে চাঁদের আলো। তাই বলে কি চাঁদ কস্মিনকালেও কলংকিত? সে যে আজন্ম আমার চাঁদ-ই ছিল!

দুরাচার শয়তান সঠিক সময়ে উপযুক্ত সিদ্ধান্ত নিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে বারংবার! শুভ্র, স্বচ্ছ, সুন্দরে, চিন্তায় ইবলিসকে তাই ঠাঁই দেইনি আর। ফা লিল্লাহিল হামদ! অতঃপর... আলহামদুলিল্লাহি রব্বিল আলামীন। আলহামদুলিল্লাহি রব্বিল আলামীন। আলহামদুলিল্লাহি রব্বিল আলামীন। উসমান ও আয়িশা তাদের বাবা-মাকে ফিরে পেয়েছে!!!! আল্লাহুম্মা লাকাল হামদ।

আমি আমার মোহাব্বত, আমার আত্মা, সংসার আর চাদরটাকে ফিরে পেয়েছি! সবার সামনে বরাবরই বলে গিয়েছি আমার হৃদয়ের স্পন্দন তুমি। ‘তোমাকেই ভালোবাসি’ Taw Haa Zin Nurain জানি তোমাকে প্রচণ্ড কষ্ট দিয়ে ফেলেছি!

ভুল বুঝেছি! তুমি গায়রতে সম্মানে প্রচণ্ড আঘাত পেয়েছ! যা উদ্দেশ্য ছিল না তা হয়ে গেছে! যা বোঝাতে চাইনি তাই প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে! অজস্র আঘাত আর ক্ষত নিয়ে মুখ বুজে নীরবেই চলে গেছ! প্রতিউত্তরটুকুও করোনি! তোমার অনন্য সবরের প্রতিদানে আরশের রব তোমার দোজাহানের সব হাজত মাকসাদ পূরণ করে দিন।আজ আমি তোমাকে ফিরে পেয়ে কত খুশি তা বলার আমার কোনো ভাষা নেই!

শুধু এটুকুই দোয়া যে, এতকিছুর পরও আমাকে তুমি যেভাবে খুশি করেছ আল-ওয়াদুদ শতগুণ উত্তমরূপে তোমাকে তার দিদার দিয়ে রোজ হাশরে খুশি করে দিন! তোমার রিসেন্ট লেকচারটা শুনেছি।

হ্যাঁ, আমি তোমার জন্য যায়েদ (রা.) হতে পারিনি। তবে আমি জীবন দিয়ে রবের সন্তুষ্টির তরে, দ্বীনের পথে তোমার জন্য নিজেকে প্রমাণ করবই ইনশাআল্লাহ! আর কিছুই বলার নেই।

আল্লাহ চান তো অচিরেই প্রতিটি অযাচিত বিষয় পুরো দুনিয়ার সামনে দীপ্তমান হবে ইনশাআল্লাহ! ألَيْسَ الصُّبْحُ بِقَرِيْب আজ শুধুই- ‘আলহামদুলিল্লাহি রব্বিল আলামীন’ তিনিই সেই রব যিনি মৃত থেকে জীবিত করেন। তিনিই সেই রব যিনি ধ্বংস থেকেও নতুন করে সৃষ্টি করেন। তিনিই সেই রব যিনি অসম্মানের সূরতেও সম্মানিত করেন। তিনিই সেই রব যিনি পরাজয়ের ভেতর থেকেও জয় বের করে আনেন। তিনিই সেই রব যিনি হতাশ হওয়ার পরও রহমত দ্বারা সিক্ত করে দেন। সবার কাছেই আমরা দোয়ার মুহতাজ!

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

নারায়ণগঞ্জ  / বিএনপি নেতাকে মারধর, ঘটনাস্থলেই ৪ যুবদল কর্মী বহিষ্কার

ইসরায়েলি বাহিনীর ওপর দফায় দফায় হামলা চালাচ্ছে লেবাননের যোদ্ধারা

ঈদের ছুটিতে সিলেটের সাদাপাথরে পর্যটকের ঢল

বিশ্বকাপে শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখতে আর্জেন্টিনার ‘গোপন’ পরিকল্পনা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অস্ত্র ও গুলিসহ যুবক গ্রেপ্তার, পলাতক ২

হিটস্ট্রোকের আগে শরীর যেসব সংকেত দেয়

কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে নারী শ্রমিক ধর্ষণের শিকার, গ্রেপ্তার ১

চাঁদাবাজির মামলায় ছাত্রদল নেতা গ্রেপ্তার

টিআইবির বিবৃতি / কালো টাকা বৈধ করার সুযোগ দুর্নীতিকে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়ার শামিল

৬ দফা দাবিতে চমেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের আন্দোলন

১০

হজ শেষে হাজিদের জন্য যে ৩ কাজ জরুরি

১১

বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কলারদের ছাড়া শিল্প চলতে পারে না : রাগীব আলী

১২

আলজাজিরার অনুসন্ধান / নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে দক্ষিণ গাজা, স্যাটেলাইটে উঠে এলো ইসরায়েলের বর্বরতা  

১৩

৫ জুলাই বিয়ে, জানালেন আমির নিজেই

১৪

বিশ্বকাপে ডাক পাওয়ায় পিছিয়ে গেল বিয়ে

১৫

‘আপা’ সম্বোধনে নয়, বাসি মিষ্টি বিক্রির দায়ে বনফুলকে জরিমানা : ইউএনও

১৬

অতিরিক্ত আইজিপি হলেন ৫ ডিআইজি

১৭

ব্রাহ্মণবাড়িয়া / ক্রসিং পারাপারের সময় ট্রেনের ধাক্কায় খাদে মাইক্রোবাস 

১৮

ইসরায়েলকে মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরানো সম্ভব : আইআরজিসি কমান্ডার

১৯

বরিশালে ইয়াবা-গাঁজাসহ কনস্টেবল গ্রেপ্তার

২০
X