

অপেক্ষার সময় শেষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে ভোট দিতে কেন্দ্রে উপস্থিত হতে শুরু করেছেন ভোটাররা। সকাল থেকেই কেন্দ্রের বাইরে দেখা গেছে ভোটারদের লম্বা লাইন। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ বলছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এবারের সংসদ নির্বাচনের ওপর নির্ভর করছে দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের এই নির্বাচনের প্রেক্ষাপটটা ভিন্ন। সেখানে আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনের পতন ও এরপর রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের বিষয়টি রয়েছে। একইসঙ্গে দেড় দশকে পর পর তিনটি বিতর্কিত নির্বাচনের পর এবার মানুষের ভোট দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। মোটাদাগে এই দুটি কারণে এই নির্বাচন রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিশ্লেষকরা বলছেন।
নির্বাচন উপলক্ষে সারা দেশে সেনা-পুলিশসহ সব বাহিনী বেশ সক্রিয় রয়েছে। ভোটে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা বলেছে নির্বাচন কমিশন। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের আঠারো মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার অভিযোগ একটা বড় ইস্যু হয়ে রয়েছে। এমন পটভূমিতে ভোটের নিরাপত্তার প্রশ্নে ভোটারদের পাশাপাশি দলগুলোর মধ্যেও শঙ্কা কাজ করছে। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোটের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ব বেশি বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, শেষপর্যন্ত ভোট শান্তপূর্ণ হবে বলে তারা আশা করছেন। জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানও একইরকম আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। দল দুটির শীর্ষ নেতারা আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোটের ব্যাপারে আশা প্রকাশ করছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক আধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য রাজনৈতিক দলগুলো সতর্ক থাকবে এবং নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা করবে বলে তার প্রত্যাশা।
নির্বাচনের পরে চ্যালেঞ্জ
বিএনপি-জামায়াতসহ বিভিন্ন দলের নেতারা বলছেন, ভোটের পরই বড় চ্যালেঞ্জ। যে দল ক্ষমতায় আসবে, তাদের জন্য আইনশৃঙ্খলা এবং অর্থনীতি প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে। বিশ্লেষকরাও একইভাবে দেখেন পরিস্থিতিটাকে। তারা বলছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গত আঠারো মাসে ব্যর্থ হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। আর অর্থনীতির ক্ষেত্রে ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ স্থবির হয়েছে। যদিও বিধ্বস্ত অর্থনীতিকে সামাল দেওয়ার কথা বলছে সরকার।
কিন্তু বিশ্লেষকরা মনে করেন, আইনশৃঙ্খলা এবং দেশের অর্থনীতির স্থবিরতাই নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকারকে ভোগাতে পারে।
সূত্র: বিবিসি